।। অভীককুমার দে।।
নাটক !
রঙিন আলোয় আলোছায়া মুখ, মায়াবী...
খুঁজেছি, অনেক খুঁজেছি, ভেবেছিও
চলমান নাটক, আসলে নকল।
পাঁচ ফুরিয়ে বছর পাঁচ
জেগেই থাকে মঞ্চ
পায়রা ওঠে নামে।
এক একটি নাটকের পর
দর্শক ময়দানে, পড়ে থাকে বাদামের খোসা !
।। অভীককুমার দে।।
নাটক !
রঙিন আলোয় আলোছায়া মুখ, মায়াবী...
খুঁজেছি, অনেক খুঁজেছি, ভেবেছিও
চলমান নাটক, আসলে নকল।
পাঁচ ফুরিয়ে বছর পাঁচ
জেগেই থাকে মঞ্চ
পায়রা ওঠে নামে।
এক একটি নাটকের পর
দর্শক ময়দানে, পড়ে থাকে বাদামের খোসা !
।। অভীককুমার দে।।
আমরা একই গ্রামে থাকি
রিফিউজি লতার কোরক থেকে লতানো সম্পর্ক
আত্মীয়তা বেড়ে ঘন, মধুর
গ্রামীণ অথবা পাড়াতো
এ'গ্রাম সে গ্রাম হয়ে যিনি'র ঘরের তিনি, তিনি'র ঘরে সে,
সম্পর্কের বুলি ভুল হয়নি কোনদিন।
এখনও আত্মীয়তা আছে, তবে
আত্মার ভেতর বাস করেন রাজার প্রতিনিধি।
।। অভীককুমার দে।।
উপস্থাপন চলছিল,
উপ স্থাপন চলছে,
হয়তোবা এভাবেই, চলবে...
কিন্তু কোন সিদ্ধান্তের দিকে!
এক দর্শন।
দর্শক একক, মধ্যমণি।
একটি মঞ্চ,
দুদিকে দরজা
পর্দায়, অদৃশ্য থেকে ফুটে ওঠছে শরীর, যাবতীয় চরিত্র।
প্রবেশ পথের দরজা খুলে গেলে
দৃশ্য অথবা একটি দিন আঁধার শেষ, কালো দাগ পড়ে।
আঁধার থেকে উপস্থাপন চলছিল যেমন
তেমনি চলছে, যদিও প্রতিস্থাপন বলেন কেউ,
আমি বলি ভিন্নতার শিশু
দিনের আলো নিভে গেলেও খেলা ভোলে না,
কোনও বেসুরো চলন উঠে আসে শুধু
কড়া নাড়ে,
দৃশ্য বদল হলেই স্থানচ্যুত,
শরীর চ্যুতি ঘটে এবং
প্রস্থানের পথ খুঁজে হেঁটে যায় শরীর।
মধ্যমণি টের পায়--
প্রস্থানের পথেই হাঁটছে সব।
আগে- পরের শেকলসময়
পড়ে থাকে স্মৃতি কিংবা চ্যুতিরেখা,
বাকি সব কল্পনা
ভর শূন্য;
ভারি।
ভারি হতে থাকে শরীর
ভাবনায় মেঘের চাতাল
নরম বেড়া
ধোঁয়াশায় উপর খড়
ঝুরঝুরে চাল।
বৃষ্টি আসে
মাটি ভিজে
ভিজে মাটি মাটির পর !
কেবল সরে যায় আর সরে আসে,
এমন সরণ চিতা জ্বালে
চিতা জ্বলে বুকে।
সব জ্বলে ঘোলা রঙ
কিছু ধোঁয়া কিছু ধুলো জেগে
ঘুরতে থাকে আর ছুটতে থাকে।
কোথাও চোখ আছে
দেখছে সব চোখ
চোখের ভেতর উল্টে আছে ছবি।
যদিও চোখের চোখে উল্টো ছবি
ঝুলে আছে ঝুলতে থাকা দোলনায়, তবু
পাপড়ি বোঝে না,
লুকিয়ে রাখে,
গুছিয়ে রাখে গোপনীয়তা।
লাশের ভিড় বাড়ছে
নদী মরছে একটু একটু
একেকটি মঞ্চ ফাঁকা, একা...
একা তবুও একা নয়।
একের পিছে অনেক, শুধু একতা নেই।
এক সূর্য।
এমন অনেক সূর্য হারিয়ে গেছে,
হারিয়ে যায় প্রতি দিন
কত সুকান্ত নিঃশেষ রাস্তায়
কত প্রভাত খুলতে পারে না মুখ!
ফুলের ঘুম ভাঙার আগে উড়ে গেছে যে পাখি
সুবাস নিতে আসে কত লোক
এদের ভেতর সুভাষ নেই
সুভাষ গেছে
কোথাও নেই সুভাষ,
একটিও নেই,
একটিও নেই!
কারও সুভাষ নেই!
এসময় সুবাস ছাড়া কিছুই হয় না,
তখন দেখেও দেখেনি কেউ
এখন জেনেও না জানার অভিনয়
ঘরে ঘরে ষড়যন্ত্রে;
মৃত সব।
সবকিছুই টের পায় মধ্যমণি,
তাই একটি নদী জেগে ওঠে
পাড় ভাঙে বুকের ভেতর
দুভাগ হয়
দুদিক ভাসে
বোবা শব্দ ঝুলে থাকে তার কাঁটায়।
তারকাঁটা আকাশ দেখছে
এদিকের শূন্যতায় থরথর থর মরু,
বুকের ওদিকে জলচঞ্চলতা,
নিচের জল আরও গড়ায় নিচে।
একদিকে পরিচালক অন্যদিকে মধ্যমণি
মাঝে মঞ্চ, অগণিত মঞ্চ
মঞ্চের ভেতর মঞ্চ,
অভিনয়ের অভিনয় এবং বিনিময়।
এ সময় বিকৃত সুখের,
এতে- ওতে গলা কাটা প্রেম।
কেউ খেলছে,
কেউ দেখছে,
চেয়ে দেখি-- হাতে হাত,
হাতের তালুতে বারুদের আলপনা,
মৃত্যু পার্বন।
কিংবদন্তি উইপোকা তুলে রাখে নিয়তির মিহিদানা।
।। অভীককুমার দে।।
যে দেশের রক্ত নদী
অধিকার পায় সে যদি
কেন কার গদির নেশা !
নীতি- বা কেমন পেশা ?
কথাদের যাদু আছে
ভগবান উঠছে গাছে,
কপালে তিলক আঁকা
তবুও চলন বাঁকা !
ভক্ত বুঝলো শেষে
স্বপ্ন ধুলোয় মেশে,
যে দেশে গোড়ায় গলদ
সে দেশের শ্রেষ্ঠ বলদ।
কত যে মাশুল দিয়ে
কে তুমি কোথায় গিয়ে ?
ঠিকানা পাই না খুঁজে,
এ ব্যথা স্বজন বোঝে।
এ গোসাই গান ধরেছেন
আপনি ভুল শুনেছেন,
যে বেটা তাল জুড়েছে
সে কেন রাগ করেছে ?
![]() |
| (C)দৈনিক যুগশঙ্খ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ |
![]() |
| (C)Image:ছবি |
।। অভীককুমার দে।।
১.
গদির নেশায় যদি- র খেলা
রাজার গুটি প্রজা,
অভাব যাদের তাদের মারো
এতেই ভারি মজা !
২.
ওই যে শিশু ঢালাই মেশায়
পড়ার কথা ছিল,
ভোটের আগে ভাগে ভাগেই
নেতা বলেছিল।
৩.
ভোটের পরে অভাব ঘরে
কাজের দেখা নাই,
ক্ষুধার জ্বালায় খুশি পালায়
খাবার কোথা পাই ?
৪.
রাস্তার উপর সস্তা প্রলেপ
দোস্ত'র ঠিকাদারি,
ভাগের টাকা মায়ায় ঢাকা
সবটাই সরকারি।
৫.
মন্ত্রী মশাই যেমন কসাই,
গরীবের পেট কাটে।
চাঁদের মাটি এতোই খাঁটি
অভাবে বুক ফাটে !
।। অভীককুমার দে।।
আমার রক্তে এই দেশ,
তোমাকে দিয়েছি
উত্তরাধিকার ভেবে দখল নিতে পারো না।
এই টুকরো মাটির বুকে অসংখ্য টুকরো
মানুষের, দেশ।
একমুঠো ভাত আর একটুকরো কাপড়, তা-ও
কেড়ে নিতে পারো না
যে জন্মেছে
যে জন্মাবে
অধিকার আছে তার।
।। অভীককুমার দে।।
আমার উঠোন জুড়ে শুকোতে দিয়েছি ধান
তোমাদের কালো মেঘ রোদ ঢেকেছে হঠাৎ !
গিরগিটির মতো রঙ বদলে ভিজিয়ে দিচ্ছে সুখ
গলে যাচ্ছে মাটি
অসমের কাদায় ঢেকে যাচ্ছে সোনালী ধানের মুখ।
তবুও আশা ছাড়িনি,
জানি, আবার গাছ হবে নতুন করে।
হয়তো আরও কিছুদিন...
হয়তো মাঠের বদলে উঠোন,
যে ধান শুকোতে পারেনি বলে মেটেনি ক্ষুধা
খোলা করেই শুকোতে দেবো তখন।