“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

কুয়াশালিপি




(সঞ্জয় চক্রবর্তীর এই কবিতাটি পড়তে পেলাম ব্যাতিক্রম কাগজের শারদ সংখ্যা, ২০১২তে। ভালো লাগল, তুলে দিলাম.)
গৃহ হইতে বাহির হইয়া যে যাত্রার
আরম্ভ গন্তব্যহীন পথে, কিছুদূর চলিয়া গৃহে
ফিরিবার পথটি আর খুঁজিয়া পাই নাকো।
কী করিয়া ফিরি গৃহে, যেখানে আসিয়া দাঁড়াইলাম
সেই ভূমিশয্যাই মোর নবগৃহ হউক তবে।

একদিন বের হলাম ঘর হরতে বাহির।
যে পথ আশৈশব ছিল না আমার
যে পথ ছিল অযুত ভয়ের গেরস্থালি, সেই পথে।
এ আমারই দেশ তো, ফুরিয়ে যাওয়ার মাটি আমারই?
এই অরণ্যানী , পাহাড় শ্রেণি, বিস্তির্ণ খেত, সবুজের
ফোলা ফোলা আদর, মানুষের জলচাহনি, বসতবাড়ি,
গান , ফসল , নদীর ভাটিয়ালি, আমারই তো নির্ভয়ের?

আমার পৃথিবীর পথে পথে কার্তিকে হেমন্তে
আমি শুনিয়াছি বাতাসে চা-গাছের মর্মর
নক্ষত্রের রাতে পাহাড়ের কোলে ঘুমায়ে পড়িব একদিন
লোহিতের জল এসে গান হয়ে ধুয়ে দেবে চোখ
যাইব এখন, অঘ্রানের ঘ্রাণে, আসিব আবার ফিরে
নীল পাহাড়ের দেশে, লাল নদীটির তীরে।

পেরিয়ে যাই জাগিরোড , শুঁটকির গন্ধ অবিকল সিলেটের
শ্রীহট্টের খোঁজ কেন অবিরাম, অপার বাংলায়?
এ বাংলাতো শ্রীহট্টীয় নয় শুধু যাপনের রাজছত্রে
ঢাকার রক্তের সঙ্গে বার্তালাপ সেরে নেয় ময়মন সিংহের ঘাম।


সোনাকুচি ছাড়িয়ে ঐ যে জীর্ণ গ্রামটি দাঁড়িয়ে নিপাট, সহজ সরল
তার যে অবোধ বালক, রুগ্ন বালিকা, শীর্ণ চাবিটি
তারা এই পৃথিবীর কোন ভাষায় চোখের জলকে প্রবাহিত করে না।
ঘামের কোন বর্ণমালা নেই দেশে দেশে একই লিপি তার,
নোনতাশোনিতশ্রম।

নৈঃশব্দ্যেই  প্রেম আসে বক্ষমাঝে
হেমন্তের অরণ্যে অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি
বন্দি জেগে থাকে শহরে মিথ্যাচারে
কৃষ্ণচূড়ায় ফোটেনা ফুল, স্খলিত পদ্মের মতো রাত
চারদিকে খুলে গেছে দ্বার, ধর্ম আর নেই
স্পর্শ করিনি তো চাঁদের করতল স্বচ্ছন্দ গানে
যেতে পারি, যে কোন দিকে, চলে যাই দুর্বোধ্য স্বর্গের টানে

বুড়াপাহাড়ের দিকে যাব, সে কী অশনি প্রেতটিলা কোনও
যেখানে যুবকেরা টুপটাপ হারায়, হারায় রূপকথার গল্পগাছায়
পুর্বপুরুষেরা এদিক মাড়ইয় নি কখনো, তাঁদের ছিল
নিজ স্ববৃত্তে দিনযাপন, খুবই সংকোচের, দ্বিধার , ভয়ের,
শুধু এদিকে কেন, কোনদিকেই তাঁরা মাড়াননি
ভীতেমাটির বহির্ব্লয়ে যে নক্ষত্রগণ্ডিটি
তার বাইরেই ছিল তাহাদের আঁধারের সংকেত
আনন্দজোছনা যত, সবই ওই বলয়ে।

ভাণ্ড খুলে দ্যাখ,
কী কান্ড জগৎভূমে
চক্ষু মেলে দ্যাখ
মুণ্ড খাস না
কাঁচা কাঁচাই
ধড়টি রাখ তুলে
হৃদ ভেসে যায় লোহিত জলে
দণ্ড দিতে যাই ভুলে
এই যে অগ্নিধারা লুপ্ত
তাকে নিশিঘুম দাও
দাও জল মাটি প্রণয়
আগুনকে নিওনা শিরে
গোঁসাই, নদে চিৎ হয়ে ভাসো
ছিদ্রহীন জ্যান্ত শরীরে।

দিন পাল্টায়, বাবা মারা যান, বড়পিসি থেকে ছোটপিসিও
সব ছড়ানো নদী এখন গল্পগুজব করে একতি বইয়ের অন্দরে
সকল অশ্রু আর রক্তকাহিনি পার করে চলে এলাম কোহরা
এই যে কুয়াশা, জড়ায় , সে কোন বিহ্বল আকাশ থেকে?
আমাদেরই আকাশ সে তো জটিলাবর্তে ছিল কি ছিল না
ছিলা ধরে মারো টান আনন্দযজ্ঞ টান টান।
এই সহজ সরল অরণ্যে কুয়াশালিপি লিখে ফ্যালে
জগতানন্দ কাব্যের সকল অধ্যায়

ঠোঁটের পাশের তিলটি কি গয়না হতে পারে?
হতে হতে তার নামকরণটি একটি গভীর শ্বাস
শ্বাসের সেই তরঙ্গ জীবনমুখী বেশ কয়েকফোটা।
দিক নির্ণয়ে তার প্রেমিক বহুল প্রেমিকা বটে
তবে এখন বর্ষণ নয়, নয় তার দণ্ডপ্রহার
জ্যোস্নার ফোঁটা ফোঁটা কাম-আঙ্গিকে
এক নেশার জল রাত্রিব্যাপী, শরীরের লণ্ঠন
জ্বালিয়ে আনন্দ আকাশে এক সশব্দ কামড়।

খুব আদরে সোহাগে শঙ্খ বাজে সুকল্যাণ
অতঃপর গ্লাসের টুংটাং, রামপাখিটি তরলে ডুবিয়ে
চুমুকের এক শব্দময় কামড়,
প্রত্যাখ্যান নয়, সবই গ্রহণ এই তারামণ্ডলে
বিছানায় সবুজ ঘাস, নরম,
শঙ্খ লাগে রাত্রভর।

ভয় নেই আর,বালক
দুরু দুরু বক্ষে আর
দাঁড়ানো নেই কোন বৃক্ষের আড়ালে
যাও তোমারই দেশ
যেখানে খুশি।


মিছিল ও ছায়া


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

লোকটি প্রতিদিন চা বানায়
কথা বলে
মাঝে মাঝে মিছিলে যায়।

মিছিলে অন্যদের মতো সেও
শ্লোগানে গলা তুলে
ছোপ ছোপ নীল দাগানো সার্ট যখন
শরীরের লেপ্টে যায়,
তখন সে ছায়া খোঁজে।

মাঠ জুড়ে ছায়ার আকাল;
সে হাঁটতে থাকে
মাঠ পেরোয়।

গাছের ছায়াকে 
সে জড়িয়ে ধরে
ভাবে, মানুষ তো নিজেই গাছ হতে পারে;
পারে ছায়া দিতে।

ছায়া পেলেই মানুষ
নিজেকে ছাপিয়ে
অন্যের কথাও ভাবে,
তখনই সে চা খায়
মিছিলেও যায়।

মাউস


।।লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

মাউসের তারটা দেখা যাচ্ছিলো শুধু
বাকিটা ব্যারিকেডের অন্তরালে।
অনেক হিজিবিজি কেটে
মানুষগুলোকে আড়াল করি।
আমিও আড়াল চাই
হাঁটা, দৌড়, কসরতের কাহিনী
সব আড়ালের জন্যই।
মাউস স্পর্শ করি,
মনে মনে বলি,
তোর আড়াল তো আমি।
সে বলে, চাই না তোমার আড়াল হতে
এক মুঠো সোহাগের জন্যই তো বেঁচে থাকা,
আড়াল আমাকে ব্যাভিচারি করেছে।
আমি আড়াল চাই না
তোমাকে তো নয়ই।

বর্ষা


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।





রীরে মেখেছি বর্ষা
তবুও অচেনা।
কিছু না বলে
হাঁটা শুরু করে।
আমি মুখ ফেরাই,
তখনই 
আমার দু'চোখে হাতের স্পর্শ।
শোনা যায় বর্ষার গান;
আবারো জলভরা আবেশ,
তাই মেঘ নাচে,
পাল্টায় রঙ,
কখনও সাদা,
কখনও কাজল রেখা।
যায় বর্ষা মেঘের কাছে,
কাজল আঁকা হয়।
কিছুই বলে না বর্ষা,
এমনকি মেঘের খুনসুটিতেও না।

ভনিতা


।।লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।









ব্দের কোন ভনিতা নেই,
ভনিতা মানুষের।
ঘুমটুকু বিয়োগ করলে যা থাকে,
তাতে ভনিতা কত শতাংশ,
এই নিয়ে গবেষণার অবকাশ আছে,
যেমন আছে ভনিতার রকমফের নিয়ে।
এখন আবার ভনিতার প্রতিযোগিতা;
খবরটি কানে এলো,
কানের আর দোষ কি,
ভনিতা তো আর কানের সংজ্ঞা জানে না।
কান জানে শব্দকে,
শব্দ জানে কথাকে,
আর কথা জানে মনকে।
এইভাবে ভনিতা হয়ে উঠে
শব্দের আবেশ
মনের খুনসুটি
আর কানের মাধুর্য।

মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৩

১৯ শে মে ভাষা শহিদ দিবস পালন করুন।

( উত্তর-পুর্বাঞ্চলের মানুষের কাছে ইমেজ ফরম্যাটটা একটু বেশী জনপ্রিয় বলেই মনে হয়। ১৯ শে মে নিয়ে তাই একটা  ফেইসবুক কভার করলাম। ) 

হারাঙ্গাজাও



(দেবাশিস তরফদারের 'মেঘ ও রৌদ্র' পড়ছিলাম এক বিশেষ দরকারে। তিনি শুধু একক কবি নন। দেখা যাবে পূর্ববঙ্গ গীতিকা হয়ে হেমাঙ্গ বিশ্বাস, অশোক বিজয় রাহা, দেবেন্দ্রকুমার পাল চৌধুরী পেরিয়ে আমাদের কবিতার পরম্পরার একজন সার্থক ধারাবাহক। কেমন হবে আমাদের কবিতার ভাব এবং ভাষা, দেবাশিস তরফদার না পড়লে বোঝাই যায় না। হারাঙ্গাজাও এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পড়া। ভাবলাম, কেননা পড়িয়ে ফেলি আপনাদেরও। তিনি আন্তর্জালে লিখতে পারেন না, বাংলা--তাঁর হয়ে তাই নিজেই তুলে দিলাম।বানান তাঁর মতোই রেখে দিয়েছি।)






গৌহাটী এখান থেকে অনেক দূর
কলকাতার কথা আমরা ভাবতেই পারি না
চারদিকে গোল হয়ে পাহাড়
মাঝখানে একটা বাটির মতো ছোট আমাদের এই শহর—
তোমাদের মনে হতে পারে----এই কি শহর
পাঁচমিনিট হাঁটলেই ফুরিয়ে যায়---
আমাদের মনে হয় না
আমাদের কল্পনায় হারাঙ্গাজাও বড় হতেই থাকে—
বেলুন যেমন বড় হয় আমাদের দমে
শহর বড় হয় মনে।

কলকাতার পাড়ার নাম গল্পের বইতে থাকে—
শ্যামবাজার ঢাকুরিয়া ভবানীপুর
অনেক দূর দূর নাকি পাড়াগুলি
আমার মনে হয় আমাদেরও অনেক পাড়া
বাড়ি থেকে ইস্টেশন যেতে
আমি থেমে থেমে যাই, থমকে থমকে দেখি
পথ কেমন অনেক দিকে চ’লে গেছে
একটা পথ মন্দিরের দিকে গেছে
ঐ পথটার নাম রেখেছি মন্দিরটিলা
আরেকটা ছোট পথ ব্রিজের দিকে---সে পথটাকে
মনে মনে জাটিঙ্গা রোড বলি

পথের প্রতিটি ঘটনাই ইস্টেশন
ইস্টেশন মানে যেখানে যেখানে থমকে দাঁড়াই
এই ব্রিজটাও তেমন একটা ইস্টেশন
যার নীচে কালো পাথর আর রূপালী ফেনা মেশানো একটা নদী
জাটিঙ্গা নদী---
রাতের বেলা পাঁউরুটি কিনে ফেরার পথে
এই জায়গাটাতে থমকে দাঁড়াই
নীচে চকচক করছে জল
ওপরে চকচক করছে তারা

ব্রিজ পেরুলেই বাজার
সে যেন নতুন একটি পাড়া—ভাবতে ক্ষতি কী?
আমাদের বাজারে কম কি জিনিস আছে?
একটা দোকানে ক্রীম বান পাওয়া যায়
গোল গোল , নরম নরম, মাখন মাখন গন্ধ
একটা দোকানে সারাদিন গান বাজে
মিষ্টি খেতে খেতে শুনে যাও গান
আজকাল অনেক উন্নতি হয়েছে বাজারের
ব্যাডমিন্টনের র‍্যাকেট পাওয়া যায়।

বাজারের পর কালীবাড়ি—তার পরেই ইস্টেশন
দিনে দু’বার গাড়ি আসে, দশমিনিট জিরায়
শিলচরের লোক নিয়ে গৌহাটি যায়
গৌহাটির লোক নিয়ে শিলচরে ফেরে
আর মালগাড়ির ত কথাই নাই
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তাদের শব্দ শুনি সারারাত
ইস্টেশন আশ্চর্য এক পাড়া
ঘুগনি, মাংস , আনারস
টিকেটঘর, ঘন্টাঘর
ভোরবেলা এস একদিন সেখানে
দেখবে সারি সারি কাঠের বাকসে
সারি সারি ঘুমন্ত লোক—গাছের ডালে রাতের পাখীর মত
যেই না দিল টিং টিং ঘণ্টা
অমনি জীয়ন কাটিতে সব আলো
পাখীগুলি জেগে উঠল চীৎকারে
কাঠের বাকস থেকে বেরিয়ে পড়ল রুটি, কলা , ডিমসেদ্ধ

শুনেছি গঙ্গার ওপর দিয়ে জাহাজ চলে
আমাদের জাটিঙ্গা নদীতে শীতকালে হাঁটুও ডোবে না
তাতে কী?
একটু খোঁজাখুঁজি করলে ঠিক পেয়ে যাবে বুক জল
বড় বড় দুটো পাথরের মাঝখানে
চেষ্টা করলে ডুবও দেওয়া যায়, আমি দেখেছি
জল ছিটানো যায় ঘন্টার পর ঘন্টা
ভীড় ক’রে ছেলেমেয়েরা চান করতে আসে
তাদের চান ফুরাতেই চায় না

বিশ্বাস কর’, আমাদের বেড়াবার জায়গা প্রচুর
শুক্রবারে বিকেলে এস, নিয়ে যাব শহীদ বাবার মাজারে
কতলোক মোমবাতি জ্বালাতে আসে
মুরগী কাটে, পায়েস ভোগ দেয়
কলাপাতায় গরম গরম পায়েস
রবিবারে নিয়ে যাবো ইস্টেশনের ওপারে
যেখানে সিঁড়ি উঠে গেছে পাহাড়ে, আকাশের দিকে
বনের মধ্যে দিয়ে সিঁড়ি , সিঁড়ি উঠে গেছে বোলমোল বস্তিতে
যেখানে হ্মারদের গীর্জাঘর
ছোট্ট ইস্কুলঘরের মত
সেখানে থাংময়ী খুড়ীর বাড়ী
নিকোনো উঠান---লেপের তুলো রোদে দিয়েছে
বসার ঘরে লাস্ট সাপারের ছবি
আর একটা কাঁথায় সেলাই করে লেখা
‘যীশু এবাড়ির অদৃশ্য অতিথি
প্রতিটি খাবার টেবিলে তিনি আছেন
আমাদের সব কথা আড়ি পেতে শুনছেন’

শুধুই কি বোলমোল বস্তি
আরো কত পাহাড়ী বস্তি আছে
যেমন দলৈচুঙা---সে সব জায়গায় ত এখনও যাওয়াই হয় নি
কখনো কখনো যাই মন্দিরটিলায়
সে যেন এক হিমালয়---আমার মনে
কত পাহাড় বেয়ে , জংলী লতা ছিঁড়তে ছিঁড়তে
উঠি আমি
নিঝুম মন্দিরটি –জলের কল আছে
আর আছে ঠাণ্ডা বারান্দা—শুয়ে থাকি সেখানে

আমাদের এই শহরে সারাবছরেই কিছু না কিছু লেগেই আছে
দুর্গাপুজায় ভীড় হয়
তেমনি বড়দিন ধুম হৈ হৈ
নিউ-ইয়ার অবধি লাল তারা জ্বলে পাহাড়ে
ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে এলে দেখবে পাহাড়ে চক্রদিয়ে আগুন
জুম চাষের আগুন
নামঘরে কীর্তন, নেপালীদের ভাইফোঁটা
কিছু না কিছু সবসময়েই আছে

সব আছে
ব্যাংকও আছে একটা---টাকা রাখার
আছে দু-দুজন ডাক্তার
আটটা বেড আছে হাসপাতালে
বাঙলা ইস্কুল, ইংরাজী ইস্কুল, হিন্দী মাস্টার
আমাদের হেডমিস্ট্রেস দিদিমণির নাম হে-সিন্থিয়া
তাঁকে রাস্তায় দেখলে গুড মর্নিং বলি
আমাদের ইস্কুলঘরের জানালায় কাঁচ নেই
এবার নাকি তাও লাগিয়ে দেবে

কত মজার খবর হয় আমাদের
একদিন একটা অটোর সঙ্গে চিতাবাঘের ছানার ধাক্কা  লাগল
মরা ছানাটা ছিল ফুটফুটে
একদিন আমাদের ইংরাজী স্যার
মদ খেয়ে রাস্তায় শুয়ে রইলেন

গৌহাটী এখান থেকে অনেক দূর
ট্রেন বদল করতে হয়
শিলচর থেকে খবরের কাগজ আসে
সেখানে মাঝে মাঝে কলকাতার খবরো থাকে
কলকাতা বড় শহর
ছোট্ট বাটির মত হারাঙ্গাজাও, পাহাড়ের কোলে

তোমরা ভাব—পাঁচ মিনিটের শহর
আমি জানি হারাঙ্গাজাওয়ের কথা
পাঁচ ঘণ্টা বলেও শেষ করতে পারব না।




যে কোন মোবাইল সেটেই এবার থেকে বাংলা লিখুন

                                                                                                ।। সঞ্জীব দাস।।
পনার মোবাইলে বাংলা না থাকলেও আপনাকে এখন নিরাশ হতে হবে না কারণ আপনার যে কোন মোবাইল হোক না কেন আপনি এখন থেকে আন্তর্জালে বাংলা ব্যবহার করতে পারবেন।মোবাইলে বাংলা পড়তে বা দেখতে পারবেন, এজন্য আপনাকে অবশ্যই মোবাইলে অপেরা মিনি ব্রাউজারটি ব্যাবহার করতে হবে। অপেরা মিনি ব্রাউজার দিয়ে মোবাইলে বাংলা পড়ার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করুনঃ
১।সর্বপ্রথমে অপেরা মিনি না থাকলে এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন। 
২।তারপর অপেরা মিনি খুলে এড্রেস বার যেটাকে ইউ আর এল বার ও বলা হয় সেটাতে গিয়ে opera:config ক্লিক করে কনফিগ পেজটি লোড করুন। আপনি যদি অপেরা মিনি ৬ ইউজ করে থাকেন তাহলে শুধু config: লিখে কনফিগ পেজটি লোড করুন। 
৩। কনফিগ পেজটি খুলার পর একদম নিচের সেটিংস"use bitmap for complex scripts" টি yes/no বক্স থেকে "yes" সিলেক্ট করুন। 
৪। এখন কনফিগারেশন সেটিংস টি সেভ করুন। এখন থেকে আপনি মোবাইল থেকে অপেরা মিনিবাউজারদিয়ে বাংলা পড়তে পারবেন কিন্ত্ত শুধু অপেরা মিনি দিয়েই পারবেন বাংলা পড়তে। 
             ** অবশ্যই মনে রাখবেন এভাবে বাংলা আপনার মোবাইলে bitmap image আকারে লোড হবে, এর ফলে আপনার ব্রাউজার স্বাভাবিক ইংরেজি টেক্সট এর চাইতে বাংলা দেখানোর জন্য বেশি ডাটা ইউজ করবে। মোবাইল দিয়ে বাংলা লেখার জন্য নিম্নলিখিত প্রদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন:- আপনার সিমবিয়ান সেটে বাংলা লিখা এবং দেখার জন্য: প্রথমে সোলেমানলিপি ডাউনলোড করুন এখান থেকে http://­download4mobi.com/­solaiman-lipi এখন আপনাকে আপনার মোবাইলের ফন্ট ব্যবহারের কিছু কোড জানতে হবে, এটা জানার জন্য আপনার মোবাইলে কোন ফাইল ব্রাউজার দিয়ে সেগুলো বের করতে হবে, নকিয়ার ইনবিল্ড ব্রাউজার দিয়ে এটা করা যায় না। আপনি Y!browser নামিয়ে নিতে পারেন http://­download4mobi.com/­x-plore-file-manager এরপর xplore এ ঢুকুন।এখানে (C, D, E, Y, Z) ড্রাইভ দেখতে পাবেন, Z ড্রাইভে ঢুকুন > resource > Fonts > এখানে আপনি .ttf এক্সটেনশনের ৪টি ফন্ট দেখতে পাবেন, এই নামগুলো লিখে ফেলুন কেননা এই নাম দিয়েই আপনার ফন্টটিকে মোবাইলে সেভ করতে হবে । 
                এবার আপনি পিসিতে সোলেমানলিপি ফন্টের চারটি কপি করে ঐ চার নামে আলাদা চারটি ফন্ট হিসেবে রিনেম করে নিন। আপনার মোবাইলটিকে ডাটাকেবল দিয়ে পিসির সাথে যুক্ত করুন অথবা মেমরি কার্ড রিডারের মাধ্যমে মেমোরি কার্ডটি পিসিতে সংযুক্ত করুন। মেমরি কার্ডে আপনি resource নামের একটি ফোল্ডার পাবেন (না পেলে হিডেন শোয়িং অন করে নিন), সেখানে Fonts নামের একটি নতুন ফোল্ডার তৈরি করুন। এই ফোল্ডারে আপনার পিসিতে আগে থেকেই তৈরি করা চারটি ফন্ট কপি করে পেস্ট করুন। এবার মেমোরি কার্ডটি মোবাইলে লাগিয়ে অথবা ডাটা কেবল সরিয়ে আপনার মোবাইলটি অফ করে অন করুন। 
               এখন আপনার ফন্টটি পরিবর্তন হয়ে গেছে, এভাবে বাংলা ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কিছু টিপস: * অপেরা মিনিতে ব্যবহারের সময়ে অপেরার ফন্টটি (Large বাExtra large) করে নিতে হবে। * মোবাইলে ব্যবহারের সময়ে মোবাইলের ফন্টটি লার্জ করে নিলে দেখতে সমস্যা কম হয় (বড় স্ক্রীণের মোবাইলে সোলেমান লিপি ফন্টটি ব্যবহারে সমস্যা কম হয়, কিন্তু যদি ছোট স্ক্রীনের হয়,তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হতে পারে)। {menu > Tools > settings > General > Personalisation > Display> Font Size> Large} এবার বাংলা লিখার জন্য ডাউনলোড করুন http://joybd.com/­opera-mini-bangla-wri­teable/ ওয়েবসাইটে বাংলা কি ম্যাপিং আছে । সেটি ফলো করে এখন আপনি বাংলা লিখতেও পারবেন। সিম্বিয়ান মোবাইলের জন্য যেসব লিংক কাজ করছে না , সেগুলোর বিকল্প লিংকঃ সোলেমানলিপি ফন্টের জন্য http://­www.omicronlab.com/­download/fonts/­SolaimanLipi_20-04-07­.ttf আর Y!Browser এর জন্য লিংক http://­gallery.mobile9.com/­f/1489318/সোলেমান লিপি ফন্ট কাজ না করলে এখানকার অন্য ফন্টগুলো ব্যবহার করুন , http://­www.omicronlab.com/­bangla-fonts.html        
সমস্ত শুভেচ্ছা রইল। উপভোগ করুন বাংলা ভাষা আপনার মোবাইলে।