“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

কিছু কথা তোমার জন্য- ৩৫

।। অভীক কুমার দে ।।

এ' আকাশের যেটুকু স্থান খালি
অবতলতায় আকর জমা করি।

ভেতর জানে ভেতর খবর
পিঠ গলিয়ে বুক মেলেছি বৃত্তে

এখনও যন্ত্রণায় ভেতর জ্বলে
আগ্নেয়মুখে রক্ত বেরোয়
তবুও উত্তাপ কমে না ওদের !

ভেবেছি এককগুলো মিলে এক হবে
অথচ আকরগুলো পৃথক হতে চায় !

গোপনে শরীর শুষে আর জলবিন্যাস
মেঘ, এবার মেলে ধরো জলচাদর
আঘাত করো বুকে
ক্ষত ভিজিয়ে বিক্ষত করো
ভাগ হবার কৌশল যত মুছে যাক।

রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৮

রঙ বদল

         
  ।।         রফিক উদ্দিন লস্কর       ।।  
             
আগাছায় পরিপূর্ণ  উর্বর ভূমি
আলো, জল, বৃষ্টি  সেই আগের মতো,
রঙ ও পাল্টে গেছে বেশ ক'দিন থেকে।
ভূস্বামী...
নিজের পথ প্রশস্ত কিন্তু! আর ঐ?...
দীন, মজুরের আর্ত চিৎকার শুনেছ??
আরশির সামনে দাঁড়িয়ে একবার দেখো
নিজের চেহারা আজ কেমন! 
বাইরে তো বেশ!  নিজের সাফাই গাওয়া
ভিতরে ভিতরে চলছে দাবার ঘুটি।
কে কেমন? খোলাসা হোক...
চাপা পড়া শব্দ, বাক্য, বেরিয়ে আসুক
তাতে সহজেই  বুঝে নেবো।
অপরাধী হলে চলে যাবো।
মিথ্যে অপবাদ, অপব্যবহার, কতো সইবো!
মরে গেছে অনুভূতি, দয়া, প্রেম আর সম্প্রীতি।    
=========================
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি (আসাম)        

      
    
        

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

কিছু কথা তোমার জন্য- ৩৪

।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি








মি দেশ ! বেশ আছি,
মাটি আছে খাঁটি নেই,
স্বাস্থ্য আছে সুস্থ নেই,
দৃশ্য আছে দৃষ্টি নেই।
আমি দেশ ! বেশ আছি,
ধর্ম আছে কর্ম নেই,
মন্ত্র আছে যন্ত্র নেই,
অস্ত্র আছে বস্ত্র নেই।
আমি দেশ ! বেশ আছি,
সেবক আছে সেবা নেই,
রীতি আছে নীতি নেই,
ধ্বংস আছে সৃষ্টি নেই।
আমি দেশ ! বেশ আছি,
যাপন আছে জীবন নেই,
খাদক আছে খাদ্য নেই,
লোক আছে মানুষ নেই।
কাঁটাতারে ঘিরে মাটি আমি মাটি, বাকি সব জলে।
আমি দেশ ! বেশ আছি। ভালোই আছি।




বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১৮

ধর্মরোগ

।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি








দুটি উপন্যাস। জীবন ও বাস্তু। দুটোই ধারাবাহিক। অভ্যন্তরীণ মিল বাইরে ভেতরে।
চরিত্র বোঝার আগেই শেষ লাইন শেষ হয় !
উপসর্গগুলো ঘেঁটে দেখি--
এক দেশে ঘুরছে অনেক দেশ। শূন্য সীমানায় লাশের বসতবাড়ি।
কেউ ভাগের দাগ কাটে, কেউ হারায় ভিটা, হারায় হাঁড়িকুড়ি।
ধর্ম তোমার যেমন ওদেরও আছে।
কারো ধর্ম মারণ- মরণ,
কারো ধর্ম মানুষ গড়ে।
মানুষ শব্দের অর্থ ধার্মিক নয়। ধর্ম মানুষের।
বুকের চাতাল ঘুরে দেখো--
 
মানুষেরই ঠাঁই নেই,
মানসে তবে কোন ধর্মরোগ ?


মানুষাংশ

।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি

কদিন চিন্তাশীল তুমি জীব, নিজের ভেতর পশুর ভাগ কমিয়ে জন্ম দিয়েছিলে মানুষ। সেই মানুষ নামক অংশে অদৃশ্য কোমল নদীর প্রবাহ ছিল। কষ্ট আর ভালোবাসার ঋতুতে আঘাত পেলে আহত হতো। ঢেউয়ের পর ঢেউ উঠতো। দুচোখ পথে লাফিয়ে বেরিয়ে এলে ধরা দিতো অন্য মানুষের কাছে। সেই মানুষের ভেতরেও উঠতো ঢেউ। এখন বদলে গেছে মনোজগৎ।
তুমি মানুষের সেই নদী, বয়ে বেয়ে শুকিয়ে নিজ পথেই আত্মঘাতী হলে। বহুদূর এখানে জন্ম নিয়েছে পাথর। অসময়ের বাতাস উষ্ণতা পাথর ভাঙে, ধুলো ওড়ায় জীবনের। মনোঘরে আঁচড় কেটে রেখে যাও পথের চিহ্ন। মনোভূমি বলে-- বদলে গেছে মানুষের ভেতর মানুষাংশ।


পরিচিতি

।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি









তোমাদের পরিচয় ?
--- অর্ধ- পরিচিত তোমাদের নিঃসম্বল নাগরিক।
তোমরা কি স্বদেশী নও ?
--- মনে হয় ছিলাম কোন একদিন, এখন অপূর্ণতা...
কেন ?
--- সেই রাতটা যেই পেরিয়ে হিমতলার দখল পেলে
অমনি কখনও বঙ্গজলে ডুবন্ত আমরা,
কখনও ঘুর- পথে পাকে- চক্রে পাকের বিপাকে।
কোথায় ছিলে এতদিন ?
--- তোমরা ভুলে গেছো, তারপর কত কী ধর্ম- কলা
কৌশলে খাওয়া...
অনুমানের বন্ধনী টপকে খুঁজেছি আত্ম- ধর্মতলা।
এখন তো একই আমরা, কি বলো ?
--- না।
আমরা তোমাদের যৌবনই দেখি,
হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী
সবাই সেজে থাকো,
অথচ গায়ে জল ছোঁয়াতে কত কি চিন্তা !
আমরা এখনও সেই...
চীন- জাপানের প্রলয় আসে প্রেমিকের মতই,
সুখসাগর খুঁজে কত ইন্দিরা পয়েন্ট পালিয়ে যায় গোপনে...
সেই রাতের পর থেকে---
কোথাও বেওয়ারিস দখল- বন্দী নাগরিক নামের শ্রমিক;
এখনও তুষারগিরি পথে ধেয়ে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র আর সন্ত্রাসী
যেখানে বিদূষকের চুক্তি- যুক্তি কালক্রমে সর্বনাশী।
আজকাল কোথায় থাকো ?
--- শুনেছি কোন এক নির্ভীকের মুখে
"প্রাণ বাঁচিয়ে, রাত কাটিয়ে প্রভাত আলোয় দেখি---
সব সীমানায় ফণা তুলে শুয়ে আছে ফণী,
কখনও লা- ওয়ারিশ, কখনও আমদানি---
এপারের এক অস্বীকৃত পাহাড়ীওয়ালা আমি;
ওরা সর্বনাশী, তোরা স্বয়ং- নাশী..."।


কালকথা- ৪৪

।। অভীক কুমার দে ।।
(C)Image:ছবি








বিকেলের মিঠে রোদ আলো ছিটিয়ে ক্লান্ত 
মন্দির জুড়ে 'আমি' ঠাকুর আলোছায়ায়
রূপ দেখেছি রঙের
রঙ দেখেছি রূপে
শরীরে শরীর
মাংসল পাথর।
অসংখ্য শরীর সময়ের কাছে বয়স রাখে,
'আমি' ঠাকুর চোখ বুজে নিরাকার মায়ায়
তাপ দেখি জ্বলনে
জ্বলন দেখি তাপে
অদেখা বাতাস
 
আহারে কাতর।
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে অবাধ কালো শরীর
কালঘর, মর্মাহত আত্মা জড়িয়ে ঘুমায়।


ভেতর খবর

।। অভীক কুমার দে ।।

(C)Image:ছবি









সুখ বলে--
স্বপ্নগুলো পাথর সমান ধাঁধাবনের ধন,
সারাজীবন পাথর ভেঙে গুঁড়ো হলো মন।
শান্তি বলে--
কেউ ঝাড়ে উড়োধুলো কারো জ্বালা চোখের,
কেউ পাড়ে সুখের তারা, রক্ত আমার বুকের।
মন বলে--
আমি দুখের দিন গুণে যাই চোখের ধারাজলে,
কলের তলায় বালির কষ্ট যেমন ধারায় কলে।
জীবন বলে--
পাথর ভেঙে পাথর হলি কলির গায়ে কলি
শোকের মতোই সুখ ভোগ দুখেই সুখী হলি।