“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

ধনেশ পাখির পালক

       

     (মনিপুরি লোককথা) 

।।  সুব্রতা   মজুমদার ।।

নেক আগের কথা একটি গ্রামে হাইয়াইনু নামে একটি মেয়ে ছিল। মেয়েটি তার বাবার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিল, বাবাও তাকে খুব আদর যত্ন করত কিন্তু সৎ মায়ের তা মোটেই পছন্দ হত না। একসময় হাইয়াইনুর বাবাকে গ্রামের বাইরে অনেক দূরে কাজে যেতে হয় বেশি টাকা উপার্জনের জন্য। যাবার সময় স্ত্রীকে বলে যায় মেয়ের খেয়াল রাখতে। বাবা চলে যেতেই সৎমা হাইয়াইনুকে আদেশ দেয় পুকুরপার থেকে কলমি শাক নিয়ে আসতে। মেয়েটি সৎ মায়ের কোনো কথা অমান্য করে না, সে রওয়ানা হয়। সৎমা আবার বলে ছোট ছোট কিছু মাছও ধরে নিয়ে আসতে যাতে তা বাজারে বিক্রি করা যায়। মাছ আর শাক নিয়ে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই আবার কলস দিয়ে বলে জল আনতে পাঠায়একটার উপর একটা  কাজ সমঝে দেয় মেয়েকে। মেয়েটি সবসময়ই তার সৎমাকে খুব মান্য করে, কিন্তু সৎমা তার প্রতি নিষ্ঠুরই হয় দিন দিনসারাদিন পরিশ্রম করে মেয়েটি বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলেই সৎমা তাকে গালাগাল করে এবং লাঠিপেটা করতেও দ্বিধা  দ্বিধা করে না।

বাবার অনুপস্থিতিতে দিন এরকমই চলতে লাগল আর সৎমাও হাইয়াইনুর প্রতি নিষ্ঠুর থেকে আরও নিষ্ঠুর হতে থাকে। হাইয়াইনুও দৈহিক আর মানসিক যন্ত্রণা পেতে পেতে দুঃখী আর নিঃস্ব হতে থাকে দিন দিন। একদিন হাইয়াইনু যখন তার বন্ধুদের সাথে নদীতে চুলে চাল আর ডালের জলে তৈরি পরম্পরাগত ‘চেঙহী’ দিয়ে স্নান করতে ব্যস্ত তখন সৎমা দুপুরের খাবার খেয়ে ভাত ঘুমে, হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখে কিছু গরু এসে তাদের বাগানে ঢুকে গেছে। সৎমা ভাবল এটা হাইয়াইনুর অবহেলার জন্যই হয়েছে। হাইয়াইনু বাড়ি ফেরার পর সৎমা তাকে বকাবকির পর মারতে শুরু করে। হাইয়াইনুর সৎ ভাইয়ের তা দেখে দিদির জন্য কষ্ট হয় সে তার দিদিকে খুব ভালবাসত, কিন্তু সেও তখন অসহায় কিছুই করতে পারে না দিদির জন্য। হাইয়াইনু তার বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করুক, খেলা করুক কোনো সামজিক অনুষ্ঠানে যাক তা তার সৎমার একদম পছন্দ ছিল না, তাই তার বন্ধুরা যখন এসে তাকে প্রলোভিত করে ‘লাইহরাওবা’ অনুষ্ঠানে যেতে সে রাজি হয় ঠিকই কিন্তু বন্ধুদের বলে তাকে এসে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে। সৎমা তাদের কথাগুলো লুকিয়ে শুনে নেয় এবং হাইয়াইনু সব জামা কাপড় গয়না লুকিয়ে রেখে দেয় আর হাইয়াইনুর চুল ধরে মারধর করে ।

সৎমা কোনো সময়েই মেয়েটিকে অবসর বসে থাকতে দেখতে পারত না বরাবরই কোনো না কোনো কাজ সমঝে দেয়কাজ করতে করতে কোনো কারণে যদি ভুল হয়ে যায় তাহলে মেয়েটিকে তো মারধর করতই এমনকি মেয়েটির মৃত মাকেও গালাগালি দিত। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটির বাবা মেয়েটির সঙ্গে থাকত মেয়েটি নিরাপদে থাকত, বাবা কাজে বেরোলেই শুরু হত সৎমায়ের অত্যাচার। মেয়েটির তখন তার বাবার কথা খুব মনে পড়তে থাকে, সে ভাবে বাবা কবে বাড়ি ফিরবে! তার মা যদি বেঁচে থাকত! তাহলে তো সে কত যত্নে থাকত! পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো এসে মেয়েটির মুখে পড়তে চোখের জল চিকচিক করে ওঠে। বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে দেখতে মেয়েটি অনেককিছু ভাবতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে মেয়েটি খুব দুঃখী হয়ে পড়ে। ঘরে তখন তার সৎমা ছোটভাইকে নিয়ে পালঙ্কে ঘুমিয়ে আছে। সে ঘরে ঢোকে মাটিতে করে রাখা তার বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে সে তার মৃত মা কে স্বপ্নে দেখেমা বলে,

--- ও হাইয়াইনু, আমার কন্যা! আমি তোকে এভাবে দুঃখী দেখতে পারছি না মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তোর যন্ত্রণা দেখে। এইসব মানুষদের মাঝখানে থাকতে না পারলে এখানে চলে আয় মা, ধনেশ পাখির দলে ধনেশ পাখি হয়েতুই যে নদীতে যাস সেখানে দেখবি প্রতিদিন ধনেশ পাখির একটি দল আসে। তুই দেখিস তাদের অনুরোধ করে রোজ তোর জন্য কিছু পালক ফেলে যাওয়ার জন্য। তুই সেই পালকগুলো এক জায়গায় জমাতে থাকিস, সেলাই করে নিস তোর জামার সঙ্গে এবং চেষ্টা করিস উড়ে আসার, ধনেশ পাখিদের এই সুন্দর পৃথিবীতে চলে আয়, আমাকেও পাবি তুই এখানে

ঘুম ভাঙতেই হাইয়াইনু দৌড়তে দৌড়তে নদীতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে সত্যি সেখানে কিছু ধনেশ পাখির দল ওড়াউড়ি করছে। পাখিদের দেখে মেয়েটিরও ইচ্ছে করে সব দুঃখ কষ্ট থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাদের মতো তাদের দলের হয়ে এরকম উন্মুক্ত আকাশে উড়ে যাওয়ার। সে তাদের ডাকতে থাকে,

--- “ও ধনেশ পাখি আমার উপর কৃপা করো! আমি আর আমার সৎমায়ের অত্যাচার সইতে পারছি না।”

ধনেশ পাখিরা সবাই একসাথে উত্তর দেয়,

--- বলো বলো মেয়ে কী হয়েছে?

--- আমি তোমাদের সঙ্গে উড়ে যেতে যাই। আমাকে নিয়ে যাও তোমাদের সঙ্গে।

--- তুমি পারবে না, পারবে না আমাদের মতো উড়তে, তোমার ডানা নেই, ডানা নেই।

চোখের জল মুছতে মুছতে হাইয়াইনু বলে,---

--- পারব, পারব। তোমরা আমাকে সাহায্য কর উড়তে। আমি এই দুখ দুর্দশা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, উড়ে যেতে চাই খোলা আকাশে, ঠিক তোমাদের মতো। দয়া করে আমাকে তোমরা তোমাদের দলে যুক্ত করো।

ধনেশ পাখির দল উত্তর দেয়, 

--- আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। বলো কী করে তোমায় আমরা সাহায্য করব?

--- তোমরা কী প্রতিদিন তোমাদের একটি করে পালক দেবে আমাকে? ঝুড়ি ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি জমাব। ঝুড়ি ভরে গেলেই ডানা মেলে আমি উড়ে চলে আসব তোমাদের কাছে!

হাইয়াইনুর কথা শুনে ধনেশ পাখিদের খুব দুঃখ বোধ হয় এবং তারা সম্মতি জানায়,

--- আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে!

        ধনেশ পাখিরা তাদের কথা মতোই রোজ একটা করে পালক ফেলে যায় মাটিতে। হাইয়াইনু তা জড়ো করতে থাকে একটা ঝুড়িতে। ঝুড়ি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে যাতে তার সৎমা তা দেখতে না পায়। এরকম পালক কুড়িয়ে জমাতে জমাতে একদিন হাইয়াইনু দেখল তার ঝুড়ি ভর্তি হয়ে গেছে, তখন সে সেই পালকগুলোকে সেলাই করে ডানা বানাতে লাগল। ছোটভাই দরজার আড়াল থেকে দেখে নেয় দিদিকে পালক সেলাই করতে, সামনে এসে জিজ্ঞেস করে,

--- এগুলো দিয়ে কী করবে দিদি?

--- আমি উড়ে যাব ধনেশ হয়ে। এখানে আর থাকতে ভালো লাগছে না রে ভাই

--- আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না দিদি!

বলে দিদিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে ছোটভাই। হাইয়াইনুও পালক সেলাই ছেড়ে ছোটভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে, ও ভাই!

পালক সেলাই শেষ হলে হাইয়াইনু ধনেশ পাখিদের দেখে এবং তাদের ডেকে বলে তাকে উড়ে যেতে সাহায্য করার জন্য। ধনেশ পাখিরাও সাহায্য করে। অতপর মেয়েটিও ডানা মেলে পাখি হয়ে উড়ে যায় আকাশে, মিশে যায় ধনেশ পাখির দলের সাথে। পাশে অসহায় ভাই শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই দেখতে থাকে তার দিদির আকাশে উড়ে যাওয়া। ছোটভাই দৌড়ে গিয়ে মাকে জানায় কথাটি, মা শুনে শুধু একটি কথাই বলে,

--- ভালো হেয়ালি!

কিছুদিন পর হাইয়াইনুর বাবা তার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসে মেয়ের জন্য অনেকগুলো জামাকাপড়, অলঙ্কার এবং কিছু ফলমূল নিয়ে; কিন্তু মেয়েকে বাড়িতে কোথাও দেখতে পায় না। খুঁজতে থাকে এদিক ওদিক। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে স্ত্রী কিছু উত্তর করে না। তখন ছেলেটি আসে তার বাবার কাছে এবং বলে যে কী করে তার দিদি হাইয়াইনু ধনেশ পাখিদের সাথে উড়ে গেছে আর সে কোনোদিন তাদের মধ্যে ফিরে আসবে না। ছেলের কথা শুনে হাইয়াইনুর বাবা হাইয়াইনুর সৎমাকে গালাগাল দেয় যে তার অত্যাচারের জন্যই আজ তাদের মেয়ে এরকম দূরে চলে গেছে। সৎমাও তার কর্মের জন্য ভেতর ভেতর অনুতপ্ত হতে থাকে।

 মেয়েকে এভাবে হারিয়ে হাইয়াইনুর বাবা অত্যন্ত দুঃখী হয়ে পড়ে। খাওয়া ঘুম ছেড়ে দেয় প্রায়। রোজই উঠোনে দাঁড়িয়ে মেয়েকে ডাকতে থাকে,

---‘ও হাইয়াইনু! হাইয়াইনু! প্রিয় মামনি! দ্যাখ আমি তোর জন্য কী কী এনেছি! বাবার কাছে ফিরে আয় মা! দেখ তোর জন্য যে কত কাপড় চোপড় গয়না এনেছি কে পরবে ওগুলো! আমার কষ্ট হচ্ছে মা তোকে ছেড়ে থাকতে!

প্রতিদিন এরকম কাঁদতে কাঁদতে একদিন হাইয়াইনুর বাবা দেখতে পেল যে তাদের বাড়ির উঠোনের উপর দিয়ে একঝাঁক ধনেশ পাখি উড়ে যাচ্ছে এবং সেই দলে তার মেয়ে হাইয়াইনুও আছে। সে মেয়েকে ডেকে ঘরের ভেতর থেকে এক থালা ভাত এনে দিল এবং বলল তার মেয়েকে খেয়ে যেতে। হাইয়াইনু এসে বাবার পাশে দাঁড়ায়, কেঁদে বলে,

--- “বাবাগো, আমাকে ক্ষমা করে দিও, তোমার অসহায় কন্যা তোমার বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষাও করতে পারে নি। আমি আর মানুষের মাঝখানে বসবাস করতে পারছিলাম না। এখন তোমার দেয়া এই খাবারও আমি খেতে পারব না বাবা, আমি এখন ধনেশ পাখিদের দলের একজন, আমার খাওয়া অন্য। আমি অনেক সুখে আছি এখন ওদের সঙ্গে। আমার মাও আছে আমার সঙ্গে। দয়া করে ক্ষমা করে দিও তোমার অবোধ শিশুকে। বিদায় বাবা!

যেতে যেতে আবার দাঁড়িয়ে বলে,

--- আর হ্যাঁ বাবা, এই জন্মে আর হবে না, পরের জন্মে আমাদের দেখা হবে আবার। তোমার মেয়ে হয়েই ফিরে আসব। ভাইয়ের খেয়াল রাখবে, যত্নে রাখবে ওকে। আর মামনিকেও ক্ষমা করে দিও। কেঁদো না বাবা! তুমি যখনই ‘লাইহরাওবা’ অনুষ্ঠানে যাবে তুমি যেখানে বসবে ঠিক তার পাশের বসার জায়গাটা আমার জন্য খালি রেখে দিও, আমি ঠিক এসে বসব কিন্তু!

হাইয়াইনুর সব পাখি বন্ধুরা তাকে ডাকতে শুরু করে যে দেরি হয়ে যাচ্ছে ফিরে যাওয়ার জন্য। হাইয়াইনু তাই এইটুকু বলেই বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার পাখি বন্ধুদের সাথে সোনালী আকাশে উড়ে যায়! হাইয়াইনুর বাবাও সেই আশা নিয়েই বাঁচতে থাকে তার মেয়ে হাইয়াইনু কোনো একদিন কোনো একজন্মে আবার ফিরে আসবে তার বাবার কাছে!

 

 

*****

 

  

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

অশনিসংকেত !

 
              ।। আ, ফ, ম, ইকবাল॥ 
(C)Image:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আকাঙ্ক্ষার আকাশ অসীম,  
হরিণ অভিলাষে মত্ত জীবন  
নতুন নতুন আশা  
নতুন দৃষ্টান্ত তৈরির অনন্ত কসরত  
বাসনা বিলাস-   
আকাশ পর্যন্ত ফুলে উঠুক আমাদের পরিচয় ! 
এ কোন অদ্ভুত তন্ময়তা !

পরিপক্কতার শৃঙ্খলে জড়ানো  
সময় যত এগোচ্ছে  
দায়িত্ব আঁকড়ে ধরছে.. আস্টেপিস্টে 
শঙ্কা- কখন আদর্শ হয় ভূপাতিত   
আটকে যায় জড়তার জালে  
স্বার্থপরতা আর দাম্ভিকতার  
খোদাই করা মিছা আদলে !

ধমনী ও শিরা অবশ হয়ে আসে ক্রমশ  
তবু চলতে থাকি একই পথে 
ভাবলেশহীন নিরুদ্দেশ !

মাঝে মাঝে স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকি   
সমাজের ক্লেদাক্ত ভাষায়  
কথা বলতে শুরু করি..  
শঙ্কা হয়- 
হ্যাঁ, সেই আশঙ্কা- 
জানিনা কখন আদর্শ বিভক্ত হয়ে পড়ি !  
                           ০৮-০১-২০২২। 
                  হাফলং, ডিমা হাসাও।

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

অদ্ভুত


 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

(C)IMAGE:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
]
 
 
 
 
 
 
 
বিচিত্র জীবনের 
বিচিত্র স্বাদ! 
খাঁজে খাঁজে লুকোনো
অদ্ভুত ফাঁদ!

সৌভাগ্য, সাথী অদৃশ্য 
কেবল বিমুখী জবাব! 
বুদ্ধি নয়কো লোহা তবু 
ঝংকারে মর্চা রবাব!

বিদেহী মর্যাদাবোধের
আঘাতই অনুভাব! 
মানুষ আবহাওয়া নয়
তবু বদলই  স্বভাব!

ধন্য জীবন! শান্তি খোঁজে, 
অশান্তি মূলত অজ্ঞাত নিজে! 
মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়ী সচেষ্টা
আনন্দমার্গী উদ্বুদ্ধ! অদ্ভুত তেষ্টা।
  
         **********

রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১

জুনাইদের পিতা


।। মিফতাহ উদ্দিন ।।
 
(C)Image:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
গীতা পড়া হয়নি তবে সীতার জানি রাম
বলতে পারি ভালোই আমি চারটে বেদের নাম।

দুগগা, কালি কৃষ্ণ জানি, জানি শিব সবার
গরু, হাতি, সাপ, পেঁচা ও দেখি দিনে ক-বার!
 
দেখলে মিছিল ভগবানের রাস্তা ছাড়ি আগে
জানিনে খুশ হয় কি না সে আমার এমন ত্যাগে!

মত যত ঠিক পথ ততো ভাই গেছেন বলে কেউ
বারো মাসে পর্ব তেরোর তাইতো দেখি ঢেউ!

বন্ধু, তোমার নিজের পুঁথি একটু নাহয় পড়ো;
সাক্ষ্য দেবে সর্ব-শ্লোকই — মানুষ সবার বড়।

বৃক্ষ চিনি ফলেই কেবল, ফুলের সুবাস যেমন;
তোমার মাঝেই খুঁজব আমি তোমার বেদ কেমন।

কেমন ছিলেন ঋষি তোমার, হয়নি আমার পড়া;
কিন্তু জেনো— বক্ষজুড়ে ওদের আসন গড়া।

এই তো সেদিন— কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণ দিলেন ভাষণ,
শীর্ষচূড়ায় জেনে রেখো সময়েরই আসন।

কী বলেছেন যুদ্ধের আগে? মানুষ-মানুষ কী ভেদ?
'অদ্য থেকে বন্ধ, জেনো, ছোট বড়'র বিভেদ।

অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাসঃ ভাই ভাই সকলে
শুনিয়াছি ঋগ্বেদের শ্লোকটি তাহাই বলে! 

সংখ্যালঘুর সঙ্গে তুমি করবে যখন যা-ই,
ভাবব আমি— তোমার বেদের শিক্ষা ছিল তা-ই।

কেমন ছিল কর্ম রামের? কেমন বিচার তাঁর ?
তোমার মাপেই মাপব আমি— রামের অবতার।

হয়নি যাওয়া কাশী আমার, যাইনি বৃন্দাবন 
সবার সেরা তীর্থ জানি মানুষেরই মন।

সেই মানুষের মন কে ছেড়ে নামটা ধরে তার
জয় শ্রীরামের নামে চলে কেমন অত্যাচার!

ফ্রীজে রাখা মাংসতে হয় কার গো অপমান
কোন দেবতার আদেশে ভাই নাও তুমি তার জান!

ওপার থেকে একটা দুটো— আসলে খবর উড়ে;
অমনি তুমি প্রতিবাদি এপারে সব ছুড়ে।

রাখবে ক-জন ক-দিন খবর, থাকবে দু-দিন রেশ;
এপারে যে রোজ যে কত হচ্ছে নিরুদ্দেশ  !

তোমার হাতেই ধর্ম তোমার, তোমার বেদ গীতা  ;
গেলাম আমি আরজ রেখে— জুনাইদের পিতা!

২৪ অক্টোবর ২০২১
মোবারকপুর

রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

যে ক'টা দিন পৃথিবীতে ।। ষোড়শ পর্ব

।। ১৬।। 

 

(C)Image:ছবি

আড় চোখে দেখলাম, রাত দেড়টা প্রায়। আমার শরীরটা ক্রমশ: ভারী হচ্ছে যেন। রাতের ভারী খাবারের পর উঠোনের দশ মিনিট দাড়িয়ে থাকা ছাড়া আর বেশ কসরত হয়নি আমার। বসেই আছি সেই থেকে। অথচ আব্বাকে দেখি এখন সতেজ, শুরুতে যে অস্বস্তি ছিল সেটাও কেটে গেছে অনেকক্ষণ, একটা দৃঢ় চেতনা নিয়ে বলে যাচ্ছেন যেন এ ইতিহাস জানা দরকার। অন্তত তাঁর দামাদের সে জানা প্রয়োজন! 

আব্বার খোলা চোখে ছাদের দিকে করা ধ্যানটা ভাঙাতেই বললাম...

-- সুনীল...

--  হুমম, শুনেছি সেই ড্রাইভারই না-কি কীভাবে সুনীলের নাম্বার পেয়েছে, পকেটে ছিল বোধহয়। 

--  তারপর? 

-- হুঁ, তারপর, তারপর আর কী, আমাদের সুনীলের ঘরে থাকার কথাটা ছড়িয়ে পড়ল তাঁদের এলাকায়। সুনীলদের উত্ত্যক্ত করা শুরু হল ঘরে বাইরে। প্রায় সপ্তাদিন পরেই একদিন ফজরের নামাজটা পড়েই বেরিয়ে পড়ি আমরা তিনজন। জায়গায় জায়গায় তখন পুলিশের টহল। ভোরের বাতাসে পোড়া গন্ধটা আরও ঝাঁঝিয়ে লাগছে আমাদের নাকে, মুখে। কিছুদূর যেতেই ক'জন পুলিশ আটকাল আমাদের, বলল, কোথায় যাবেন, বললাম শাহপুর। শাহপুর রিফিউজি ক্যাম্পটা তখন এ অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় স্থল। ওরাই গাড়িতে করে পৌঁছে দিল আমাদের সেখানে। 

 

--  মানুষ, হায় মানুষ! 

আব্বা আবারও যেন কাঁদো কাঁদো অবস্থায়। আমি বলতে ও পারি না, আব্বা থাক, ঘুমান, পাছে মন আরও খারাপ হয়ে যায়। আসলে মানুষের মন খারাপের কথাগুলো শুনতে হয়, আটকাতে নেই, বেরিয়ে এলেই বোঝাটা হালকা হয়। আব্বা আবার শুরু করলেন...

 

সেখানে প্রায় দিন পনেরো ছিলাম। কী দুর্বিষহ অবস্থা। প্রিয়জন হারানোর শোকে কেউ কারুর দিকে মনোযোগ দেয়ার মত নেই। কারুর মা, কারুর বোন, কারুর বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল সকাল বেরিয়ে যান নিজ নিজ হারানো স্বজনদের খোঁজে, কেউ খুঁজে পান, কেউ পান না। যারা পান তারা আরও ভেঙে পড়েন। আহমেদাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের বর্জ্য বাহী ট্র্যাক্টরে আসে লাশের ঢের, শাহপুর বড় মসজিদের কবরিস্থানে বিশাল সাইজের গর্ত করে একসাথে পনেরো, বিশটা করে লাশ ফেলে মাটি চাপা দেয়া হত। জীবিতের খোঁজে লাশের স্তূপে ভিড় জমাত আধ মরাদের দল। 

 

এবার আমার চোখে পানি। ছোট্ট নাদিয়ার কথা ভেবে বুক ফেটে যাচ্ছে যেন আমার! আব্বাকে বললাম আর নাদিয়া?

নাদিয়ার কান্না হাজারো শিশুর কান্নার সাথে মিশে একাকার। আমরা সবাই এক! আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা রিফিউজি! 

--  আর অফিস?

---  হ্যাঁ, অফিস তখন অর্ধ দিন হত। সুনীল আমাদের খোঁজে এফ আই আর দিয়েছে থানায়। একদিন অফিসে দেখেই জড়িয়ে ধরল। কিন্তু আমার কেন জানি আর থাকতে ইচ্ছে করছিল না সেখানে। মনে পড়ে যাচ্ছিল সুনীলের ভূপালের দিনগুলোর কথা। সেদিন তার বুকে বোধহয় এমনই যন্ত্রণা ছিল! কে জানে! সুনীলকে বললাম আমি চাকরি ছাড়ছি। সে পীড়াপীড়ি করতে লাগল, বলল সব ঠিক হয়ে যাবে! এমনকি আমাদের আবার শাহপুর থেকে তার ঘরে নিতে চাইল। কিন্তু অবিশ্বাসের বাতাস তখন কোণায় কোণায়, ওলিমা কিছুতেই শাহপুর ছাড়তে রাজি নয়। বাঁচলে সে সেখানেই বাঁচবে আর মরলে ও সেখানে! সুনীল আমাকে ভূপালে চলে যেতে বলল, সে সব ঠিক করে দেবে! তারপর মার্চের পঁচিশ তারিখ আহমেদাবাদ ছেড়ে সোজা এইখানে! 

 

মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসছে। আল্লাহু আকবার আল্লা হু আকবার...

চুপচাপ বসে আছি দু'জন মানুষ! আব্বা এতো সাহস দেখিয়ে ও যে কথাটি মুখ ফুটে বলার সাহস রাখতে পারলেন না, সে আমি নীরবে বুঝে গেলাম। 

নাদিয়া কুরেশি, নাদিম কুরেশি আর আয়েশা কুরেশির সেই আদরের দুলাল! 

আমি কান্নায় ভেঙে পড়ছি, আমার দুচোখে অশ্রুর বন্যা! 

 

ক্রমশ: 

 

#যেকটাদিনপৃথিবীতে

 

বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্বরবর্ণ

            
              ।। রফিক উদ্দিন লস্কর ।।

(C)Image:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
বাগযন্ত্রে ধাক্কা না খেয়ে যারা উচ্চারিত হয়
সেই সব বর্ণকে জানি সবাই স্বরবর্ণ কয়।
স্বরবর্ণে বারোটি (১২টি) স্বর আছে মূলতঃ 
তারই মাঝে হ্রস্ব-লি (৯)এখন অপ্রচলিত। 
'অ' থেকে 'ঔ' পর্যন্ত যে প্রচলিত এগারোটি 
তাদের দখলে এখন স্বরবর্ণের তালিকাটি।
স্বরের মাঝে হ্রস্ব, দীর্ঘ, প্লুতস্বর ও যৌগিক 
এগারোতে ৭টি আছে যেগুলো মৌলিক।
অল্প সময়ে উচ্চারণ যার অ,ই,উ এবং ঋ,
দীর্ঘ সময়ে উচ্চারণ এ,ঐ,ও,ঔ, ঊ, আ,ঈ।
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি আছে,
সেগুলো হলো- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
'অ' হলো নিলীন ধ্বনি স্বরের মাঝে প্রথম
এগারোতে ১০টি 'কার' একটি মাত্র কম।
পূর্ণমাত্রার ৬টি স্বর আর অর্ধমাত্রার এক(১)
মাত্রাহীন ৪টি আছে শেষ চারে যে উল্লেখ। 

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইংরাজি
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি (আসাম-ভারত)

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

বৃক্ষ

॥ পৃথ্বীশ দত্ত ॥

 

     

(C)Image:ছবি

 সেই ছেলে ও মেয়েটি,  কী যেন নাম ? না, তখনও নাম জানা যায়নি । এখন মেয়েটি উধাও । তবু ছেলেটি রুটিন মেনে যায় ।

       ছেলেটি রোজ সেই বৃক্ষের কাছে যায় । তার সাথে কথা বলে । ভাদ্রের তাল পাকা দুপুরে, সূর্যের রৌদ্র শাসনে, তপ্ততা যখন দিগন্তব্যাপী, ছেলেটি তখন অশ্বত্থ ছায়ের শীতলতায় বসে নিঃশব্দে গল্প করে । গল্পের ছলে খেলা করে । বুকের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামে বেদনার পাথর । একটু হালকা লাগে । আবারও পাথর গড়িয়ে নামে । বার বার । এ যেন বুক ও দহনের নিরন্তর খেলা !

       সহস্র প্রসারিত হাতে ছায়া মেলে রাখে অশ্বত্থ গাছ । গাছ নয়, সে বৃক্ষ । সেও কথা বলে ছেলেটির সাথে । তার চপল পল্লব হেসে হেসে প্রমোদ ছড়ায় । ভালো লাগা দিতে চায় পরম আশ্রিতকে ।

      কোন মানুষ এখানে আসে না । কোনও প্রয়োজন নেই এখানে আসার ।  জঙ্গলাকীর্ণ চারপাশ । তবু এই নির্জনতা ভরে আছে কত স্মৃতি, কত কথার গুঞ্জন, কত স্পর্শের উষ্ণতায় । এখানেই ওরা বসত । গল্প করত, গল্প রচিত করত দুজনে । সেই গল্পের ভাষা বৃক্ষটি জানত। সে শুনতে পেত তাদের কথার গভীরে কত স্বপ্নের ধ্যান ।  আজ ছেলেটি মৌন । তবু কিসের টানে সে  বৃক্ষের পদতলে আসে !  স্মৃতি সততই নির্জনতা বিলাসী ।

      একদিন সেই বৃক্ষের প্রসারিত শেকড়-চরণে ছেলেটি বসত মেয়েটিকে নিয়ে । সে কোনও একদিন ।  তরল স্বপ্নের রঙ নিয়ে নিবিড় লোফালুফি খেলত । গল্পের মৃদুভাষ ছড়িয়ে পড়ত বৃক্ষের শরীর জড়িয়ে । কল্পকালির টানে নানা স্বপ্নের কোলাজ এখানেই রচিত হত । এই অশ্বত্থ জানে প্রেমিকের মায়া মেদুরতা । সে জানে প্রেমের কথামালা কেমন করে কাব্য হয়ে ফুটে ওঠে । সে জানে প্রেম ও প্রতারণার অলৌকিক সম্মোহন । রঙ মুছে গেলে ক্যানভাসের পাতাগুলো বারবনিতার মত আরোপিত রূপ নিয়ে পড়ে থাকে ।

      ছেলেটি এখন একা । এখন সে অবসাদে নিথর । তার স্বপ্নময় মারীচ হরিণী । তবু সে অশ্বত্থের কাছে যায় । অশ্বত্থই তার প্রেমের সাক্ষী । তার কাছে বসে, তারই কোলে শরীর এলিয়ে স্মৃতি-তর্পণে ডুবে যায় । কত কথা কত গল্প, স্বপ্ন ভাঙার আকুল ঢেউ আছড়ে পড়ে মনতটে । এ বড়োই বেদনাসুধা । এই বৃক্ষের বাকলে এখনো খোদাই করা আছে মেয়েটির নাম l যেন সে মেয়েটির ধারক । জড়িয়ে রাখে বাকলাঙ্গের নীরব মমতায় । গাছেরও প্রাণ আছে । গাছেরও প্রেম আছে । সে ছেলেটিকে নিঃশব্দে ডাকে-- ওরে আয়, আয় আয় !

       হঠাৎ একদিন এই নির্জন বৃক্ষের চারপাশ ঘিরে মানুষের ভিড় । পুলিস এলো । এলো এম্বুলেন্স । ছেলেটি সত্যিই গাছ হয়ে গেল । গাছেই বিলীন হল অদৃশ্য আকুতি । কারণ, গাছেরও প্রেম আছে ।

       কিন্তু তার শরীরটা চলে গেল লাশকাটা ঘরে । মেয়েটি তখন হ্যানিমুনে মত্ত নৈনিতালে । বরফ ও উষ্ণতা নিয়ে মাখামাখি খেলছে তার নিজস্ব পৃথিবীতে, আপন মানুষের সাথে ।

     জানা গেল সেই ছেলেটির নাম আবেগ । মেয়েটি মায়া ।

                                             ***

 

 

রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

তোমাকে বলছি, স্বাধীনতা।

তোমাকে বলছি, স্বাধীনতা। 
         -আ,ফ,ম,  ইকবাল॥ 

স্বাধীনতা- 
মখমলের শুভ্র পোশাক পরিহিতা স্বাধীনতা-  কেমন চিত্তাকর্ষক তুমি!  
কত বিস্তৃত তবে ঝলসানো ডানা!  
স্বাধীনতা- পনেরোর রাজপথে  
বিন্যস্ত মিছিলে তোমার পরিচয়?   
স্বাধীনতা- উচ্চাঙ্গ অভিভাষনে 
স্মরণ তোমারে অবশ্যই হয়। 

স্বাধীনতা-
একটি শব্দ মাত্র নয়, 
স্বাধীনতা- অখন্ড আকাশে  
খন্ড খন্ড মেঘে কি হয়  
তোমার আত্মপরিচয়?  
প্রদীপ্ত আকাশখানা  
কখনো যে ঢাকা পড়ে রয়-  
বিশাল ছাদের তলায়  
বিমর্ষ জনতাকে দেখে  
কেন যেন আমার অন্য কিছু মনে হয়! 

স্বাধীনতা- কথা ছিল তেরঙ্গায় মোড়ে  
পৌঁছে দেয়া হবে ঘরে ঘরে-  
ক্ষুধিতের অন্ন,   
বঞ্চিতের বাঞ্ছিত আবরণ,  
ঘুরবেনা পথে পথে  
উলঙ্গ বেদনা, ক্ষুধা, ঘৃণা  
হরেক প্রকারের রক্তিম বেদনা। 

স্বাধীনতা-  
তোমার পোশাক পরা হবে সার্থক  
যখন জননীর নাভিমূল থেকে  
মুছে যাবে সকল ক্ষতচিহ্ন!  
ফুটবে কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী হরেক দাওয়ায়  
স্বপ্নের গোলাপ পাপড়িতে  
নিভৃতে মধুকর করবে গুঞ্জন! 

বলি তাই স্বাধীনতা-  
তুমি দীর্ঘজীবী হও,  
বেঁচে থাকো আমার অস্তিত্বে  
আমার ভালোবাসার পরিমণ্ডলে, 
ফুটন্ত রক্তকরবীর ডালে ডালে; 
একদিন আমরা মানুষ হবো,  
মানবিক চিত্তে জড়িয়ে নেবো তোমায়  
নিষ্কলুষ জননীর বিনয়ী সন্তান-সম। 
            পনেরোই আগস্ট, ২৯২১। 
            হাফলং, আসাম।