“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৩

কার বাপের সম্পত্তি ?


(c)ছবি
         শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠ ( Silchar DSA  ) দেখতে গিয়ে আমরা তিন বন্ধু চরম হেনস্থার শিকার হয়ে গেলাম । আমাদের দূর থেকে মাঠ দেখতে দেওয়া তো হয়ইনি বরং সেখানে আর  না আসার হুমকি দেওয়া হল । আর সঙ্গে অশ্লীল গালিগালাজ ও আমাদের বন্ধু বিশ্বকল্যাণ পুরকায়স্থের উপর হাতাহাতি করতেও ওরা এগিয়ে আসে । আমরা ঘটনার প্রতিবাদ করলে মাঠের ওই দুই কর্মী এই মাঠ তাদের বাপের সম্পত্তি বলে আমাদের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় । শিলচর শহরের সভ্য নাগরিক এবং ছাত্র হিসেবে আমাদের একটাই প্রশ্ন , আজকাল শিলচর শহরের মাঠ দেখতে গেলেও কী অশ্লীল ব্যাবহার ও হাতাহাতির সম্মুখীন হতে হবে ? সেখানে তো আজকাল প্রকাশ্যে দাদাগিরি চলছে ! এ মাঠ কী সত্যি ওদের বাপের সম্পত্তি ? কে তাদের অধিকার দিয়েছে অশ্লীল গালিগালাজ ও হাতাহাতি করার ?
                            
                                           --- রাজেশ শর্মা ,
                                               বিশ্বকল্যাণ পুরকায়স্থ,
                                               সূর্যতপ নাথ ।
      ( লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদক – ‘ পাগলবনে’ কবিতার অভয়ারণ্য )

তুলসী সাঁও

##

যে পথ দিয়ে হেটে যায়
কবি, সে পথ দিয়ে হেটে যায়
আজ দীর্ঘ  মিছিল।

যে সভ্যতা যত্নে তৈরী করেছিল পিরামিড
আজ সেই সভ্যতা ভেঙ্গে খান খান।

এরপরেও বলবে বেঁচে আছি,
ভালোবাসা আছে!

##
গত কদিন ধরে
সুভদ্রার রথের জং
তুলছে কিছু মানুষ।
ঘোড়া গুলির গায়ে লেগেছে সাদা রঙ।

পিচগলা রাস্তায়, নরম হাতে সাদা রেখা এঁকে,
দিক ঠিক করে দিচ্ছে তুলসী সাঁও,
ফোস্কা পড়া এই হাতেই রাতে চুমু খায় পৌরসভার পারিষদ
এরপর বিক্রি হয়ে যায় গণতান্ত্রিক শরীর
সুগন্ধি সাবানের বুদবুদে সমাজতন্ত্রের স্লোগান
গাল দেয় শহীদ মিনার। সহ্য করে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস।

এরপরেও বলবে ভালো আছি!
কিছুই শেষ হয়ে যায়নি!

##
কোর্টের কাগজটা এখনও রান্নার গ্যাসের পাশেই
রাখা আছে, সই করে দাও
নচেৎ টিপ দাও,
এটাও না পারলে কপালের টিপটা
সেঁটে দাও। ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে প্রমান করে দেব
তোমার ঘামের গন্ধ, এটা আমার দেয়া নয়

প্রমান করে দেব সামাজিকভাবেই তোমায় বিক্রি করেছিল
তোমার বাবা,

####
আজ আমি আস্ত সমাজতত্বকেই নোটিস পাঠাবো।
আদালত কাল রাতে তোমার সাথে ঘুমোবে না,
আদরও করবে না, ভাত কাপড় দেবে না।

ভাঙ্গা পিরামিডটা লীজে নিয়েছি,
বিছানার চাদরটা সমাধিস্থ করবো বলে

সেদিন রক্তাক্ত হবে গণতন্ত্র
মেঘ লিখবে কবিতা, আর তুমি বাসর জাগবে
রাতভর।
পরদিন ভোট, বঙ্গোপসাগরের সরকার নির্বাচন।

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

বর্তমান ভারত

         
                                                                                                           ।। সঞ্জীব দাস।।

    ভারত উন্নতশীল দেশ।বর্তমান ভারত অনেক এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তির দিক দিয়েও অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু এই উন্নতি সঠিক অর্থে উন্নতি কি? এখনও ভারতে দরিদ্রের সংখ্যা পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ। এখনও ৪০ কোটি মানুষ রাতে না খেয়ে ঘুমাচ্ছে। কিছু মুষ্টিমেয় লোকের ধনবৃদ্ধি মানে ভারতের ধনবৃদ্ধি নয়। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার মানে ভারতের উন্নতি নয়। এই দরিদ্রতা যতদিন পর্যন্ত দূর হচ্ছে না, ভারতকে সঠিক অর্থে উন্নতশীল দেশ বলা যাবে না। বর্তমান ভারত নানান সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারই কিছু সমস্যার বিষয়ে নীচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
         ১. দরিদ্রতাঃ- দরিদ্রতার দিক দিয়ে ভারতের স্থান তৃতীয়। পৃথীবির ৩৩%দরিদ্রের বাস ভারতে।UNICEF এর মতে ভারত ৪২%শিশু যাদের বয়স ৫ বছরের কম তারা পরিপুষ্টির অভাবে ভুগছে। তাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত কম। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সভাপতি জিম ইয়ঙ্গ বলেছেন অন্যান্য দেশে দ্রুত গতিতে হ্রাস পেলেও ভারতে তা নুন্যতম। এই দরিদ্রতার প্রধান কারণ হল দ্রুতগতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের স্থান দ্বিতীয়।UNCEUS (National Commission for Enterprise in the Unrecognized Sector)এর মতে ৭৭%ভারতীয়ের আয় দিনপ্রতি ২০ টাকারও কম। বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উড়িষ্যা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ,পশ্চিম বঙ্গেদরিদ্রতার হার সবচেয়ে বেশি। যতদিন পর্যন্ত এই দরিদ্রতা হ্রাস না পাবে আমরা ভারতকে উন্নত বলতে পারি না। তাই আমাদের ভারতেউন্নত বলতে পারি না। তাই আমাদের এবং ভারত সরকারের প্রয়োজন দ্ররিদ্রতা হ্রাস করার জন্য ফলপ্রসূ পদ্ধতি অবলম্বন করা।
          ২. শিশুশ্রমঃ- বর্তমান ভারতে শিশুশ্রম অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা। দিন দিন শিশুশ্রমের হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যেখানে উচিত শিশুরা বিদ্যালয়ে যাবে, পড়াশুনা, খেলাধুলা করবে সেখানে ঠিক বিপরীত ঘটছে। অনেক অনেক বড়ো উদ্যগগুলোতে লোকিয়ে বাঁচিয়ে হলেও সেখানেই শিশুশ্রম বেশি হচ্চে। আজকাল চায়ের দোকানে নায্যমূল্যের দোকানে প্রকাশ্যেই হচ্ছে। কিন্তুতাতে সাধারণ জনসাধারণ এবং সরকারের টনক নড়ছে না। এমনকি শিক্ষিত জনসাধারণও এই শিশুদের দিয়ে ওনেক শিক্ষিত ঘরগুলোতে শিশুশ্রম হচ্ছে।The International Labour Organisation (ILO)২০০২ সাল থেকে ১২ জুনকেআন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধিতা দিবস হিসাবে ঘোষিত করলেও এখনও শিশুশ্রম ক্রমেই বেড়ে চলছে। এবছরের এই ১২ জুনেই হায়দরাবাদে একটি অলঙ্কারের দোকান থেকে ৬ জনশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এবং এর পরের দিনই রাজকোট থেকে ১৪ জন শিশুকে একটি অলঙ্কারের কর্মক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যেব১২ জন শিশুই পশ্চিম বঙ্গের। রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি শিশুশ্রম হচ্ছে। ১০ শতাংশ শিশুশ্রম এই রাজস্থানেই হচ্ছে। জয়পুরের ৫০,০০০ শিশুরা যাদের বয়স ৫-১৪ তারা শিশুশ্রমে লিপ্ত। উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশের পরেই এই রাজ্যের স্থান। তাই ভারত সরকারের প্রয়োজন উপযুক্তপদ্ধতি গ্রহণ করা যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে ভারত মুক্তি পায়। এবং আমাদের সাধারণ জনসাধারণের প্রয়োজন এর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। 
            ৩. নারী নির্যাতনঃ- বর্তমান ভারতে নারী নির্যাতন এক ভয়াবহ রূপ। যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছে। নারীদের সম্মানরক্ষা এখন বিপদে। কিছু মানুষেরা যাদের আকৃতিটাই শুধু মানুষের মতো কিন্তু মানবতা তাদের মধ্য থেকে অনেক আগেই লুপ্ত হয়ে গেছে, তারা শুধু নিজের লালসা পূরণ করতে জানে। অকারণেই নিজের অবমানবিক বাসনা পূর্ণ করছে। তাদের মা-বোনও যে নারী তারা কবেই ভুলে গেছে। তারা কোনোদিনও নারীদের সম্মান করতে শিখেনি। যার ফলে নারীরা আত্মরক্ষার ওভাবে ভুগছে।NCRB (National Crime Record Bureau)এর মতে বর্তমান ভারতে প্রতি মিনিতে ২২ টি ধর্ষণজনিত ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হচ্ছে। এই ধর্ষণজনিত ঘটনা দিনে দিনে কেবল বেড়েই চলেছে। ২০১০ এএর সংখ্যা ছিল ১৪,২৬৩ এবং ২০১১ তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫,৪২৩। আজকাল এই শ্বপদরা শিশুদেরকেও ছাড়েনি। তারাশিশুদের সরল অবুঝ মনের সু্যোগ নিয়ে তাদের উপরও নিজের অবমানবিক বাসনা পুর্ণ করছে। শিশু নির্যাতন, শিশুদের যৌনপীড়ন আজকের সমাজে এক জলন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৪৮,৩৩৮ টি শিশুধর্ষণ জনিত ঘটনা থানায় নথুভুক্ত হয়েছে। আবার অনেক ঘটনা আছে যেগুলোথানায় নথিভুক্তই হচ্ছে না। আজকের ভারতে নারীদের বিভিন্ন সরকারি দফতরে, স্কুল-কলেজে, রাস্থাঘাটে যাতায়াত করতে গিয়ে অপমানিত হতে হচ্ছে। তাদের নানা প্রকারন্তরে নানাভাবে অপমানিত হতে হছে। আপরদিকে কিছু কিছু লোকের ধারণা যে মহিলাদের এরকম বিপত্তির জন্য নাকি মহিলারা নিজেই দায়ী তাদের পোষাক আশাকের জন্যে। কিন্তু একটি পোশাক কখোনই একটি নারির গঠন করে না। প্রয়োজন সেইসব লোকের ধারণার পরিবর্তন এবং সেই নরপিশাচদের হাত থেকে নারীদের রক্ষা করা। তাই নারীদের সম্মান রক্ষায় সারা দেশের জেগে উঠার সময়আসন্ন। বর্তমান ভারত এই সকল ভয়াবহ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে যেমন বেকার সমস্যা, শিক্ষিতের হারের অভাব। তাই বর্তমান ভারত উন্নতিশীল হলেও তা অনুন্নতের সামিল।এখনও ভারত খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছে। তাই আমাদের সাধারণ জনসাধারণের প্রয়োজন ভারত সরকারকে দোষারোপ না করে এই সকল সমস্যা দূরীকরণে ভারত সরকারকে উপযুক্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তাহলেই ভারত উন্নতির পথে আরও প্রগতিশীল হবে এবং একটি সুস্থ এবং সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৩

জয় বাংলা

!!সপ্তর্ষি বিশ্বাস !!

মহান এড্‌মিনের পদে করি নিবেদন

“আদর্শ” লিপির কথা কহিব এখন
ফেবুর চরণে করি শতেক প্রণাম
বিচিত্র কাহিনী এই আমি বর্ণিলাম।।


শুনেন শুনেন বন্ধুগণ শুনেন দিয়া মন
ভালো কথা এখান আমি করিব বর্ণন।

সারাদিন ফেবুহীন আছিলাম একা
গু্গুলের ক্রোমে ফেবু যাইলো না দেখা।

কি যে করি দুখে মরি নাহি পাই কূল
ফায়ারফক্স এ অবশেষে যাইলাম ব্যাকুল।

গুণী চাঁদা সুশান্তদা ছিলেন মাতিতে
তাঁরে দেখে আইল প্রান আবার ছাতিতে।

দুঃখের গাথা হইল পাতা, শুনলেন দিয়া মন
ফায়ারফক্সের গুন দিলেন বর্ণন।

লিপি হইলো ডাউনলোড “আদর্শ” যার নাম
বাংলাভাষা এমন খাসা দেখিতে তামাম।

বন্ধু যারা বাংলা ছাড়া চলে না জীবন
এই লিপিতে লিখুন সবে “ঈশানে” এখন!!

আমারে করেন দোয়া লাইক্‌ দিয়া পাতে
তারপরে নিদ্রা যান সুখে আজ রাতে।।

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩

শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৩

সূর্যের নিকটবর্তী নক্ষত্রে তিনটি 'সুপার পৃথিবী' আবিষ্কৃত


(যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত।জুন ২৮, ২০১৩)

।। হিমাদ্রি শেখর দাস।। 



প্রাণের স্পন্দন থাকবে তো?
বিজ্ঞান সাময়িকী 'এস্ট্রোনমি অ্যান্ড এস্ট্রোফিজিক্স'-এ গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হবার পর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু এই প্রশ্নটিই। সম্প্রতি সূর্য থেকে প্রায় ২২ আলোকবর্ষ (২০৭ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে 'গ্লিসে ৬৬৭ সি' নামক নক্ষত্রে পৃথিবীর মত তিনটি বসবাস যোগ্য গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই গ্রহ তিনটিতে জল থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর জল থাকলেই প্রাণ ...।
               এই বিশাল মহাবিশ্বে শুধু পৃথিবী নামক একটি ক্ষুদ্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে সেটা কখনোই মেনে নেওয়া যায়না! অগণিত নক্ষত্র খচিত রাতের আকাশে তাকালেই নানা প্রশ্ন মনের জানালায় উঁকি দেয়। এই মহাবিশ্বে কি আমরা একা? সৌরজগতের বাইরে কি কোনও গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে না? যদি ভিনগ্রহী মানুষ থেকে থাকে, তবে কি অতীতে তাদের পদার্পণ ঘটেছিল এই গ্রহে? বহির্বিশ্বের উন্নত প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কি সম্ভব হবে? প্রশ্নগুলির উত্তরের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন, কিন্তু এর উত্তর আমাদের কাছে আজও অধরা। উত্তর না মিললেও কল্পনার জগতে কিন্তু আমরা রচনা করে চলেছি নিত্য নূতন সৃষ্টি। উপন্যাস, গল্পে তাই আবির্ভাব ঘটেছে ভিনগ্রহী মানুষ বা 'এলিয়েন'-দের যারা নাকি মানব সভ্যতা থেকেও উন্নত। আর্থার সি ক্লার্ক, কলিন হার্ভে, উইলিয়াম হিগস্মিথ ইত্যাদি কল্পবিজ্ঞান খ্যাত লেখকদের কলম থেকে সৃষ্টি হল রোমহর্ষ কারি অবিশ্বাস্য গল্প। সাহিত্যের অঙ্গন থেকে ধীরে ধীরে তাঁদের ঠাই হতে লাগলো সেলুলয়েডের পর্দায়। হলিউডের ম্যাজিক স্পর্শে 'ই টি', 'সুপারম্যান', 'ম্যান ইন ব্ল্যাক' ইত্যাদি মুভি বিশ্বের বাজার দাপিয়ে বেড়াতে লাগল। পিছিয়ে নেই বলিউড...'কোই মিল গয়া' মুভিটিও সবার হৃদয় স্পর্শ করল।
                দূরবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কার রাতের রহস্যভরা আকাশকে নিয়ে এলো কাছে। ধীরে ধীরে মহাবিশ্বের রহস্য আমাদের কাছে পরিষ্কার হতে লাগল। কিন্তু সৌরজগতের বাইরে কোনও নক্ষত্রে গ্রহের উপস্থিতি পরীক্ষামূলক ভাবে প্রমাণ করা যাচ্ছিলো না। আর এর মূল কারণ হচ্ছে দূরত্ব। আসলে নক্ষত্রের আলোতেই আলোকিত হয়ে ওঠে গ্রহ। আর দূরত্ব বাড়লে অতি শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে পৃথিবী থেকে দূরবর্তী গ্রহকে চিহ্নিত করা মুশকিল। তখন পরোক্ষ উপায়ের উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় থাকেনা। বিজ্ঞানীরা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ১৯৮৮ সালে প্রথম সৌরজগতের বাইরে গ্রহের সন্ধান পান। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। বাকিটা ইতিহাস। সৌরজগতের বাইরে নূতন গ্রহের অস্তিত্ব জানার তাগিদেই 'কেপলার'-এর জন্ম। এখন পর্যন্ত ১৩২টি গ্রহ আবিষ্কারের কৃতিত্ব তার ঝুলিতে। ওহ! বলতেই ভুলে গেছি, 'কেপলার' আসলে কোনও মানুষ নয়, সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা 'নাসা' প্রেরিত একটি মহাকাশযান, যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্র। এছাড়াও রয়েছে নানা সূক্ষ্ম যন্ত্রাদি। জার্মানির বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলারের নামানুসারেই তার এই নাম, যাকে গত ৭ মার্চ ২০০৯ সালে পৃথিবী থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তার জয়যাত্রা অব্যাহত। কেপলার বেঁচে থাকলে এই আবিষ্কারের খবরটা পেয়ে উল্লাসে তিনি মেতে উঠতেন সন্দেহ নেই! প্রতি মাসেই নিত্যনুতন গ্রহের খবর কেপলার আমাদের উপহার দিচ্ছে। আর নূতন গ্রহ আবিষ্কার হলেই আমাদের মনে সেই চিরাচরিত প্রশ্ন জাগে-'প্রাণ আছে তো গ্রহটিতে'?
           বিজ্ঞানের তত্ব মতে জল বিনা কোনও প্রাণ টিকে থাকতে পারেনা। তাই কোনও গ্রহে প্রাণ থাকতে হলে তরল জল থাকা আবশ্যক। গ্রহে জল থাকবে কিনা তা নির্ভর করে নক্ষত্র থেকে সেই গ্রহের দূরত্বের উপর। কারণ জল তরল থাকতে গেলে তাপমাত্রা অবশ্যই শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে একশো ডিগ্রীর ভেতরে হতে হবে। আমাদের এই সৌরজগতের খুব কাছের গ্রহ বুধ আর শুক্র সূর্যের খুব কাছে থাকার জন্য জল বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আর পৃথিবীর পরে যে গ্রহগুলি রয়েছে যেমন মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি ইত্যাদি গ্রহে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রী থেকে কম হওয়ায় সেখানেও জল তরল অবস্থায় থাকতে পারেনা। সূর্য থেকে প্রায় পনেরো কোটি কিলোমিটার দূরত্বে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে। আর আমাদের পৃথিবী রয়েছে তেমন দূরত্বে। যে বলয়ের মধ্যে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে তাকে 'হেবিটেবল জোন' বা 'বসবাস যোগ্য বলয়' বলা হয়। বলা-বাহুল্য যে এই সৌরজগতে শুধু পৃথিবীই এই বলয়ের মধ্যে রয়েছে, তাই প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে এই গ্রহে। নক্ষত্রের ভর বেশি হলে সেই বলয়ের দূরত্বও বাড়তে থাকে, আর কম হলে দূরত্ব কমতে থাকে।      
              সম্প্রতি সূর্যের নিকটবর্তী নক্ষত্র 'গ্লিসে ৬৬৭ সি'-তে ছয়টি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই গ্রহগুলির মধ্যে তিনটি রয়েছে বসবাস যোগ্য বলয়ে। আমাদের প্রিয় নক্ষত্র সূর্য ঐ নক্ষত্র থেকে প্রায় তিনগুণ বড় হলেও গ্রহ তিনটি পৃথিবী থেকে কিন্তু সামান্য বড়। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে এদের ভর পৃথিবী থেকে প্রায় তিন থেকে চার গুণ বড় হবে। বসবাস যোগ্য বলয়ে থাকার সুবাদে গ্রহ গুলিতে জল থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর জল থাকলে প্রাণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। কেপলারের এই আবিষ্কারে নাসার বিজ্ঞানীরা উল্লসিত। এ যেন প্রত্যাশা থেকেও অনেক বেশি! বিজ্ঞানীদের পরবর্তী কাজ হবে ঐ গ্রহগুলির গঠন প্রকৃতি আর বায়ুমণ্ডল নিয়ে অধ্যয়ন। এছাড়া ঐ গ্রহগুলিতে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করেও উন্নত প্রাণী আছে কি না এও সন্ধান করা যাবে। আসলে কেপলারের নিত্যনুতন আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদেরও বহির্বিশ্ব নিয়ে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। হয়তো সেই দিন আর দূরে নেই যখন বহির্বিশ্বের কোনও গ্রহে এলিয়েনদের সন্ধান আমরা পেয়ে যা।
কেপলারের এই সাফল্যে নাসার বিজ্ঞানী জন গ্রুনসফেল্ড তো আবেগে বলেই ফেললেন-'কেপলার মহাকাশযান তো বিজ্ঞানের রকস্টার হয়ে উঠল'। আপনারা কি বলেন?

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৩

আমি আর দুধ খাইনা...

সুগ্রীব! না রামায়ণ বা মহাভারতের সেই কাল্পনিক চরিত্র নয়। বানর মুখো শক্তিশালী কোন বীর যোদ্ধাও নয়।
         ত্রিপুরার প্রত্যন্ত মিশ্র জনবসতির এক কিশোর। স্রেফ বিস্কুট চুরি করে খেয়েছিল খিদে সহ্য করতে না পেরে। তাই প্রকাশ্যে গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করে কিছু মানুষ।
         তাদের মধ্যে কে নেই! যুব ফেডারেশনের কমরেড থেকে শুরু করে কংগ্রেস দলের নেতা, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, এবং এলাকার প্রবীণ নবীন সহ অত্যুতসাহী কিছু মানুষ। তাদের সামনেই ঘটেছে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। তাদের উৎসাহেই নৃশংসভাবে নারকীয় উল্লাসে রাতভর তাকে পিটিয়ে মেরেছে কিছু মানুষ।
          তখন বেশ ছোট ছিলাম মনে আছে একবার পাউডার দুধ খেয়েছিলাম চুরি করে, ধরা পড়েছিলাম মায়ের হাতে। মারধোর করেননি, তবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই শেষবার ক্ষমা করে দিলাম। এরপর থেকে আর দুধ খাইনা। আজও খাইনা।
         টাইমস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এবার বিষয় 'দ্য ফেস অব বুদ্ধিস্ট টেররিস্ট' (এক বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর মুখ)। গল্প একটাই বৌদ্ধ আর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের নেপথ্য!
         আমার প্রিয় বন্ধু এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। সকাল এগারোটা। আর কোনদিন জেগে না উঠলেও আশ্চর্য হবো না। কারন, কাল এক কলামের নিউজ হবে পাঁচ বা ছয়ের পাতায়। এইটুকুই। এরপর দিন থেকে সবকিছু আবার ঠিকঠাক চলবে।
          সুগ্রীব নামে যে কিশোরটি মরে গেছে গণপিটুনিতে সে আর কোনদিন বিস্কুট চাইবে না। অথচ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ বিস্কুট ডাস্টবিনে যাবে এবং ফ্যাক্টরি তে উৎপন্ন হবে। রামায়ণ মহাভারতের সুগ্রীব চরিত্রটি বানর এবং কাল্পনিক হলেও তিনি পুজিত। আর আমাদের সুগ্রীব জ্যান্ত মানব কিশোর হলেও তার মৃত্যু হয় গণপিটুনিতে।
            একটি বিস্কুটের দাম ও নেই সুগ্রীবের জীবনের। ঐ ঘটনার পর আমি বলেছিলাম তোমরা তোমাদের ভগবান কে হত্যা করেছো। সুগ্রীব হিন্দুদের দেবতা। তোমরা সবাই হিন্দু।       শুনেছি এরপর সেই এলাকার কিছু মানুষ প্রায়শ্চিত্য করেছে মাথা মুন্ডন করে।
       টাইমস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ নিয়ে সে দেশের সরকার চিৎকার করলেও এটাই সত্যি, মিন্দালেই প্রদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষু ভিরাতুর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন, তাই তিনি আজ টেরর অনেকের কাছেই, বিশেষ করে মুসলিম দুনিয়ায়। আর সেই দুনিয়ায় কাগজের বিক্রি বাড়বেই।
        এবং এটাও আজ সত্যি আমি আজকাল আর দুধ খাইনা। এক চামচ দুধ আমার জন্য, আমার পরিবারে বরাদ্দ থাকতেই পারতো।
       আমিও অনেকদিন দুধ খাইনি, আমিও দেখেছি অনেকেই শিশুর দুধ চুরি করছেন জন্ম হওয়ার আগেই।
আমার যে বন্ধুটি ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে আর জেগে উঠবেনা কোনদিন, তার সাথেও গতকাল রাতে চলেছিল চূড়ান্ত সন্ত্রাস। সভ্য ঘরের আসবাব তার সাক্ষী। যামিনী রায়ের ডুপ্লিকেট ফটো ফ্রেমের কাঁচে সেই সাঙ্ঘাতিক সংঘর্ষের কিছু রঙ এখনও লেগে আছে।
         তার স্বামী এখন অফিসে বসে লেবু চা খাচ্ছেন।
     ঈশ্বর, হনুমান, সুগ্রীব আর আমি একই দেশের ধর্ম আর নাগরিক। আমাদের মৃত্যু বা হত্যা শেষে প্রায়শ্চিত্য তবু হয়। সন্ত্রাসী কোন ভিক্ষু বা সন্ন্যাসী বা মোল্লার জন্যও হয়ে থাকে বিরোধ বা একটি বিশেষ ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিবাদ।
       কিন্তু আমার বন্ধুটির জন্য তা হয়না। কারন আমার বন্ধুটি দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক এবং তিনি মেয়ে এবং রক্ষনশীল হিন্দু পরিবারের।
      কোরান, ত্রিপিটক, রামায়ণ আর বাইবেলে বন্ধুত্বের কোন সংজ্ঞা নেই। মেয়েদের বিপ্লব করারও কোন পথ বাৎলে দেয়া হয়নি।
     তাই দুধ চুরি করে আমি খাবোই। বিস্কুট খাও তুমি। টাইমস তুমি চিৎকার করে যাও প্রচ্ছদে, সংঘাত চলবেই, প্রতিটি ধর্মে, রাষ্ট্রে, ঘরে, মন্দিরে, মসজিদে, বৌদ্ধ বিহারে অথবা বেডরুমে, মানুষ আর সন্ত্রাসীদের।
     সব ধর্মেই দুধ খাওয়ার কথা বলা আছে। তবুও আমি দুধ খাবোনা, কারন আমি আফিং বনে যাইনা, এই পাহাড়ের কাছেই ধার নেই সভ্যতার, পাঠ নেই ভালোবাসার।


চাতলা হাওর ছুঁয়ে গেল সাহিত্যের ঢেউ; ছোট কাগজ প্রতাপ-এর ২য় সংখ্যা উন্মোচন



শিলচর শহরের অদূরে অবস্থিত বরাকবাসীর স্বপ্নের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমাংশ জুড়ে যে বিস্তৃত অঞ্চল বর্ষার সময় জলে টইটম্বুর থাকে এবং শীতের খিটখিটে শুকনো জলাভূমি ধীরে ধীরে সবুজের সমারোহ থেকে সোনালী রূপ ধারণ করে তার নাম চাতলা হাওর। ভৌগোলিকভাবে চাতলার উত্তরাংশ ছুঁয়ে আছে শিলচর শহরকে। চাতলার পূর্ব পার ধরে চলেগেছে শিলচর-হাইলাকান্দি রোড, পশ্চিমাংশ এসে লেগেছে কাঁঠাল রোড এবং হালটিয়া বাগানের সড়কের সাথে। দক্ষিণ দিকে শিলচর-হাইলাকান্দি রোড এবং হালটিয়া বাগানের সড়ক সংযোগী রাস্তাই শেষ সীমানা চাতলা হাওরের। চাতলা হাওরের এই দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত রতনপুর গ্রামের 'ময়নাবাবা' কমিউনিটি হল-এ গত ২৩শে জুন ২০১৩ রবিবার সকাল ১১টায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত হল 'প্রতাপ-সমাজ ও সাহিত্যের প্রতিভাস' এর দ্বিতীয় সংখ্যা। 
                  মনোরম গ্রামীণ পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লোকসঠ্গীত শিল্পী বারীন্দ্র কুমার দাস কর্তৃক উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের পর 'প্রতাপ-সমাজ ও সাহিত্যের প্রতিভাস' এর দ্বিতীয় সংখ্যা উন্মোচন করে প্রাসঙ্গীক বক্তব্য রাখেন রতনপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজকর্মী বেণীমাধব চক্রবর্তী, কবি-সাংবাদিক বিমলকান্তি দাস, পূর্ব আলগাপুর জেলা পরিষদ সদস্যার প্রতিনিধি নবদ্বীপ দাস, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র দাস, আইনজীবী সুবীর চন্দ্র দাস, নীহার রঞ্জন দাস, সমাজকর্মী তপন দাস, দিলু দাস, বিমল দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বীথি দাস, সুলেখা দাস, বিশ্বকল্যাণ পুরকায়স্থ, রাধেশ্যাম দাস, রাজেশ শর্মা, সুশীল দাস, নীলাদ্রী ভট্টাচার্য, শৈলেন দাস ও বিমলকান্তি দাস। রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে শুনান অলকা দাস, বিশখা দাস ও বীথি দাস। অমর ঊনিশের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে যৌথ নৃত্য পরিবেশন করেন স্বরূপা দাস ও নিবেদিতা দাস। এছাড়াও একক নৃত্যে অংশ গ্রহণ করেন বুল্টি দাস, অলকা দাস ও নিবেদিতা দাস। শতাধিক সাহিত্যানুরাগী মানুষের উপস্থিতিতে জমজমাট অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন খগেন্দ্র দাস ও 'প্রতাপ' এর সম্পাদক তরুন কবি শৈলেন দাস।