“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

ক্রমাগত রক্তপাত

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।
(C)Image:ছবি













রক্তধারা শুরু
আমার কৈশোর উদযাপনে।
যৌবনের আগমনী বার্তায় যেন
ব্যথা বেদনা সহ্যের প্রস্তুতি ।
তাই বলে কি
খুবলে নেবে আমায় তোমরা?
আমায় দেবে না মুক্ত বাতাস?
মুক্ত আকাশের অধিকার
কি নূপুর নিক্কণে,
মুক্ত পুঁজির বিশ্বায়নে বেঁচে
বিজ্ঞাপনে সেঁটে দেবে?
আমার পছন্দের পৃথিবী জুড়ে কি
ঘৃণা উদগিরণের গিরিখাদে
লালিত হব ললনা হয়ে?
রক্তাক্ত অভিশাপ ছড়া
শরীর মন বয়ে চলবে চিরকাল জুড়ে?
এ কেমন বিচার বিধাতার?
আমিই যদি মা দুর্গার প্রতিনিধি
তবে কেন অসুরের উল্লাস দাপাদাপি ?
আমার মুক্তির দশহাত
আমারই অন্তরের
শক্তিপুঞ্জে জাগিয়ে রেখে
অর্ধেক আকাশের চাওয়া প্রতিষ্ঠায়।
আগুন হোমে  মন্ত্র
জপে যেতে হবে আমারই।
এছাড়া শুরু কোথায়?

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২

অথ মালিনীবিল কথা



 ।।শৈলেন দাস।।

     মালিনী বিল শিলচর শহর সংলগ্ন এক সুপরিচিত স্লাম। শ্রমজীবী প্রান্তিক মানুষের বাসভূমি এই এলাকা আশির দশক পর্যন্ত ছিল এক পরিত্যক্ত জলাভূমি। তখন শহুরে বাবুদের কাছে এখানকার জমির কোন মূল্য ছিলনা বরং জঙ্গলময় খালি জায়গা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ তটস্থ থাকত এই ভয়ে যে কখন জঙ্গল পেরিয়ে চোর ডাকাত এসে পড়ে তাদের ঘরে ।

     বিশ্বায়নের ছোঁয়া লেগে শহর শিলচরের শরীর যখন ক্রমশ: বেড়ে উঠছিল তখন ক্রমবর্ধমান শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে গ্রাম বরাকের শ্রমজীবী মানুষ ধীরে ধীরে শহরমুখী হতে শুরু করে। এরই অঙ্গ হিসাবে কিছু সংখ্যক মানুষ বসতি স্থাপন করতে শুরু করে মালিনীবিলে। এছাড়াও শহরের আশপাশের অন্যান্য স্লাম এলাকা থেকে অনেক মানুষ আসে যারা মূলত ছিল ওই সব এলাকার ভাড়াটিয়া।

     মালিনী বিলের অধিকাংশ মানুষই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কৈবর্ত এবং বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত। এখানে বসতি স্থাপন করতে এসে এই মানুষগুলো প্রথমে লড়াই শুরু করে প্রকৃতির সাথে। জলাভূমির উপর বাঁশের চালা বানিয়ে তার উপর ঘর বেঁধে বসবাস। নেই কোন পথ ঘাট, পানীয় জল। তার উপর বর্ষায় প্রায়ই বাঁশ বেতের তৈরি ঘরগুলি ভেঙ্গে পড়ত  বান তুফানে। তাদের দ্বিতীয় লড়াই ছিল পার্শ্ববর্তী একাংশ পুরনো মানুষের সাথে। মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং সুযোগ পেলেই নানা অজুহাতে তাদের হেনস্থা করতে দ্বিধাবোধ করত না তারা। 

     জীবন ও জীবীকার তাগিদে পরিত্যক্ত জলাভূমিতে বিবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে কোনোমতে টিকে থাকতে থাকতে মালীনিবিলের বাসিন্দারা ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। মজবুত হতে থাকে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান। সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও কেউ কেউ সুনাম অর্জন করতে থাকে নিজেদের অধ্যবসায় এবং কর্মের মাধ্যমে। কিন্তু শহর সংলগ্ন এলাকায় থেকে শহুরে পরিবেশে বসবাস করেও সামগ্রিকভাবে মালীনিবিলবাসীরা আশানুরূপ উন্নতি করতে পারেনি। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে হাতে গুনা কয়েকজনই সামান্য সফল হয়েছে।

     মালিনী বিলের বাসিন্দাদের সম্পর্কে শুরুর দিকে কিছু মানুষ যে ভ্রান্ত ধারণা এবং বিরূপ মনোভাব পোষণ করত তা বর্তমানে কিছুটা কমেছে এবং তা সম্ভব হয়েছে এখানকার মানুষের সারল্য এবং সততার কারণে। নিজেদের কর্ম গুণ দিনে দিনে বিকশিত করে বৃহত্তর সমাজকে উন্নত পরিষেবা দিয়ে চলেছে তারা সততার সাথে। ফলে ধীরে ধীরে অনেকের আস্থাভাজন প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছে তারা। তবুও একাংশ মানুষ এখনও এমন রয়েছে যাদের কাছে মালিনীবিলের মানুষ মানেই সব দোষের দোষী।

     যে জলাভূমির জলকাদা পায়ে লাগলে এক সময় ভদ্রলোকেরা নিজেদের অশুচি মনে করত, ঘৃণা করত এখানকার মাছ, ফসল এবং মাটিকে। ব্রাত্যজনের যত্নআত্তি এবং প্রাণের স্পর্শে তা আজ হয়ে উঠেছে যেন সোনা তুল্য। যে কেউ মনে এই অভিলাষ পোষণ করে, যদি একটুকরো জমির দখল পাওয়া যেত! কিন্তু পাবে কি করে? এখানে তো শ্রমজীবীদের বাস। তাই সময়ে সময়ে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়েছে উচ্ছেদের। চোর ডাকাত অপবাদ দিয়ে মারা হয়েছে এখানকার নিরীহদের। মালিনী বিলের বাসিন্দাদের জমির পাট্টা দেওয়ার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েও বাতিল হয়ে গিয়েছে কোন অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে।

     যেখানে শিক্ষার হার কম এবং নাগরিক সুবিধা অপ্রতুল সেখানে সামান্য উচ্ছৃঙ্খলতা এবং অসামাজিকতা খুব একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। তবুও মালিনী বিলের মানুষ  বৃহত্তর সমাজের সাথে মেলামেশা করা এবং মত বিনিময়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংযমী। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় এই এলাকা এবং এখানকার মানুষের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমগুলোর ঔৎসক্য এবং তৎপরতা অতিমাত্রিক, একাংশ বুদ্ধিজীবী সুযোগ পেলেই তাদের উপর অপবাদের দায় চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা পোষণ করে। তাদের ঘরে বিনা নোটিশে রাতের আঁধারে পুলিশ ঢুকে যেতে পারে। এত সবের পরও এখানকার সহজ সরল মানুষ এই স্বপ্নে বিভোর যে একদিন ঠিকই যাবতীয়  অপবাদ ঘুচে সত্য এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবেই।

 


বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

আজব

 ।। প্রতিভা মণ্ডল দে ।।













আজব গজব পৃথিবীতে
আজব গজব ভাব।
মিলেমিশে থাকার কথায়
ভাবের যখন অভাব।
শক্তিশালী মানুষ গুলোতে
অণুজীবের প্রভাব।
করছে মানুষে মানুষে দূরত্বের ভাব।
একা একা দূরে দূরে 
থাক নাকমুখটা মুরে।
চেন নিজেকে জান নিজেকে
কে তুমি কেন এসেছ
এই  ভবেতে,
ভালো থাকার ভালো রাখ
একে অন্যকে,
থেকেও দূরে ভালোবাস
সবাই পৃথিবীতে 
এই কারণে আস।
 


শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

প্রজন্মের অন্তর

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C)Image:ছবি










কিশোরী মন কেঁদে উঠে
ভয়ে ব্যথায়,
অপরিচিতের মাঝে
অচেনা নতুন পরিবারে।
আমি বলে চলি-
তোর কিছু হয়নি,
তুই ভান করছিস,
কাঁদিস তুই আবেগ জাগিয়ে
আমার সহানুভূতির পালকি চড়বি বলে।
আমি বেঁচে আছি
আমার মন্দবাসার দিনগুলো আঁকড়ে।
 
স্নেহের স্মৃতি বড় ঝাপসা মেদুর,
রাতগুলো কুপীর আলো আঁধারি।
আমি ভাসতে পারিনি
এলইডি বাল্বের উজ্জ্বলতায়।
ভেবেছি -
আলোর বন্যা
আমার পুরষ্কার।
ভালোবাসার স্পর্শ পড়েনি
শরীর বাসায়,
মনের কোঠায়
মাকড়সা জালের ছাদ।
দেখো না আরেকবার
আমি কিশোরী সেজে!
 

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আদম সুমারী

।। আ, ফ, ম, ইকবাল॥ 













অগণিত মানুষ 
আসে যায় ধরণীতে 
ধরণী থেকে । 

আপন কর্ম দিয়ে 
কেউ হয়ে উঠে কালজয়ী 
কেউ বেঁচে বেঁচে মরে যায় 
কেবল কর্মের নিরিখে 
পরিচয় এ ধরায়। 

আফসোস- 
দেবস্থানেও আজ 
অমানুষ ঠাঁই পেয়ে যায় 
করুণা প্রেমের ঝর্ণা 
অকালে শুকিয়ে যায় 
পাল্টে গেছে মানুষের সংজ্ঞা 
পাল্টে গেছে প্রেমের পরিভাষা ! 

মজলুম আজ 
ফুলের পাপড়ি 
মজলুম নিষ্পাপ শিশুকন্যা 
মজলুম দলিত সংখ্যালঘু 
আইনের দাড়িপাল্লা ধরে থাকা 
সেই মেয়েটির খুলে গেছে আজ 
একটি চোখের বাঁধন !

ক্ষমতার দাপটে 
ক্রেন এক্সকেভেটর 
ধরেছে কানুনের রূপ 
বুলডোজার হয়েছে  
নবযুগের হিটলারি কালচার !

জ্বলছে দেশ দেশান্তর 
নিরোরা আত্মমগ্ন হয়ে তুলছে 
বীণার তারে অভিনব সুর  
ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা  
বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে !

ধর্মের নামে রচিছে বিধান যারা 
জানেনা ধর্মের বাণী  
আছে যদি ধর্ম-প্রীতি 
মেনে দেখো ধর্মের নীতি 
মুছে যাবে সকল বাধা ব্যবধান 
কায়েম হবে মানুষের রাজত্ব
হবে জাগ্রত 
উজ্জিবিত মানুষের প্রাণ !  
             
            হাফলং। ডিমা হাসাও।
                   ২১-০৯-২০২২। 

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আলোর ছন্দ


।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 



























সূর্যের দেশে
রোদ স্মিতার আলোয়
তোমায় নিয়ে
তমসাবিহীন রাত্রি জাগি
রাত বারোটায়।
শীত স্বপ্ন হাতে
উদীচী ঊষায়
তোমায় নিয়ে বিভোর
প্রাণস্মিতা ছন্দে
তুমুল আলোর ফোয়ারা তলে।







বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

প্রশ্ন

 
 

 ।। , , ,  ইকবাল॥ 

        

(C)Image:ছবি

     








কে বলেছে প্রকৃতি বিমুখ 

যার ফলে যত দুর্যোগ ?  

তাহলে কে দিয়েছে বিছিয়ে  

আকাশলীনা বিস্তৃত ছায়া 

যার তল্লাটে জেগে উঠছে 

প্রজন্ম, উত্তর প্রজন্ম  

নিভৃত নিরবচ্ছিন্ন! 

 

বিঘ্নিত করেছি আমরা 

ঘরে ঘরে ভাতের সম্ভার 

গভীর সবুজ পাহাড়গুলো 

ব্যস্ত ছিল গুহায় গুহায়    

সাজাতে আমাদের তরে  

বর্ণিল ধ্যানকেন্দ্র 

আমাদের স্বপ্ন 

আমাদের সাধনা ছিল পরিব্যাপ্ত 

মানবের তরে- 

মানুষের মতো করে ! 

আমরা করেছি সেথায় 

কংক্রিটের কলোনি পত্তন !  

 

কথা ছিল 

জগতের সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  

নির্ণীত হবে সকল প্রেমের অসুখ  

কথা ছিল  

সকল ল্যাবে হবে মানবিক উৎকর্ষের প্রয়োগ  

আজ কারা বানিয়েছে তা সাধনা নিধনের কারখানা ? 

তারপরও প্রকৃতি বিমুখ ?  

 

তোমার অরির তরে 

রেখেছ তল্লাটে ভরে 

সারিসারি কামান 

সর্বাধুনিক মেশিনগান 

গোলাবারুদের ঠেক 

প্রকৃতি তার সচল অনিলে 

জং থেকে রাখছে তা সামলে 

তাই দিয়ে করেছ যুদ্ধ ঘোষণা 

প্রকৃতির বিরুদ্ধে 

কে ডেকেছে তবে কন্যা নিধনের বন্যা ? 

 

তারপরও 

আলোকিত সূর্যের বাঁশির বিভাসে 

বটবৃক্ষের অমৃত মেঠো ছায়ায় 

বাড়বাড়ন্ত মাটির কায়া 

শোষণের হাতিয়ার শিয়রে জমা রেখে

পোহাচ্ছ নির্ঘুম রাত 

স্বপ্নে দেখছ নির্মল নিষ্কলুষ প্রভাত  

সকল দায় শুধু প্রকৃতির ! 

                 ১৮-০৮-২০২২। 

 

স্বদেশ আমার

।। জাহিদ রুদ্র ।।








এখন আর কিছু ঠিক রইল না 

যতবার চললাম মানুষ হয়ে ওঠার রাস্তায়

অমানুষ হয়ে গেলাম টের পাওনি

তুমি টের পাওনি বলে, 

অর্ধমানবের মতো শিম্পাঞ্জির খেলা দেখে হাততালি দাও

তারও দুঃখ আছে, মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি 

যে সাদা ফানুস উড়িয়েছিলে, সুতোয় বাঁধা 

দু একটা গেরুয়া ও সবুজ রং এর ও ছিল 

ওরা যে এক একটা মরা লাশ -- তা কি জানতে ?

 

প্রিয়তমা, তুমি টের পাওনি বলে

উদাসীনতা আমাকে অমানুষ করে তুলেছে

তোমার সম্মানে মৌনতা নিয়ে লালকেল্লা

তার প্রতিটা কিলায় লাইভ টেলি-কাস্ট চালায় 

বিলকিসরার স্বাধীনতা

গোধরা কনসাইন্টমেন্টে!

 

প্রিয়তমা, জানি তোমার গলা শুকিয়েছে 

মহোৎসবের অমৃত পানে

আজাদী, জল জীবন কেড়ে নেয় বিনা দ্বিধায় ---

মন্বন্তর থেকে ছিয়াত্তরতম স্বাধীনতা

ফুল এপিসোডে ফারাক অবশ্যই

ক্ষুধা মানুষ খেয়েছিল আর আজ রাজনীতি জীবন।

 

হোক না খোলা সব পতাকা

একবার তোমার মুখে হাসি দেখে যাই প্রিয়তমা ,

লিখা হোক যত মহাসভা সংবিধান 

উড়ুক যত ধর্ম পতাকা 

শিকল ভাঙ্গবে স্বদেশ আমার ।