“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

যে ক'টা দিন পৃথিবীতে ৷৷ ত্রয়োদশ পর্ব

 

(C)Imageঃছবি

  ।। মিফতাহ উদ-দ্বীন।।

।। ১৩।। 

 

-- বাবা, আসরের সময় তোমার আব্বার পরিচয় দিতে গিয়ে নীলগঞ্জ হাই মাদ্রাসা বলতে গিয়ে হাইস্কুল বলে ফেলেছি ভুলে ভুলে। 

রাতে খাবার টেবিলে বসেই শ্বশুরমশাইয়ের এই সামান্য ব্যাপারটাতে  অনুশোচনার স্বর আমার বেশ ভালো লাগল না। মনে মনে বললাম,"আরও লম্বা করে দিতেন পরিচয়।আমার দামাদ বললেই তো হত। বা বড়জোর মধুপুরের জামান সাহেবের ছেলে।"

 

-- ঠিক আছে আব্বা, অসুবিধা নেই...

 

আসলে আমার আব্বার সাথে আমার শ্বশুরের তেমন পূর্ব পরিচয় নেই। আমার শ্বশুর একটু কম কথার মানুষ। আমাদের বিয়ে উপলক্ষেই আব্বা সম্বন্ধে জানা হয়েছে।আর জানার পর থেকেই যেন একরকম অনুরাগী হয়ে গেছেন আব্বার। জানি না ঠিক কী এমন জানলেন, যে জামান সাহেবের ছেলের সাথেই উনার মেয়েকে বিয়ে দেবেন বলে মন ঠিক করে রেখেছেন। কথাগুলোর কিছুটা ঠাহর করতে পেরেছি ওয়ালিমার দিন মতিন চাচার সাথে আমার শ্বশুরের আলাপচারিতার সময়। 

-- বাবা, সব কিন্তু খেতে হবে! তোমার মা'র রান্নার মত হয়তো নাও হতে পারে। 

শাশুড়ি মা'য়ের কথায় এবার মুখ তুলে দেখলাম আমার এই নতুন মা'কে। সেদিন চোখটা বেশ জলে ভেজা ছিল, আজ ভারী উজ্জ্বল। শুনেছিলাম শাশুড়িদের দামাদের প্রতি একটু বেশি-ই দরদ থাকে, এখন সেটা প্রত্যক্ষ করছি। 

-- জ্বী, জ্বী সব খাব। 

এরই মাঝে নাদিয়া বোয়ালের একখান বড় কুর প্লেটে তুলে দিল। 

নাদিয়ার দিকে চোখ দু'টো বড় করে তাকাতেই সে মুখ দিয়ে একটা ভেংচি কাটল যেন!

আসলে একটা আইটেমের উপর আরেকটা আইটেম ঢেলে দেয়াটা আমার পছন্দ না। সে জন্য অনেক সময় বিয়ে বাড়ি বা দাওয়াতে গিয়ে আমার খুব রাগ হত। একটা ভালো করে টেস্ট করতে না করতেই আরেকটা ঢেলে দেবে, মজা টা-ই হারিয়ে যায়, তাছাড়া ঘরে ফিরে কোন আইটেমটা বেস্ট হয়েছে কুইজটা'র ও ঠিকঠাক উত্তর দেয়া যায় না। আর এখানে যেহেতু আমার মা'য়ের রান্নার সাথে একটা অস্ফুট তুলনা এসেই গেছে, তখন তো আরও ভালো করে যাচাই বাছাই করা দরকার। 

-- আচ্ছা, এখন তো নীলগঞ্জ হাই মাদ্রাসাটা নাম পাল্টে হাইস্কুল হয়ে গেছে তা-ই না?

আমি দেখলাম আব্বা এখনো সেখানেই রয়ে গেছেন। 

-- জ্বী। 

-- আহহ! আর কত? সে-ই যে শুরু হল...

আব্বার এমন কথায় মা যেন কিছুটা আঁচ করতে পারলেন। ইশারায় দেখলাম ট্রেক চেঞ্জ করার অনুরোধ করছেন। 

আমি তাঁদের এই মূক অভিনয়ে একটা থ্রিলারের গন্ধ পেলাম যেন। মনে মনে বললাম, আজ শ্বশুরমশায়কে কথা বলিয়েই ছাড়ব। রাত হোক। 

 

উঠোনে দাড়িয়ে বাড়ির আরও দু একটা ঘরের দিকে ইশারা করে দাদার আমলের সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারার হিসেব নিকেশ দিচ্ছেন বেশ আগ্রহের সাথেই। আমি শুধু শুধু জ্বী জ্বী করে যাচ্ছিলাম, যেহেতু এসবে আমি কোন ইন্টারেস্ট পাই না। 

 

-- মশারি টাঙ্গিয়ে দিয়েছি। 

বারান্দা থেকে নাদিয়ার এমন আওয়াজে টের পেলাম দামাদশ্বশুরের এই অকাজের আলোচনা তাঁর ও ভাল্লাগছেনা। আমি আমার ফুচকা খাওয়ার রুমের বিছানাটা ডাবল বেডের না সিঙ্গেল বেডের ছিল ভাবছি তখন। সে কি আমার সাথে শুবে আজ রাতে! আব্বা আর আমি দু'জনেই ঘরে ফিরলাম।আব্বাও আমার পেছনে পেছনে আমার থাকার রুমে। নাদিয়াকে দেখলাম একটু বিব্রত চেহারায়! কিছু বোঝার আগেই সে বলল,আব্বা, আপনার গরম পানি আর ট্যাবলেট রেখে এসেছি টেবিলে। বুঝলাম যে নাদিয়া আব্বাকে এই বেলা আমার থেকে দূরে রাখতে চাইছে,যিনি সারাদিনই প্রায় আঠার মত আমার সাথেই লেগে আছেন। কিন্তু বুঝলাম না যে ওর এত তাড়া কিসের? সে তো এখানেই শুবে! 

 

আব্বা যেতেই সে কিছুটা কাছে এসে ইতস্তত দাঁড়িয়ে রইল। 

-- সারাদিন মিস করেছি আপনাকে! 

এবার আমি ইচ্ছে করেই আমার ভুবনজয়ী হাসিটা লুকিয়ে কিছুটা অতি ভদ্র হওয়ার চেষ্টা করলাম। মনে মনে এমনিতেই তো সেই ভুবনজয়ী হাসির কারণটাকে রাত্তিরে সুদে মুলে উশুল করব। এখন একটু মজা করি! অথচ আমাকে অবাক করে সে পানির বোতলটা দেখিয়ে বলল, গেলাম। 

-- কী? 

-- জ্বী না, আমি মায়ের সাথে ঘুমব। বলেই চলে গেল। 

আমি দেখলাম আমার থেকে আরেকটা আনিস বের হয়ে আমার সামনে দাড়িয়ে আমাকেই একমনে তিরস্কার করে যাচ্ছে...

-- আরও স্মার্টনেস দেখাও, আরও খেয়ালি পোলাও বানাও, লুজার! 

"ইশ, অন্তত একটা হাগ প্রাপ্য ছিল ওর!" ভাবতেই টের পেলাম আব্বার আগমন! 

 

ক্রমশ: 

 

#যেকটাদিনপৃথিবীতে

 

যে ক'টা দিন পৃথিবীতে ৷৷ দ্বাদশ পর্ব

।। ১২।। 

 

(C)Imageঃছবি

-- থাকেন, কী আর  করবেন বাড়ি গিয়ে! কত  আদর  আপ্যায়ন করছেন আপনার শ্বশুর। কপাল বলে কথা! 

-- হুম! কপাল!

আমি ভাবছি, ব্যাটা বুঝল কী ভাবে আমি থেকে যাওয়ার কথাটাই বলতে চাচ্ছিলাম, আমি তো শুধু বললাম, ‘নাসির চাচা...’ কথাটা পুরো করার আগেই তিনি বাড়িতে কাজ নেই, এখানের আপ্যায়ন, শ্বশুরের আদর  সব গড়গড় করে বলে ফেললেন। আমার কপাল পর্যন্ত বলে ফেললেন। তাছাড়া শ্বশুর বাড়িতে থাকাতে আমি যদিও খারাপ কিছু দেখি না, তবু প্রথম বার এসেই...ব্লা ব্লা টাইপ বিশেষণ গুলো যাতে নাসির চাচা মারফৎ গ্রামে না ছড়ায় সেই জন্যই চাচ্ছিলাম নাসির চাচাকে একটু বুঝিয়ে বলব থেকে যাওয়ার কারণটা। কিন্তু নাসির চাচা সেসব শোনার আগেই যেভাবে কনক্লুশ্যন টানলেন, ভাবলাম দেই আমিও কনক্লুশ্যন টেনে। বললাম, আসরের জামাতটা পড়েই না হয় বের হও।

 

আসরের জামাতটা মসজিদে পড়েই নাসির চাচা বিদায় নিলেন। মসজিদের কিছু কিছু মুসল্লীর সাথে আমার শ্বশুর আমার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, যাদের বেশিরভাগই একটু বয়স্ক গোছের। ওয়ালিমাতে এঁদের দু একজনকে হয়তো দেখেছি, ঠিক মনে পড়ছে না এখন আর ।

 

-- আমার দামাদ, নীলগঞ্জ হাইস্কুলের সায়েন্স টিচার নুরুজ্জামান সাহেবের ছেলে আনিসুজ্জামান! 

-- বাড়ি মধুপুর না?

-- আহ, জামান সাহেব, কত ভালো মানুষ তিনি। 

-- জামান স্যারকে চেনে না এমন লোক এই জেলায় কম আছেন।

-- কত  ছাত্র স্যারের, আজ  বড় বড় চাকরিতে।

-- আলেমদের বড় ইজ্জত দিতেন। কত মাদ্রাসায় জামান সাহেবের অবদান।

আমি আলিম উদ্দিন সাহেবের প্রথম বাক্যটিতেই ভাবছি ক’টা বিশেষণ ছিলো! বাকীদের কথাগুলো সমবেত আকারে আমাকে তাওয়াফ করছে যেন! 

-- তাঁর শরীর সুস্থ আছে তো? কতদিন দেখি না!

আরেকজন বলে উঠলেন। আমি ভাবলাম হ্যাঁ, এটাতে জবাব দেয়া যায়। 

-- জ্বী, ভালোই আছেন আলহামদুলিল্লাহ! 

 

সন্ধ্যার পর এক পশলা বৃষ্টিতে আবহাওটা বেশ ঠান্ডা। আমি একা শুয়ে আছি একটা ঘরে। নাদিয়ার দেখা সে-ই একবার আসরের আগের মিটিংয়ে! মিটিং বলতে ওই শ্বশুর শাশুড়ির থেকে যাওয়ার আব্দার, আর  নাদিয়ার বিভিন্ন তেলেভাজা জিনিসের আইটেমের ইশারার এড! বিজ্ঞাপন যাকে বলে। এই মেয়েটা দেখছি বাপের বাড়িতে এসে বেশ ছটফটে আর  সতেজ হয়ে উঠেছে। ধরে রাখা মাছ পানিতে ছাড়লে যেমন ফুড়ুৎ দিয়ে মিলিয়ে যায়, আবার দেখা ও দেয়, তেমনি। মনে মনে তখনই ভেবে রেখেছিলাম, হাতের নাগালে মাছটাকে পেয়ে যাই, দেখাব মজা!

 

আমি আসলে আব্বা আম্মাদের আব্দারকে না করতে পারিনি। আমার কেমন জানি একটা অদ্ভুত মায়া লেগে গেছে এই দু'জন মানুষের প্রতি। ওয়ালিমার দিনে মায়ের সাথে ভালো করে কথাও বলা হয় নি, সে হিসেবটা ও পুষিয়ে দিতে হবে! সারাক্ষণ শুধু আপ্যায়নের মাঝে থেকে তারপর হঠাৎ করে বিদেয় নেয়াটা আমার কেমন যেন অনুচিত মনে হল। অন্ততঃ শান্তিতে বসে কিছু আলাপচারিতা করা প্রয়োজন। তাছাড়া আমি কোনোকালেই কোনো প্রস্তাবকে না করতে পেরেছি, এমন ঘটনা নাই বললেই চলে। মানুষকে দেখতাম আমাদের ঘরে এসে কী সুন্দর ইন্সট্যান্ট বাহানা দিয়ে খাবারের আয়োজনকে না করতে, মাত্র খেয়ে এসেছি, দুই বেলা খাই, ইনসুলিন নিচ্ছি টাইপ হাজারো বাহানায় মানুষ কত অভ্যস্ত। অথচ আমাকে কেউ খাওয়ার কথা বললে, আমি না খাওয়ার কারণ খুঁজে পেতাম না। আমি আশ্চর্য হতাম, এ জগতে আমিই কি একমাত্র বেকার, যার কোনো কাজ নেই, তাড়া নেই, বাস স্টপে কেউ অপেক্ষায় নেই! আমি যদিও খেয়ে আসতাম, কিন্তু খেতে খেতে ভাবতাম ঘরে গিয়ে এটার জাস্টিফিকেশন কী দেবো। মা যদি বলেন, তুই অসুস্থকে দেখতে গিয়ে কীভাবে খেয়ে এলি বল?, কিম্বা কেউ বললেই রাজি হয়ে যাবি? আমি এসবের উত্তর খুঁজে পাই না। আজ ও অধরা আমি সেসব অতীব জরুরি সোশ্যাল কাম মরাল সায়েন্স থেকে।  

 

আমি আমার ভাবনাটায় একটা ব্রেক দিয়ে চাতকের ন্যায় ভেতরের রুমের দরজায় তাকাতেই দেখি নাদিয়ার আগমন! এক প্লেট ডালের বড়া আর ফুচকা নিয়ে। তিনটে আইটেমের মধ্যে কাকে প্রথমে কাছে টানব ভাবতে ভাবতেই নাদিয়া একটা ফুচকা মুখে ঠেলে দিল! 

 

ক্রমশঃ 

 

#যেকটাদিনপৃথিবীতে

 

যে ক'টা দিন পৃথিবীতে ৷৷ একাদশ পর্ব

 ।। মিফতাহ উদ-দ্বীন।।

।। ১১।। 

 


থায় কথায় সারাটা পথ কেমনে কাটল টেরই পেলাম না যেন!  নাদিয়াদের বাড়ির পথে নামতেই মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল! 

-- সর্বনাশ! 

-- নাদিয়া আর নাসির চাচা দু'জনই চমকালেন! নাদিয়া হাত দিয়ে আমার হাতটা চেপে ধরে ইশারায় বলল, কী হয়েছে? আর নাসির চাচা ও কিছুটা তাজ্জব হলেন! 

-- কী হল চাচা? 

-- মিঠাই!! মিঠাই চাচা, মিঠাই, মিঠাই কিনতে ভুলে গেছি! "জীবনে প্রথমবার শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি, খালি হাতে!" কোটেশনের কথাগুলো মনে মনেই বলছি আর ভাবছি এখান থেকে গাড়ি ঘোরাবো না নাদিয়াকে নামিয়ে দিয়ে কোনও একটা কাজের বাহানা করে মিঠাই আনতে চলে যাব। নাদিয়া আশ্চর্য রকমের চুপ করে আমার দিকে হা করে তাকিয়েই বাইরে তাকিয়ে রইল। নাসির চাচাও ততক্ষণে গাড়ি অফ করে বসে আছেন। নাদিয়ার চুপ করে বাইরে তাকিয়ে থাকা আর নাসির চাচার গাড়ি বন্ধ করে বসে থাকাটা যেন আমায় একটা চরম অসহায় প্রাণীর কাতারে দাঁড় করাল! আমি হতাশার মত এদিক ওদিক দেখতেই চোখে পড়ল সামনের সীটের উপরের কাঁচে নাসির চাচার মুখ টেপা হাসি। আমি এবার নাদিয়ার মুখটা ধরে ফেরাতেই নাদিয়া হেসে দিল। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে নাসির চাচা বললেন, "আরিফ চাচা আসার সময়েই ডিকিতে সব তুলে রেখেছেন!’ আর এদিকে নাদিয়া চুপে চুপে বলেই যাচ্ছে, "মা ঠিকই বলেছেন, এই ছেলেটা ভুলক্কড়। তাই কাল রাতেই আরিফ ভাইকে বলে সব আনিয়ে রেখেছেন!’ 

-- কী লক্কড়?

-- আপনি তো ভুল ধরবেনই! কে কী বলল, কীভাবে বলল, আপনি তো সেগুলো নিয়েই থাকেন! 

নাদিয়ার এই হঠাৎ রেগে যাওয়াটায় আমি তাঁদের দু'জনে মিলে আমায় ‘বকরা' বানানোর ব্যাপারটা না চাইতেও মনে মনে ছেড়ে দিতে হল। 

 

শ্বশুর মশাইয়ের সুখের সীমা নাই যেন! আমাদের দেখে কী করবেন, কোথায় বসাবেন, কেমনে বসাবেন, সে নিয়েই অত্যধিক ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন মনে হল। আমি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করবার ছলে বললাম, "আপনি বসেন আব্বা, আমরা বসছি।’  নাদিয়া গাড়ি থেকে নেমেই ভেতরে হাওয়া হল বুঝা গেল না। আমি নাসির চাচাকে ইশারা করতেই নাসির চাচা ডিকি খুলে মিষ্টির বাক্সগুলো একে একে নামিয়ে এনে রুমে ঢোকালেন। আমাদের দেখে আরেকজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিও দেখলাম এগিয়ে আসতে। আমাদের সাথে মোসাহফা করে সোফার এক কোণায় এসে বসলেন। 

 

-- আমি আলিমের বড় ভাই! মানে তোমার চাচা শ্বশুর! 

আলিমের বড় ভাইয়ের পর একটা পজ ছিল, আর আমার চোখ আর কপালে "হু ইজ আলিম’ প্রশ্নটা একটা হিজিবিজি রেখা আঁকছিল খানিক সময়ের জন্য, সেটা ধরতে পেরেই বোধহয়, পজ দিয়ে পরের অংশটা পুরো করলেন, কে জানে? আমি ভুলেই গেছিলাম আমার শ্বশুরের নাম আলিম উদ্দিন। এবার মনে মনেই রিপিট করলাম, আমার শাশুড়ির নাম ওলিমা বেগম! পরে আবার যাতে কোন খটকায় না পড়ি। 

-- আলিম তো দুই হাজার দুই সালেই বাড়ি ফিরল আমাদের সোনামণিটা কে নিয়ে,  তাঁর আগে এতকাল একা এই বাড়িটায় ছিলাম। পড়াশোনা,  চাকরি বাকরি এমন জিনিস যা মানুষকে তাঁর জন্মভিটা থেকে দূর করে রাখে! এ কেমন ব্যাপার, বল?

আমি এই ইমোশন মেশানো দার্শনিক ব্যাপারটায় কীভাবে নিজেকে উত্থাপন করব ভাবতেই ভাবতেই ভেতর থেকে আপ্যায়নের মিছিল শুরু হল ছোট বড় হরেক সাইজের ট্রেতে করে। 

 

ক্রমশ: 

 

#যেকটাদিনপৃথিবীতে