“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০১৭

হে গুয়াহাটি!

              
        ।।রফিক উদ্দিন লস্কর।।

















তোমার কোলে আসিবার এতোই সাধ
পূর্ণ করেছো হে গুয়াহাটি,
তুমি ধারণ করে আছো সবুজ বনানী
মহাবাহু আর পাথুরে মাটি।
হে গুয়াহাটি! কল্পনার জগতে থাকতে
শুধুই তুমি আমার দিনরাত,
বাস্তবে দেখিতে তোমায়, আমার যে হয়
অনিদ্রায় রাতের পরে প্রভাত।
কতো হেরিলাম, কতো ঘুরিলাম তোমাতে
তবুও আমার ভরে নাহি প্রাণ,
ছোট বড়ো পাহাড় নন্দিত রূপ রয়েছে তব
কতো অচেনা বৃক্ষ,পাখির গান।
মনের টানে কাজের টানে আসি বারবার
আমি আমার সাতবোনের দেশে,
কষ্ট হলেও আমার মনে মন্দ লাগেনি কভু,
অনিন্দ্য রূপস্রোতে যাই যে ভেসে।
যা দেখে আমার আঁখি সাধ্য নেই বর্ণনার
মিশেছে আকাশে সে দৃশ্য অপরূপ!
চায় মন ধরে রাখে আঁখি আহা!কি বাহার!
নীরবে কথা কয়,মন থাকে নিশ্চুপ।
তুমি সুন্দর, তোমার আছে অপরূপ সৌন্দর্য
বারে বারে ডাকিবে আমায়,
আমি পৃথিবীর যে প্রান্তে থাকিনা কেনো
ভুলিতে পারিবনা তোমায় ।
০২/০৫/২০১৭ইং
যাত্রাকালে ট্রেনে,( লামডিং,আসাম)

সোমবার, ১ মে, ২০১৭

১০ মে,১৭ থেকে ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে তিনসুকিয়াতে লোক উৎসব



            ১০, ১১, ১২ মে ২০১৭তে তিনদিনের "লোক (ফোক) উৎসব' হতে যাচ্ছে তিনসুকিয়াতে।আয়োজন করছে ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক মঞ্চের নবগঠিত তিনসুকিয়া শাখা। উৎসবের দুই ভাগে প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনে দুই বেলা এবং তৃতীয় দিনে সকাল বেলা হবে বাউল গানের কর্মশালা।  প্রশিক্ষণ দেবেন লক্ষণ দাস বৈরাগী, তপন দাস বাউল এবং টিনা ঘোষাল মজুমদারশেষ দিনে তাঁরা বাউল গানের একটি অনুষ্ঠানও করবেন জেলা গ্রন্থাগার মঞ্চে। তিনজনই আসবেন পশ্চিম বাংলার থেকে। কর্মশালাটি হবে দুর্গাবাড়ির ত্রিতলে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের , তিনসুকিয়া শাখা কার্যালয়ে।  কর্মশালার আবেদনপত্রের  এখানে নিচে রইল।

প্রথম দুদিনে কর্মশালা হবে সকালে ১০টা থেকে দুপুর ১টা অব্দি, বিকেলে ৪টা থেকে ৭টা অব্দি। স্কুলছাত্ররা শুধু বিকেলের অধিবেশনে যোগ দিলেই পারেন। যদিও শেষদিনে কোনো বিকেলের অধিবেশন থাকবে না। কর্মশালাতে অংশ গ্রহণের মাশুল আটশত     ( ` ৮০০/- ) টাকা। আশা করা হচ্ছে তিনসুকিয়া ডিব্রুগড় জেলার লোক সঙ্গীত শিল্পীদের অধিকাংশই এই কর্মশালাতে যোগ দেবেন। সেরকম যোগাযোগও করা হচ্ছে।

শেষদিনের অনুষ্ঠানে কর্মশালার অংশভাগীরা তো বটেই আমন্ত্রিত প্রশিক্ষার্থী শিল্পীরা ছাড়াও কিছু স্থানীয় শিল্পীরাও আমন্ত্রিত রয়েছেন। অনুষ্ঠানের প্রবেশ পত্র এবং অন্যান্য দরকারে আগ্রহীরা ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক মঞ্চের সভানেত্রী ডাঃ তুহিনা ভট্টাচার্য এবং সম্পাদিকা শতাব্দী গাঙুলি এবং অন্যান্যদের সঙ্গে এই কয়েকটি  নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন: 
৮৭২৪৯২৯৫০৬, ৯৮৬৪২৬৩৩৩৭, ৯৪৩৫৫২৭৯৬৪, ৭৬৩৮০৭২২৫৬,৮৮২২৮৯০০৯৫, ৮৪৮৬৮৬৪৪৫


ব্রেক-আপ

  ।। মধুমিতা নাথ।।


























সেই সময়ের সঙ্গে কথা হয়নি হয়তো বা ---
শূন্যতায় থেমে যাওয়া

পেট্রল-পাম্পের বিশাল কিউতে সন্ধ্যে গড়ায় , ভিড় বাড়ে
বস্তি উচ্ছেদের পর ফুটপাতে ঘুমিয়ে অভ্যস্তরা
প্যাকিং বাক্সের টুকরো জড়ো করে যে যার মতো ,
মায়ের শুকনো স্তন চুষে
ক্লান্ত অবোধ শিশুর গোঙানির আওয়াজও থেমে গেছে

ব্রেকিং নিউজ ----
ধর্মের নামে বলি হলো আরো দুই ,
সামাজিক সালিশি সভায়
প্রকাশ্যে বেঁধে জুতোপেটা করা হলো যে মেয়েটিকে ---
এই ভর সন্ধ্যায় তার চোখে আর জল ঝরে না

চৌমাথার মোড়ে তার্কিক আড্ডা
নিজেদের ভোটে জেতানো জননেতার আদ্যশ্রাদ্ধ
সঙ্গে মসলা-টি

কর্পোরেট অফিসের
দশটা-সাতটা স্থির বেতনের ডাটা-এন্ট্রি-অপারেটর ছেলেটি বাসস্ট্যান্ডে
দিনের খাটুনি সেরে ঘেমো গায়ে ডিওডোরেন্ট মেখে
প্রতীক্ষায় ---- প্রেমিকা আসবে ...
তিরিশ এপ্রিল
পকেটে এখনো
সিগারেট এর বরাদ্দ বাঁচানো কড়কড়ে পাঁচশ
অভিমান ভাঙাতে দামী রেস্তোরাঁ চাই

নিথর সময়ে আধুনিকতার টুং টাং ---
"সরি ,
 আসছি না
 পার্টি দিচ্ছি বন্ধুদের নিয়ে
 সেলিব্রেটিং ব্রেক-আপ উইথ ইউ ..."

             ----------------//------------


শেষ কথা


 ।। সুরজিৎ মণ্ডল ।।

(C)Image:ছবি













খন কষ্ট নিয়ে বাঁচতে শিখেছি,
সুখের আশা করিনা,
তাই আর তোমার ফেরার আশায়
ক্ষণে ক্ষণে মরিনা।
দুঃখ করিনা যে তুমি চলে গেলে,
বরং আমি সুখী তুমি গেছ বলে।
বলে গেছ,
মানুষ তো মানুষ হয়না,
রক্ত মাংসের তৈরি বলেই সবারে
তো আর মানুষ কয়না।
ভুল ধারনা করে নিজেকে মানুষ ভেবে,
পেয়েছি প্রতিঘাত,
যদিও আমি হই মানুষ,
দেখো দুজনের মধ্যে কতটা তফাত।
রেখেছ যদিও আমায়
ভালোবাসাহীন,
তবু চুকিয়ে দিতে চাই আজ কিছু ঋণ।
সেই পথ গুলোকে আজ ধন্যবাদ দিতে চাই,
যেই পথ দিয়ে হেটে গেলে আমি আজও তোমার পদধ্বনি শুনতে পাই।
আজ ধন্যবাদ দিতে চাই সেই ভাষাকে,
যে তোমার সম্মুখ ফুটিয়েছিল
আমার মনের আশাকে।
শেষ বারের মতো কিছু বলতে চাই
রেখে দিও বুকে,
আর যদি ইচ্ছে হয়,
ফেলে দিও ডাস্টবিনের মুখে।
সিঁথিতে কারো নামের সিঁদুর
যেদিন তুমি নেবে,
সেদিন হোয়াটসঅ্যাপে
একখানা ছবি আমায় দেবে?
পা দুখানা যেদিন তুমি
আলতার রঙে রাঙাবে,
প্রথম পরশ মনে মনে
আমার বুকে লাগাবে?
চলতে চলতে যেদিন
আমি থমকে যাবো শেষে,
এক ফোটা অশ্রুকণা
ফেলবে তুমি এসে?
তোমাকে ভালোবেসে
অবহেলা পেলাম যবে,
সেদিন থেকে প্রার্থনা করেছি,
তোমার দিন গুলো
যেন কাটে কলরবে।
ঈশ্বরকে আমি বলি,
তুমি সবই করেছ ভুলে,
দুঃখ যেন তোমার পেতে না হয়,
আমায় দুঃখ দেওয়ার ফলে।