“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিশ্ব

বিশ্ব

।।    এম রিয়াজুল আজহার লস্কর  ।।

হরেক রকম ধর্ম হেথা হরেক রকম জাতি।
হরেক রকম দিন যে হেথা হরেক রকম রাতি।।
হরেক রকম গাছ যে হেথা হরেক রকম প্রাণী।
হরেক রকম রাজা হেথা হরেক রকম রাণী।।

হরেক রকম ভাষা হেথা হরেক রকম বস্ত্র।
হরেক রকম ত্রাস যে হেথা হরেক রকম অস্ত্র।।
হরেক রকম গুণী হেথা হরেক রকম মন্ত্র।
হরেক রকম গাড়িঘোড়া হরেক রকম যন্ত্র।।

হরেক রকম মত যে হেথা হরেক রকম দ্বন্দ্ব।
হরেক রকম পুষ্প হেথা হরেক রকম গন্ধ।।
হরেক রকম নদী হেথা হরেক রকম নালা।
হরেক রকম সুখ যে হেথা হরেক রকম জ্বালা।।

হরেক রকম আরাম হেথা হরেক রকম ব্যথা।
হরেক রকম নেত্রী হেথা হরেক রকম নেতা।।
হরেক রকম ঝর্না হেথা হরেক রকম বন।
হরেক রকম মানুষ হেথা হরেক রকম মন।।
হরেক রকম ধনী হেথা হরেক রকম নিঃস্ব।
নানান রঙ্গের জিনিস মিলেই উঠল গড়ে বিশ্ব।।

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গ্যাসট্রিক

।। অভীককুমার দে।।

পেটে ভাত নাই,
তারকাঁটার খাঁচা টপকালেই
এয়ার
ইন্ডিয়া !

পাচনতন্ত্র চিবিয়ে খাচ্ছে শরীর।

রাস্তা

।। অভীককুমার দে।।

এই রাস্তা আমার পরিচিত নয়।

বহুরূপী মুখোশ চেনা মানুষের মুখে
যাবতীয় অস্ত্র হাতে
রাস্তা রুখে দাঁড়ায় !

সেদিনের মিছিল শেষে স্বাধীনতা বলেছিল--
এই রাস্তায় কটোরা হাতে খুঁজতে হবে না খাবার
নীল আকাশের নিচে মানুষের ঘর হবে
সব জাতির এক জাত
তিনরঙা কাপড় বুকে
মেতে উঠবে ভারতীয়তায়।

স্বাধীনতার পরেও মিছিল
রাস্তা জুড়ে
ঠিকানা বিহীন মানুষের ভিড়
রাস্তা খোঁজে রাস্তায় !

ফিরিয়ে দাও অধিকার

।। অভীককুমার দে।।

গত সন্ধ্যায় যে পাখি খুঁজে পায়নি বাসা
ঠোঁটে খাবার ওঠেনি

অশ্রু সাজিয়ে ভোর
ঘোলা আলোয় মেঘলা আকাশ গায়
এ মাটি রুগ্ন মাটি...

ভৈরবী বলে হারিয়ে গেছে সুর
উদাস কলি
অসুস্থ মাটিমুখ চেয়ে আধবোজা ভেজা পাপড়ি
গলায় ফোঁটা জল ঢালে !

মাটি বলে, ফিরিয়ে দাও অধিকার
কাল- কোটরে পোড়াকষ্টের পাখি।

খোলা রেখো জানালা

।। অভীককুমার দে।।

দেশীয় ছাদ উড়ে গেলে আটক শিবিরে ঘুমায় স্বাধীনতা।

রক্তের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম...
স্বাধীনতা এসেছে কার, কোন দেশে ?

এ দেশের চোখে কাশ্মীরি বরফের ঘুম
আড়াল স্বচ্ছ তার
রাখি হাতে মৃত্যু লিখছে কেউ !

ধর্মের দড়ি গলায় জন গণ মন
তিন পাড়ে...

এই উপসাগর সূর্য ডুবিয়ে রঙ রেখেছে জলে
একদিন উদ্বাস্তু শিবিরে লাশ পাওয়া যাবে ঠিক
মানুষের,
যদিও শবস্নানের জলে ফুরিয়ে যায় না রঙ;

বোলতা পাখি খোলা রেখো জানালা
এবার লিখতে হবে জাতের ইতিহাস।

আসলে নকল

।। অভীককুমার দে।।

নাটক !
রঙিন আলোয় আলোছায়া মুখ, মায়াবী...

খুঁজেছি, অনেক খুঁজেছি, ভেবেছিও
চলমান নাটক, আসলে নকল।

পাঁচ ফুরিয়ে বছর পাঁচ
জেগেই থাকে মঞ্চ
পায়রা ওঠে নামে।

এক একটি নাটকের পর
দর্শক ময়দানে, পড়ে থাকে বাদামের খোসা !

আত্মীয়তা

।। অভীককুমার দে।।

আমরা একই গ্রামে থাকি
রিফিউজি লতার কোরক থেকে লতানো সম্পর্ক

আত্মীয়তা বেড়ে ঘন, মধুর
গ্রামীণ অথবা পাড়াতো
এ'গ্রাম সে গ্রাম হয়ে যিনি'র ঘরের তিনি, তিনি'র ঘরে সে,
সম্পর্কের বুলি ভুল হয়নি কোনদিন।

এখনও আত্মীয়তা আছে, তবে
আত্মার ভেতর বাস করেন রাজার প্রতিনিধি।

নিয়তির মিহিদানা

।। অভীককুমার দে।।

উপস্থাপন চলছিল,
উপ স্থাপন চলছে,
হয়তোবা এভাবেই, চলবে...
কিন্তু কোন সিদ্ধান্তের দিকে!

এক দর্শন।
দর্শক একক, মধ্যমণি।

একটি মঞ্চ,
দুদিকে দরজা
পর্দায়, অদৃশ্য থেকে ফুটে ওঠছে শরীর, যাবতীয় চরিত্র।
প্রবেশ পথের দরজা খুলে গেলে
দৃশ্য অথবা একটি দিন আঁধার শেষ, কালো দাগ পড়ে।

আঁধার থেকে উপস্থাপন চলছিল যেমন
তেমনি চলছে, যদিও প্রতিস্থাপন বলেন কেউ,
আমি বলি ভিন্নতার শিশু
দিনের আলো নিভে গেলেও খেলা ভোলে না,
কোনও বেসুরো চলন উঠে আসে শুধু
কড়া নাড়ে,
দৃশ্য বদল হলেই স্থানচ্যুত,
শরীর চ্যুতি ঘটে এবং
প্রস্থানের পথ খুঁজে হেঁটে যায় শরীর।

মধ্যমণি টের পায়--
প্রস্থানের পথেই হাঁটছে সব।
আগে- পরের শেকলসময়
পড়ে থাকে স্মৃতি কিংবা চ্যুতিরেখা,
বাকি সব কল্পনা
ভর শূন্য;
ভারি।

ভারি হতে থাকে শরীর
ভাবনায় মেঘের চাতাল
নরম বেড়া
ধোঁয়াশায় উপর খড়
ঝুরঝুরে চাল।
বৃষ্টি আসে
মাটি ভিজে
ভিজে মাটি মাটির পর !
কেবল সরে যায় আর সরে আসে,
এমন সরণ চিতা জ্বালে
চিতা জ্বলে বুকে।
সব জ্বলে ঘোলা রঙ
কিছু ধোঁয়া কিছু ধুলো জেগে
ঘুরতে থাকে আর ছুটতে থাকে।

কোথাও চোখ আছে
দেখছে সব চোখ
চোখের ভেতর উল্টে আছে ছবি।

যদিও চোখের চোখে উল্টো ছবি
ঝুলে আছে ঝুলতে থাকা দোলনায়, তবু
পাপড়ি বোঝে না,
লুকিয়ে রাখে,
গুছিয়ে রাখে গোপনীয়তা।
লাশের ভিড় বাড়ছে
নদী মরছে একটু একটু
একেকটি মঞ্চ ফাঁকা, একা...

একা তবুও একা নয়।
একের পিছে অনেক, শুধু একতা নেই।
এক সূর্য।
এমন অনেক সূর্য হারিয়ে গেছে,
হারিয়ে যায় প্রতি দিন
কত সুকান্ত নিঃশেষ রাস্তায়
কত প্রভাত খুলতে পারে না মুখ!

ফুলের ঘুম ভাঙার আগে উড়ে গেছে যে পাখি
সুবাস নিতে আসে কত লোক
এদের ভেতর সুভাষ নেই
সুভাষ গেছে
কোথাও নেই সুভাষ,
একটিও নেই,
একটিও নেই!
কারও সুভাষ নেই!

এসময় সুবাস ছাড়া কিছুই হয় না,
তখন দেখেও দেখেনি কেউ
এখন জেনেও না জানার অভিনয়
ঘরে ঘরে ষড়যন্ত্রে;
মৃত সব।

সবকিছুই টের পায় মধ্যমণি,
তাই একটি নদী জেগে ওঠে
পাড় ভাঙে বুকের ভেতর
দুভাগ হয়
দুদিক ভাসে
বোবা শব্দ ঝুলে থাকে তার কাঁটায়।

তারকাঁটা আকাশ দেখছে
এদিকের শূন্যতায় থরথর থর মরু,
বুকের ওদিকে জলচঞ্চলতা,
নিচের জল আরও গড়ায় নিচে।
একদিকে পরিচালক অন্যদিকে মধ্যমণি
মাঝে মঞ্চ, অগণিত মঞ্চ
মঞ্চের ভেতর মঞ্চ,
অভিনয়ের অভিনয় এবং বিনিময়।

এ সময় বিকৃত সুখের,
এতে- ওতে গলা কাটা প্রেম।
কেউ খেলছে,
কেউ দেখছে,
চেয়ে দেখি-- হাতে হাত,
হাতের তালুতে বারুদের আলপনা,
মৃত্যু পার্বন।

কিংবদন্তি উইপোকা তুলে রাখে নিয়তির মিহিদানা।