“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বুধবার, ২৫ মে, ২০২২

আমি

 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C)Image:ছবি











সৌর করোনা তাপে

ঝলসানো আমি,

শীতলতা খুঁজি

হেমন্ত নদীতে।

বর্ষানদীর জলোচ্ছ্বাসে

হাত বাড়িয়ে দিই

ভেসে যাওয়ার আনন্দে।

বিপুলা নদীর বুকে

সভ্যতা বিলোয় যুগান্তর।

আমার বিশ্বাস, অহংকার,

আবেগ, নিশ্বাস যত

সব মিলায়

তোমারই জলে। 

 

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২

গর্বের রঙধনু















 

সাদা এবং ধূসরে এই বিশাল উদাসীনতার সাগর
জ্বলন্ত মস্তিষ্ক উপকূলে
যদিও শিশুর হৃদয় খেলতে বাধ্য হয়,
যুদ্ধের জন্ম আর হৃদয় ছিঁড়ে যাওয়া ঘৃণা-কল্পনার কাহিনী,
রসায়ন চলে প্যারাডক্সিকেল কথোপকথনে  ।
নিরপরাধ কটূক্তি - বিচ্ছেদের ট্যাগলাইনে
রক্ত ​​ঝরায় বিপথগামী পথে
এখানেই সে উদ্দীপ্ত করে আর আমি তাকে
সমান্তরাল ভালোবাসি, পুরুষতান্ত্রিক যুদ্ধ ছাড়া।

কিন্তু তারপর ........
বৈদ্যুতিক গান আর আত্মার চার্জ ভালোবাসা শেখায়,
কীভাবে গ্রহণ করবো কীভাবে কোমল হব
সবকিছু যাবতীয় বাস্তব আর স্নায়ুচরিত্রে।

আমার ক্লিভেজ শহর এখন বাধ্য চাষাবাদ ছেড়ে ধুতরোর বীজ চিবোতে।
কব্জি কেটে তার নাম ধরে ডাকলাম,
দেখি এই শহরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে বয়সের দেয়ালে
শুধু গুগোল ম্যাপ স্ট্রিট লাইট জীবন কাটায়।

বসন্তের বিনিময়ে ভয়ের শহর নিক্ষিপ্ত আমাদের বন্দি জীবন
চোখ অশ্রুতে আমাকে কাছে রেখেছিল তার টান
 যার সাহসে ছিল স্ফুলিঙ্গ।
কিলিমাঞ্জারো পর্বত শহরকে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দেয় ইতিহাসের উত্তরসূরিরা।

সাহসীরা নিজেদের রক্ষা করে এবং লড়াই করে
কিন্তু আমি রেখেছিলাম
ক্ষমতাহীন ছোট অন্ধকারে নিজেকে বন্দী করে,
 বিচারের আযাবে গোনাহের ক্ষমতা থেকে,
 সাহস-হারা গোপন ভালবাসা 
ঘর থেকে বেরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দেখে,
ভয়ের শহর আর নেই।

আমাদের শহর আর সাদা এবং ধূসরতা হারিয়ে
কিশোর উল্লাসে দৈনন্দিন জীবন 
দেয়ালে রঙধনু আঁকতে ব্যস্ত,
যেখানে আমি তাকে ভালবাসি এবং সে আমাকে,
যেখানে আমি গর্ব করতে শিখেছি,
বিপন্নতার তৃষ্ণা শরীর পেরিয়ে।

রবিবার, ২২ মে, ২০২২

আনন্দ নগর

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।


(C)Image:ছবি














কবিতার কালিতে দেখা স্বপ্ন,
বইয়ের তাকে রাখা তোমার ভাষা,
আমার অত্যন্ত প্রিয় তুমি।
তোমার স্পষ্ট উচ্চারণ,
তোমার রচিত জীবনকথা,
আমায় নিয়ে যায়
আনন্দ নগর।
সেখানে ঝুলন হয়,
ঈদের নামাজ হয়,
দূর্গাপূজো হয় ভক্তিভরে।
আমি সেখানে তোমার সাথে,
শুধু তোমার সাথে
ঘর বাঁধতে চাই।



শেষ কলম


।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

 






ভালোবাসি

তোমার সকল সত্তা জুড়ে।

মন্দবাসায়

প্রাপ্তি শূন্যতা।

হয়তো আছে নিশ্চয়।

কারণ তুমি মানবী। 

এখানেই আমি অসম্পূর্ণ।

অনেক রিক্ততার মাঝে তোমার অনুভূতি

অনন্য প্রাপ্তি।

তোমায় খুঁজে বের করার প্রয়াস

আমার আনন্দ যাপন।

হোক না

ভাষাহীন আদিম পৃথিবীর

আবেগিক অনুভব

লজ্জাবিহীন দিনান্তে।

 




অনুভূতির পাতা থেকে


।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।













ভালবাসার বৃষ্টি গড়ায়
চুল বেয়ে কপাল,
চিবুক ছুঁয়ে, শরীর মেখে
মাটির শেকড়ে।
এই জলে না ভেজা প্রাণ
মেরুপ্রদেশে রাতবিহীন সকাল।
আবার মেঘ ভেঙে
প্রবল তোড়ে
ধেয়ে আসা জলরাশি
ধুয়ে সাফ করে দেয়
জীবনের মায়া,
শুকিয়ে দেয় প্রেমের অনুভূতি।
শেষ বাঁচার রসদে মিলে
কাঁকরযুক্ত মাটি।
ডিমা হাসাওয়ের নিশ্চিহ্ন
হাফলং স্টেশন যেমন দুর্যোগ পরে।
তবু বাঁচে অদম্য মানুষ
নতুন প্রত্যাশায়।


বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

চেতনায় উনিশ


আমি বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি
করি বাংলায় প্রতিবাদ
যখনই করি ব্যথা অনুভব
আমি বাংলায় গাই গান।

 বাংলা আমার মাতৃভাষা
 বাংলা আমার প্রাণ.....
 বাংলা আমায় স্বপ্ন দেখায়
ভাইহারা উনিশ - একুশের গান।

 বাংলা আমার চোখের আলো
 বাঙালি আমার শক্তি
 বাংলা ভাষাকে সম্মান করি
 নেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাংলা আমায় কথা শেখায়
জন্মের শুরুয়াতে
জন্মেছে কত রবি, নজরুল
এই বাংলার ধরা তলে।

বাঙালি তুমি উদীয়মান সূর্য 
গর্বিত ভালবাসা, 
রক্ত ​​এবং আত্মত্যাগে
 একষট্টির পরিভাষা।

বাংলা তুমি শুদ্ধ হয়েছ
প্রতিবাদে রাজপথে
জাতির রক্তে উনিশ মে'
চেতনার অনুভূতিতে।

বুদ্ধির দুর্যোগ

  ।।মিঠুন ভট্টাচার্য্য ।।

(C)Image:ছবি















উন্মাদ প্রকৃতি
শোধবোধ করতে উদ্যত।
সে ঠাই দিয়েছিল কীটপতঙ্গ থেকে
আধুনিক মানুষেরে একদিন।
চিনে নিতে শিখিয়েছিল তার নিয়ম,
আজও অবিরত চলছে
নিয়মের খোঁজ।
সেই ব্যবহার করতে দিয়েছিল
নিজের শরীরের ক্ষুদ্রতম উপাদানকে
বাঁচাতে ও বাঁচতে।
জানিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধায়
বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানের তত্ত্ব।
কিন্তু কিছু লোক শিখল অন্য কিছু।
তারা চাইতে শুরু করল -
সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস
কেটে মাংস খাবে ও
যাবতীয় সোনার মালিকানা পাবে।






বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

একটি আলোক এবং আমি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 ।। জাহিদ রুদ্র ।।
 
 
 
পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে  ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।