।। অভীককুমার দে।।
সারাজীবন ধরেই লড়াই চলছে
লড়াইয়ের মানে বুঝে নিতে চেষ্টাও চলছে,
জীবনটার পেটের ভেতর খাবার ফুরিয়ে গেলে
দিন শেষে কিছুই থাকে না বিশেষ
এক একটি দিন কেটে যায় অবান্তর,
লড়াই চলছে...
।। অভীককুমার দে।।
সারাজীবন ধরেই লড়াই চলছে
লড়াইয়ের মানে বুঝে নিতে চেষ্টাও চলছে,
জীবনটার পেটের ভেতর খাবার ফুরিয়ে গেলে
দিন শেষে কিছুই থাকে না বিশেষ
এক একটি দিন কেটে যায় অবান্তর,
লড়াই চলছে...
।।অভীককুমার দে।।
হে অর্জুন, দাস হয়ে কেন ! এত শুভেচ্ছার কী প্রয়োজন ? যিনি অকৃতজ্ঞ তার আবার ত্রিকালের সমগ্রতায় সাধ কেন ! তিন শতাব্দীর খবর জানেন না যিনি ত্রিকালদর্শী ! হনুমান হবার ইচ্ছে জেগেছে বুঝি ?
হে অর্জুন, তুমিও বোঝো, শো- ম্যান নিজেই কুঁজ, প্রদর্শনী। মরার অমরত্ব হয় না, অমরত্ব হয় কাজের।
হে অর্জুন, দাসত্ব কেন ! চোখ ভেদ করার যুগ নেই এখন। তীরন্দাজী করতে হলে লক্ষ্যভেদ জানতে হবে। ত্রিকাল নিয়ে গেছে সত্য ত্রেতা দ্বাপর। এখন কলি। পায়ে পায়ে কৃতজ্ঞ খোঁজার চেয়ে মহাপ্রভুর মত দুহাত উপরে তুলে পথ খুঁজুন, অন্ততপক্ষে কুরুক্ষেত্রের মত যুদ্ধ হবে না।
হে অর্জুন, কলির লোভ গিলে অন্ধ হয়ে গেলেন ? বিবেকের কোথাও বিন্দুমাত্র আলো যদি থাকে, দেখুন-- শো- ম্যান কুঁজ ত্রিকালদর্শী নয়, সাধকও না। প্রদর্শনীর ভেতর নিজেও দৃশ্যমান নৈবেদ্য, আপনার মতই।
রফিক উদ্দিন লস্কর
আজ তিথি জন্মাষ্টমী তাই মহা ধূমধাম,
শোভিত মন্দির আর ভক্তের কৃষ্ণনাম।
পাড়ার এয়োরা উপবাসী সমস্ত দিন,
আপনমনে কৃষ্ণধ্যান, কৃষ্ণনামে লীন।
দৈববাণী হয়েছিলো কংস নরপতিরে,
দৈবকীর অষ্টম গর্ভজাত বধিবে তারে।
রাতদিন কংস রাজা চিন্তিত অন্তরে,
কবে অশনিসংকেত দৈবকীর উদরে।
লৌহ আবেষ্টনীতে কংসের কারাগার,
বন্দি দৈবকী তাতে, আছে পাহারাদার।
ঘুমের আবেশে যখন কারারক্ষীগণ,
দৈবকির কোল আলো শ্রীকৃষ্ণ তখন।
কৃষ্ণ যখন জন্ম লভে কংস কারাগারে,
স্বর্গ হইতে দেবগণে পুষ্প বৃষ্টি করে।
জনক বসুদেব ছিলেন চিন্তায় মগন,
কি করে রক্ষিবেন প্রাণের কৃষ্ণধন।
অঝোরে বরিষা ঝরে রাত্রি অন্ধকার,
বসুকি তার সহস্র ফণা করে বিস্তার।
পাশবিক সকল শক্তি করিতে দমন,
স্বর্গ হতে দ্বাপর যুগে হলো আগমণ।
যমুনা পারাপারে আসেন শৃগাল বাহন,
যশোদার কাছে কৃষ্ণকে করতে অর্পণ।
রফিক উদ্দিন লস্কর
ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে
সবুজ কোনো বনে,
সঙ্গ দিতে শীতল বায়ের
গাছগাছালির সনে।
তলিয়ে যেতে ইচ্ছে করে
নীল সাগরের জলে,
চুপটি করে শুনবো কথা
ঝিনুকেরা যা বলে।
ইচ্ছে প্রবল মিশে যেতে
রাতের অন্ধকারে,
কষ্ট নিয়েও থাকবে হাসি
অধরের দুই ধারে।
Proud of my Parents, friends and relatives, my tradition, my believes, my identity.
।। অভীককুমার দে।।
ঘরে বসে আছেন গুরু। বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। দেখারও সুযোগ নেই। শুনেছি, ঘরের ভেতর একটি প্রদীপ জ্বলছে। গুরু একদৃষ্টে চেয়ে থাকেন শিখা।
বাইরে শিষ্য সমাবেশ। মনমতো আয়োজনের পর চোখের জল ঢেলে বিদায় হচ্ছে একে একে। অন্যত্র আবার, বদলে নিচ্ছে গুরুমুখ এবং অমাবস্যায় জড়িয়ে পড়ছে গুরুমস্তিষ্ক।
ভেতর দেয়ালে গুরুর ছায়া গুরুর পিঠ দেখছে; অথচ বুকে পূর্ণিমার আলো নিয়ে গুরু গম্ভীর।
।। অভীককুমার দে।।
আপনার লাগানো গাছগুলোর দিকে দেখুন,
দেখুন, করাতের ধারালো জিহ্বায় প্রতিনিয়তই কেমন কাঁপছে,
চোখের উপর চোখের পোড়া দৃষ্টি এসময়,
তাই প্রায়ান্ধকার স্বপ্নগুলো মুছে ফেলতে পারেন বরং;
কত আর খোলা রাখবেন চোখ !
আপনার লালিত গাছের মতই প্রতিটি নতুন চারা
একেকটি শিশু
মানুষের জন্য
নারী হতে চায় অথবা পুরুষ,
অথচ দেখুন, মানুষগুলোই নির্বাক গাছ হয়ে উঠছে !
এমন মানুষগাছে কেবল স্বার্থই ফলে।
কাণ্ডজ্ঞানহীন কাণ্ডের ভেতর চোর থেকে ধর্ষকের আঠালো কষ
মাটি শরীরের ছেঁড়া অন্তর্বাসের অভ্যন্তর দেখছে, অথচ
এই ভাঙা বুকে কেঁদে ওঠা ভায়োলিনের সুর কেউ শোনে না !
সব গাছ কাটা হয়ে গেলে
উপড়ে ফেলার মত জীবনই তো থাকবে শুধু,
শিকড়ের সাথে ভাষণের দড়ি বেঁধে নিতে দিন, ফাঁস হবে।
কত আর খোলা রাখবেন চোখ ?
মরুযন্ত্রণা নিয়েই প্রায়শ্চিত্ত হোক পৃথিবীর
মানুষ নামক অমানুষ গড়েছে বলে।