“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯

আমার নদী

।। অভীককুমার দে।।

এ নদী বইতে জানে
সইতে জানে
ঢেউয়ে কথা কয়।
এ নদী বুকের ঘরে
সুখের জ্বরে
বসতভিটা ক্ষয়।।

এ নদী আঁকাবাঁকা
কষ্ট মাখা
দৃষ্টি পথে চলে।
এ নদীর স্বপ্ন আঁকা
জীবন ফাঁকা
জলে কিংবা জ্বলে।।

গন্তব্যের দিকে

।। অভীককুমার দে।।

যেখানে শব্দ হয়
যখনই শব্দ হয়
পেছনে অদৃশ্য পথ, আমিও যাই শব্দের কাছে।

চোখে চোখ রাখতেই ভাঙাগড়ার খেলা
বুকের স্পন্দনে আকাশের জমা কষ্ট অথবা সুখ
ভাসতে ভাসাতে কেবল ঝরেই যায়
হৃদয়ের  হ্রদ হয়ে জেগে ওঠে।

আপেক্ষিক স্থিরতার পর্দা সরে গেলে
হৃদয় ভেঙে জন্ম নেয় ঝর্ণা, সেও ঝরেই যার,
সৌন্দর্য্যের অবশেষটুকুও ভাঙে;
নদীর চোখ থেকে চোখের নদী
সাগর চেনে।
শুনি, শব্দ এখানেও, অতলের কাছে
শব্দ শুনি আর আমিই যাই।

ঠিকানা

।। অভীককুমার দে।।

তোমার ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতেই কবিতাকে পেয়েছি।

বয়স পনেরোর আমি কবিতার বুকে
কান পেতে শুনেছি শিউলি ফোটা শব্দ
ফুল শরীরে পাপড়ির ঘুম
ভেঙে গেলেই মনের কোথাও রাত দুপুরের পথ
শিশির ভেজা ভোরের কাছাকাছি।
আমি ভাবতাম, এই বুঝি পৌঁছে গেছি,
অথচ গাছের ডালে আমার অতীত গল্প, ফুল নেই,
আলোর কাছে জেনেছি--
তুমি এখন মাটির বুকে জীবনের ছবি আঁকো।

পনেরোর পর চলে গেছে আরও অনেক বছর
কবিতা জানে, শিউলির ঠিকানায় এসেছে নতুন কুঁড়ি।

জলের মানুষ

।। অভীককুমার দে।।

নদীর উপর সাঁকো বাঁধা
চাঁদের আলোয় দেখছে রাত,
জলের ধারায় কাঁপছে ছবি
ভেতর জানে সন্ধিবাত।

শুকিয়ে গেলে নদী আমার
নৌকো রেখো বাঁকে,
মাঝি আমি, 'জলের মানুষ'
বুঝিয়ে বলি কাকে !

শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯

যত্তসব ফেবুতে

            রফিক উদ্দিন লস্কর

ফেবুর খাসতালুকে এখন যত্তসব ওস্তাদি
কে আদি,কে বাদী আর কে নিরপরাধী।
সহজ সরল শব্দ মাঝে থাকে প্রায়ই ভুল
জ্ঞানদার মাথায় গজায় লম্বা লম্বা চুল।
দেখিয়ে দেন কাঁচকলাটা তারই অনুগামী,
যুক্তি তক্ক আছে বেশ আকাশ হতে নামি।
পাঠশালার চৌকাঠ যার হয়না কভু দেখা,
ফেবুতে তার দেখতে পারেন কত্তসব লেখা।
তিলকে সে তাল করে সত্যাসত্য বুঝেনা,
বড়বাবুর চশমাটায় ছোট্ট লেখা দেখেনা।
সবাই হলাম সবার 'বড়' করতে চাই এটা,
সে নিজেই জানেনা, কি লিখেছে ব্যাটা!
অহংকারী কাকের সারি আছে অহর্নিশ,
শব্দে শব্দে ঠেলাঠেলি হলে উনিশ-বিশ।
কেউবা বিলায় সন্দেশ আবার কেউ জ্ঞান,
ভুলের ভুলেও বকধার্মিকের ভাঙেনি ধ্যান।
এমন হলে নিষ্প্রয়োজন ফেবু তুমি নিশ্চয়,
রাহাজানির বহর নিয়ে সময় করো অপচয়।

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯

দিদি

জানিস বল্টু, দিদিটা না
কেমন যেন পাল্টে গেছে
ভালো করে কথা বলে না,
খাওয়া দাওয়ায় নিয়ম নীতি নেই
অফিস আদালতে যায় না ,
ঘরে থাকে বসে, বাসন ধোয়
কাপড় কাচে আর ঘরদোর মোছে ।
দিদিটা না, দিনে দিনে
সত্যি বদলে গেছে ।

গ্রীষ্মকালে শহর জুড়ে
যখন গরম  ভীষণ পড়ে,
দিদি তখন শিকল টেনে
জানালা বন্ধ রাখে।
ভিতর থেকে আইবলেতে
চোখে চোখ রেখে দেখে
কখন গরম গেটটি খুলে
ভিতর বাড়িতে ঢোকে ।
বৃষ্টি এলে আবার দিদি,
অমনি পাল্টে যায় ।
ছাদে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ভিজে
সঙ্গ দিতে চায় ।
গাছকে বলে, দেখ তাকিয়ে
আমিও আছি সঙ্গে
ফুলকে বলে , আনন্দ কর
আমিও তোদের সঙ্গে
পাখিকে বলে তোদের কিরে
বদমাস সব বৃষ্টির চতুরঙ্গে।

শীতের সকালে দিদি অন্য ,
কুঁয়াশাতে পথ খুঁজে খুঁজে ফিরে
কুজ্ঝটিকারা তখনও ঘুমায়
ঘাসফুলেদের ভিড়ে।

দিদিকে জানিস বুঝতে পারি না ;
এই যে যেমন যখন তখন,
যেখানে সেখানে যা মনে তাই বকে,
নিজেই নিজের ছবি আঁকে আর
অবাক চোখে দেখে।
হঠাৎই আবার সব কিছু ছেড়ে
দিদি, কবিতা লিখছে বসে ।
ভাবখানা যেন কবিতাই লিখবে
বাকি সব কিছু মিছে।
বইয়ের পর বই লিখছে,
পাতার পর পাতা,
সাতাশিখানা বই লেখা
চারটিখানি কথা।

এমনিতে দেখ্ , গানের গলা ,
দিদি গান  কত ভালবাসে।
যেখানে যত শিল্পীরা সব
বাড়ি ছুটে ছুটে আসে ।
জলসাতে যায়, বক্তৃতা দেয়
হোক ভুলভাল গাঁজাখুরি,
কারো ঘরে গিয়ে পাত পেড়ে বসে
ভীমরুলে সুড়সুড়ি ।
আসলে জানিস, মনটা দিদির
সত্যি খুব ভালো ।
মেয়েদের জন্যে অনেক করেছে ।
স্কুলে যাবার সাইকেল দিয়েছে,
বিয়ের জন্যে টাকা দিয়েছে
হোক সামান্য, সেও মন্দের ভালো ।
কিন্তু জানিস মাঝে মাঝেই
দিদির কি যেন কি হয়।
দিল্লী নিয়ে চেষ্টা হয়েছে
সাধু সন্ন্যাসীতে ভয়।
যখন দিদি রেগে যায় না
মেজাজটা পঞ্চমে বয়, 
ঔষধ তার মোক্ষম সে এক
বল রামচন্দ্রের জয়।
দিদি তখন শান্ত হবেই
গরাদ ঘরে গল্প হবেই
খাতিরদারি হতেই পারে
সেতো দিদিগিরিরই জয় ।

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯

খুশির ঈদ

রফিক উদ্দিন লস্কর

মাহে রমজান শেষে
নতুন চাঁদের সাথে,
ঈদের খুশি ঘরে ঘরে
উঠবো সবাই প্রাতে।

ধনী-গরিব নেই ব্যবধান
সবার অংশ সমান,
ঈদগাহের জমায়েতে
করবো তার প্রমাণ।

দলে দলে ছুটবো মোরা
নতুন কাপড় পরে,
পরকে যে করবো আপন
কোলাকোলি করে।

ছোট বড় এক ময়দানে
ছাড়িয়ে ভেদাভেদ,
নামাজ সেরে ফিরব সবে
মুছে সকল জেদ।

খাবো সবাই সিন্নি-সেমাই
নামাজ হতে এসে,
খবর নেবো প্রতিবেশির
হাসিখুশিতে ভেসে।

আছেন যতই দীনদুঃখী
আমার মহল্লায়,
সাধ্যমত দেখবো তাদের
যতটুক পারা যায়।

ছড়িয়ে দেবো ঈদের খুশি
সবার ঘরে ঘরে,
সবাই মিলে ঈদের মজা
নেবো পরাণ ভরে।

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯

ঈদ এসেছে

   রফিক উদ্দিন লস্কর

বছর পরে খুশির জোয়ার
লাগছে সবার গায়,
নীল আকাশের বাঁকা চাঁদ
জানান দিয়ে যায়।

ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
রমজানেরই ইতি,
নতুন জামা নতুন কাপড়
মনে ভাব প্রীতি।

মাগো তুমি রেঁধো রাখো
শিন্নী সেমাই ঘরে,
পথের ধারের পথশিশুরা
খাবে পেট ভরে।

বিলিয়ে দেবো সবার মাঝে
যে যতটুক চায়,
কষ্ট ব্যথা ভুলিয়ে যেনো
ঈদের খুশি পায়।

আমার মতো কতই শিশু
আছে এই ভবে,
নিঃস্ব অনাথ জানি তারা
খুশি চায় সবে।

সুখে-দুঃখে জনম জনম
রইবো পাশাপাশি,
ঈদ আনন্দে সবার মুখে
লেগে থাকুক হাসি।