“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৭

বিস্ফোরণ


।। সুরজিৎ মন্ডল।।

















মানবিকতার অবমাননায়,
হয়েছ তুমি স্মৃতি,
অসমাপ্ত মানব জীবনে,
টানলে তুমি ইতি।
এটা তো ছিলনা অন্ত তোমার,
তুমি প্রাণে ছিল জীবন্ত।
আজ ঘরেতে এসেছ ফিরে,
তুমি প্রাণহীন অজীবন্ত।
পথ চেয়ে ছিল মাতৃ তোমার,
প্রিয়জন কত কেহ।
আশা সব তোর পুড়ে হোল ছাই,
ছাই হোল তোর দেহ!
নির্দোষী তুমি পেয়েছ শাস্তি,
দোষটা ছিল কার?
অমানবিক হত্যালীলার
হয়েছ তুমি শিকার।
চির বিরহের দুঃখ নিয়ে বুকে,
নীরবে সয়েছ ক্ষতি!
অসমাপ্ত মানব জীবনে
টানল তারা ইতি.....

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

সিগারেট

।। সুরজিৎ মন্ডল।।
 
(C)Image:ছবি

















তোমার সিগারেটে দেওয়া সুখটান,
কেড়েছে আমার বুকের সুখ।
তোমার সিগারেটের জ্বলন্ত আঙার,
তোমার চিতাস্বরূপ।
সিগারেট ও তুমি হবে নিঃশেষ,
তোমায় দেবে উপহার
খুব দামী কিছু রোগ; কাফ, স্টোমা, আলসার বা ক্যানসার।
তুমি ও সিগারেট দুজনেই পুড়ছ,
শেষ করেছ একে অপরকে।
এতো আপন করছ কেন?
সর্বনাশী ঝড়কে।
তোমার কোমল ঠোঁটের স্পর্শের জন্য
আমি দিতে পারতাম প্রাণ,
কিন্তু ওই ঠোঁটেই প্রতিনিয়ত
দিচ্ছ তুমি মৃত্যুকে স্থান।
কেন, আমার প্রতি এত বেশি
নিষ্ঠুর তমি? কেন অনির্বাণ?
যে বুকে আশ্রয় দাও নি আমায়,
সেই বুকে রোজ কিছু ধুঁয়া
 কী  করে স্থান পায়?
অনির্বাণ যে সিগারেটে মত্ত হয়ে
আমায় ভুলতে চাও!
সেই সিগারেটটুকুতে কী শান্তি তুমি পাও?
আমাকে ভোলার জন্য সিগারেট
যেদিন তুললে মুখে, সেদিন
মৃত্যুকে আমন্ত্রণ দিলে বুকে।
তোমার আর সিগারেটের ধোঁয়ার
তুমি যে করেছ,
এক কৃত্রিম ভালোবাসার সৃষ্টি,
এই ভালোবাসা  "কাল তোমার',
প্রিয়জনের চোখে নামাবে বৃষ্টি।
সকাল, দুপুর, রাতে বাড়াচ্ছো সুখ,
কেন এত সুখী হোতে চাও?
তোমার ধ্বংস, আমার ধ্বংস।
অনির্বাণ সিগারেট ছেড়ে দাও।
          

গলিত সময়ের স্বপ্ন

  ।।  পার্থ সারথি দত্ত।।
(C)Image:ছবি

 

















  গোলাপের কাঁটার আঘাতে
     ক্ষত বিক্ষত হ্দয়
     অবক্ষয়ের বন্যায় ভাসে
     অজস্র জীবন
   
     দালির ক্যানভাসে আঁকা
     গলিত সময়ের স্বপ্ন দেখে
     লাস ঘরে ফেলে রাখা
     সারি সারি নিথর মৃতদেহ়...

ফুটপাতের পাগলি

            ।। রফিক উদ্দিন লস্কর।।


(C)Imageঃছবি














কাশপানে চেয়ে দেখো  উড়ছে কালো মেঘ,
সে মাটির সাথে মিলবে এবার সবই করে ত্যাগ।
আকাশেরই ভাব দেখে ফিরছে ভয়ে সবাই ঘরে,
ঝড় বাতাসে বাজি রেখে পাখিরাও নীড়ে ফিরে।
ঝমঝমিয়ে আকাশ থেকে নামে শিলাবৃষ্টি ধারা,
হাটের পাগলিটা রইছে দেখি ফুটপাতেতে খাড়া।
গায়ে মোড়া ছিন্ন চাদর জলে ভিজে একাকার,
নিকষ রাতে বিদ্যুৎ চমকায় আশ্রয় নেই তার।
গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলে হোটেলের পাশে,
পেটের খিদা হয়েছে প্রবল কিছু খাবার আশে।
গুড় গুড় আকাশ,চারিদিকে শুধু জল আর জল,
খাবারের তাগিদে বেরিয়ে পড়েছে শিয়ালের দল।
পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে জলমগ্ন রাজপথে,
চোরের দল বেরিয়ে পড়ে হয়তো বা মাঝরাতে।
পেটের খিদায় আর ঠান্ডায় পাগলিটা কাতরায়,
আধারের সাথে বলছে কথা হাতের ইশারায়।
নাক ডাকিয়ে শয়ন করে  বাবুরা সোনার খাটে,
চাষির মনে মহানন্দ এবার ফসল ফলবে মাঠে।
শুধু পাগলিটার নেই মনে কোন আশার সঞ্চার,
রোদে মেঘে ফুটপাতে সে বোবা কিংবা চিৎকার।
সে কারো মা,কারো বোন, কারো বিবি নিশ্চয়,
ফুটপাতে দিনরাত, কেউ খুঁজেনি তার পরিচয়।

বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭

অজানা ব্যথা

(C)Image:ছবি
















।।  রফিক উদ্দিন লস্কর ।।

ঞ্চল মন তাই সারা দিন ঘুরে ভাবনার জগতে,
উদাস মনে নির্বাক হয়ে, চলছে সে কোন মতে।
মনন যুদ্ধ চলে সারা বেলা, তবুও হয়নি কিছু,
অজানা ব্যথা,কত কিছু কথা থাকে পিছু পিছু।
কত বিরহে দিন কাটে হায়! ভাবি বসে একান্তে,
রয়েছি পড়ে নীলাকাশের নীচে,ধরণীর ঐ প্রান্তে।
কেউ দেখেনি, কেউ শুনেনি হৃদয়ের আর্তনাদ,
কত আর সহি এতো জ্বালাতন, ধৈর্য মানে না বাঁধ।
জন্ম থেকে ভাসিয়ে চলেছি শুধু বেদনার সাগরে,
এখনি পাইনি কূল, হয়েছে পথ ভূল রয়েছি পড়ে।
লোহিত সাগরে তরী ডুবুডুবু, বইছে পাগলা পবন,
দিকভ্রান্ত মাঝি,তাকিয়ে দেখে সামনে মহাপ্লাবন।
আঁধার গ্রাসিছে আলো, এখনো বাকি অনেক পথ,
সাগর গর্জনে দুরুদুরু বুক, ভাঙামন হারায় হিম্মৎ।
সুদূরবিস্তৃত পথ, পাড়ি দিতে হবে একাকী এবে,
চুরমার করে শত ঢেউ তীরের দর্শন মিলবে কবে!

                         **********
২৭/০৪/২০১৭ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি(আসাম)

সন্ধিসুধা

(C)Image:ছবি

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।

স্কুলপাঠ্য বইয়ে  সন্ধিবিচ্ছেদ অধ্যায়ে 'গো' বিষয়ক দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ করতে প্রায়ই ভুল করতাম ৷ গো + অক্ষ = গবাক্ষ এবং গো + এষণা = গবেষণা ৷  গবাক্ষ মানে জানলা ৷ গবেষণা মানে কোনো বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান ৷ অর্থ যাই দাঁড়াক আমার সমস্যা ছিল সন্ধি বিচ্ছেদ নিয়ে ৷ তবে এই অর্থসূত্র ধরেই বাবা আমাকে এই দুটো শব্দের ব্যাপারে আমার সন্ধিবাতের বেদনার উপশমের উপায় বাৎলে দিয়েছিলেন ৷ গবাক্ষ শব্দের উৎস 'গো' 'অক্ষ' মানে গোরুর চোখ  থেকে ৷ আর 'গো' 'এষণা' অর্থাৎ গবেষণাকর্ম এতোই কষ্টকর যেটা ঠাডা দুপুরে গোরু খোঁজার মতো কষ্টকর ৷ প্রসঙ্গক্রমে একটা গল্পও শুনিয়েছিলেন ৷ গল্পটা এরকম - এক গৃহস্থ তার দুধেল গাভিটি হারিয়ে ভাদ্রমাসের রোদের মধ্যে বনবাদাড়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে এলেন ৷ দাওয়ায় বসে কাতরস্বরে বউকে ফরমায়েশ দিলেন, এক ঘটি খাওয়ার জল দাও না গো, মা! রান্নাঘর থেকে গিন্নি গজগজিয়ে উঠলেন - মিনসের কী মাথাটাথা খারাপ হইছে নি কীকর্তা উত্তর দিলেন, ভাদোমাইয়া দুফরে গোরু হারাইলে কথার আগামাথা থাকে না রে বইন ৷ বলাবাহুল্য এর পরে আমার আর  এ দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদে ভুল হয় নি ৷
         গোরুর আধার প্রযুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে মনে হচ্ছে সন্ধিবিচ্ছেদের অধ্যায়ে আর একটা শব্দ যুক্ত হতে চলেছে ৷ শব্দটি হবে 'গো' + আধার = গবাধার ৷ গোরুর আধারকার্ডের এই নামকরণ যদি হয় না জানি কী পেরেসানিতেই পড়বে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়ারা

বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৭

নীলাকাশকে: ব্যক্তিগত কথামালা


।। পার্থসারথি দত্ত ।।

(C)Image:ছবি










হে আত্মজা,আমার কথা বলা,এতটা পথচলা
তোর জন্য সকলই রেখে গেলাম...
সময় হলে ফেলে আসা হলদে রঙের ডায়েরিখানা
খানিকটা খুলে দেখবে...
রেখে আসা সংকীর্ণ  মেঠো পথেই
তুমি খুঁজে  পাবে সুবিশাল  সড়কের সীমারেখা...


মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৭

এক পশলা বৃষ্টিপাতের পর

।। পার্থ সারথি দত্ত।


(C)Image:ছবি

   












 কাঁপছে জল
    কাঁপছে পাতা
    কাঁপছে  ঝাউবন,ঘাসপাতা
                   
    আকাশ আছড়ে
    পড়ছে জলের ওপর
    কাঁপছে আমার চোখ
    কাঁপছে চোখের পাতা
    কাঁপতে কাঁপতে
    ডুবে যাচ্ছি আমি
    জলের  ভেতর
    জলের ভেতর
     স্বপ্ন আছে
     স্বপ্নের ভেতর
     যেমন থাকে জল...৷৷


    
                   ♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥