“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

।। চাই না আমি ।।

         ।। মাসকুরা বেগম ।।


চাই না আমি প্রযুক্তির এমন উন্নতি

যে নির্ধারণ করে আমার লিঙ্গ 

হত্যা করে আমাকে মাতৃগর্ভে 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই নিকৃষ্ট উন্নতি থেকে 

চাই মুক্তি ।

 

চাই না আমি এমন পরিবেশ

যেখানে পাঁচ বছরের আমি

কোনও বিকৃত পুরুষের দ্বারা 

ক্ষত বিক্ষত আমি পড়ে থাকি 

কোনও এক ঝোপের মাঝে লাশ হয়ে ।

 

চাই না আমি এমন শিক্ষাঙ্গন

যেখানে আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবতে হয় 

নিজের সম্মান আর নিরাপত্তা নিয়ে

প্রতিভার চেয়ে যেখানে চেহারার দাম বেশি 

কীভাবে হবে সেখানে সর্বাঙ্গীণ বিকাশ !

 

চাই না আমি এমন স্বাধীনতা

যে স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য

হতে হবে আমাকে অর্ধনগ্ন 

ছাড়তে হবে ঘর, বেরুতে হবে রাস্তায় 

চাই আমি সর্বত্র আমার নিরাপত্তা ।

 

চাই না এমন সভ্যতা

যে সভ্যতার মাঝে গুরুত্ব পায় নগ্নতা

সংস্কৃতির নামে ঠেলে দেয় আমায় রেম্পে 

বিক্রি হয় দেহের সৌন্দর্য, হারিয়ে যায় লজ্জা 

খোলা পিঠ চাপড়ে বলা হয় 

'ইউ আর সো বোল্ড, বেবি'!

 

চাই না আমি এমন আধুনিকতা

যেখানে নেই প্রেমিকার মান-সম্মান

নেই স্বামী-স্ত্রীর প্রেম-ভালোবাসা 

বুঝাপড়া অভাবে হয় 

কথায় কথায় তালাক !

মা হয়ে যদি শেষ ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রম 

চাই না আমি এমন আধুনিকতা ।

 

বিষয় : কবিতা

গুয়াহাটি । আসাম ।

 

 

              

রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

‘বরাকের শালমহুয়া’ এবং পাঠবিষাদ

 


 


 কাজল দেমতা-দির  প্রবন্ধ সংকলনটি পড়লাম। ‘বরাকের শালমহুয়া’। ভাস্কর দাস ও শুভঙ্কর চন্দের সঙ্গে মিলে লেখিকা স্বয়ং প্রচ্ছদ সহ ভেতরের অলঙ্করণে কাজ করেছেন। ভেতরের অলঙ্করণ নিয়ে পরে বলব। প্রচ্ছদটি ছিমছাম। সুন্দর। নিচে যে অচেনা চিহ্ন কিছু দেখছেন--সেই সব অলচিকি হরফ। অলচিকির হরফ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ লেখা থাকলে ভালো লাগত। যদিও একটি প্রবন্ধে এর জন্ম কথা রয়েছে। কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন। নানা সময়ে বিভিন্ন কাগজে লেখা। আদিবাসী শ্রমিক এবং শ্রমিক-জীবনের বাইরের আদিবাসী জীবন, সংস্কৃতি, ভাষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের স্বরূপ ও সংকট নিয়ে লিখেছেন। নানা সময়ে কাগজে লেখা প্রবন্ধ বলে কিছু কিছু পুনরুক্তিও আছে। সে খুবই স্বাভাবিক। আমরা লেখাগুলোর ভেতরে কী আছে লিখতে চাইনা--- বইটি পাঠকে পড়েই জেনে নিন বলে।

প্রবন্ধগুলো পড়তে পড়তে একটি বিষাদে আমার মন ভরে গিয়েছিল। তার একটি কারণ এই --১৯ সংখ্যক প্রবন্ধে আছে--আদিবাসী ছেলেমেয়েদের নিয়ে নাটক করতে গেলে অনেকে লজ্জাতে অনুশীলনে আসে না। সুন্দর সুন্দর স্বপ্নিল নাচগানে ভরপুর হিন্দী সিনেমা দেখানো হয়। কত ভালো লাগে মনটা একেবারে সেঁটে থাকে আর কোথায় সাঁওতালী নাটক! হোক না তা স্বাধীনতার জন্যে সাওঁতাল বীরের কাহিনী! এই যখন অবস্থা--তখন তাঁর এই বই পড়বেন কারা? আদিবাসী পাঠক পড়বেন তো? বাঙালী পড়বেন? --এই প্রশ্ন হয়তো লেখিকার মনে কাজ করে। ফলে আত্মবিশ্বাসের একটি অভাব নজরে না পড়ে থাকে না। অগত্যা কী পরামর্শ দেওয়া দরকার নিজেও ভেবে পাচ্ছি না। তাঁকে চিনি কলেজ জীবন থেকেই। অন্তত নাম তো শুনেইছি। বছর কয় আগে বন্ধু বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে বাড়িও গেছি। বরাক উপত্যকাতে আদিবাসী জীবনের সুখ দুঃখ নিয়ে ভাবেন, কাজ করেন এমন ব্যক্তি এই সমাজ থেকে দ্বিতীয় আছেন বলে আমি অন্তত জানি না। এক দশকের মতো হল তিনি শিক্ষিকা জীবন থেকে অবসর নিয়েও লেগে আছেন। যদি এই সমাজের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু আশার আলো, উদ্দীপনার তেজ ছড়াতে পারেন। 'হামদের বাত' বলে একটি কাগজও প্রকাশ করেন--যদিও অনিয়মিত। এই সব কাজেরই অংশ এই বই। দুটি সাদ্রি ভাষাতে প্রবন্ধ আছে। আমার পড়তে সামান্যও সমস্যা হয় নি। ফলে পরামর্শ থাকবে আগামীতে পুরো একখানা বইই তিনি এই ভাষাতে সাজাবেন। এই বইতেও প্রবন্ধ দুটিই সবার শুরুতে দিয়ে সম্মানের আসনে বসাতে পারতেন। বসান যে নি,সেটিকেই আমি বিশ্বাসের অভাব বলতে চাই।

'উপভাষা','উপজাতি' শব্দগুলো অপমান জনক তিনি লিখেছেন। উচিত ছিল আগাগোড়া নিজেও 'জনজাতি' শব্দটি ব্যবহার করা, আর 'উপভাষা'র বিকল্প শব্দ ব্যবহার করা। করেন নি। আর সাদ্রিকে 'উপভাষা' বলাই কেন? আদিবাসী সমাজের সমস্যাই হচ্ছে যে শুধু সাওঁতালি নয় --প্রায় প্রতিটি ছোটো ছোটো জনগোষ্ঠী আজকাল নিজের নিজের ভাষার স্বীকৃতি দাবী করছেন।  আমাদের বন্ধু দেবব্রত শর্মাও দেখছি সব ভাষার স্বীকৃতির পক্ষে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাতে বাস্তব সমস্যা আছে। পরিকাঠামোগত তো বটেই। তার থেকে ভালো কি নয় একটি প্রমিত' ভাষার পাশে সবার দাঁড়িয়ে যাওয়া? আর প্রমিত ভাষা হিসেবে 'সাদ্রির' দাবী সবার উপরে।  সেখানে সামান্য তফাৎ আছে বলে ছিলোমিলো ভাষার দাবিকেও তুলে ধরলে সমস্যা। এহেন ভাষা বৈচিত্র্য বাংলা হিন্দিতে আরও ব্যাপক। তাই বলে কেউ কেউ সিলেটিকেও স্বতন্ত্র ভাষার দাবি জানান। সিলেটি আর কাছাড়িতে তফাৎ নেই? ঢাকাই চট্টগ্রামীর কী হবে তবে? এই ভাবে এগোতে এগোতে বাংলা বলেও কী থাকবে কিছু? একই কথা 'সাদ্রি' সম্পর্কে। লেখিকার 'সাদ্রি'কে 'উপভাষা' ভাবাই ঠিক হয়নি। নির্দ্বিধাতে একে প্রমিত ভাষা বলে প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা ভালো। এই ভাষাতে এখন সাহিত্যিক সম্পদও ব্যাপক।  এর লিপি অসমে বাংলা বা অসমিয়া হলে সমস্যা নেই। ভারতীয় উপমহাদেশে পাঞ্জাবির মতো ভাষারও গুরুমুখি, আরবি, রোমান---তিনটি হরফ চালু আছে। না থাকলে ভালো ছিল। আছে তো কী করা যাবে? সাদ্রি দেবনাগরিতে লেখারও একটি চাপ অসমের বাইরে রয়েছে। সেখানে থাক, অসমে এত চাপ না নিলেই হল। তা নইলে চা-জনগোষ্ঠী বাগানীভাষা’- এই সব অপবাদ থেকে বেরোনো কঠিন হবে। এই সব জনগোষ্ঠীর নাম হয় বুঝি?  কিন্তু কোনও এক ভাষার পাশে না দাঁড়ালে সেই অপবাদ থাকবেই।

 ‘বরাকের চা-নারীদের অবস্থান ‘ লেখাতে তিনি একটি প্রসঙ্গ ছুঁয়ে গেছেন। (পৃষ্ঠা ৭৫)আমার মতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। এই নিয়ে একটি স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ লেখা থাকা উচিত ছিল। আমার অনুমান এই ঘটনাই আদিবাসীদের চা-বাগানের বন্দি দশার থেকে মুক্ত করে দিচ্ছে। নিছক পাশের গ্রামে ‘প্রাক্তন চা-শ্রমিক’দের দিয়ে এই ঘটনা সম্ভব ছিল না। কারণ তাঁরা চা-বাগিচার অস্থায়ী শ্রমিকের যোগানদার ছিলেন চিরদিন। এখন আরও বাড়ছে এই অস্থায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা ---তিনি নিজেই লিখেছেন। যদি বাড়তেই থাকে তবে বাগান থেকে দূরে নবীন প্রজন্ম চলে যাবেন খুবই স্বাভাবিক। ফলে যাদের পূর্বপুরুষ এককালে  বৃহত্তর ঝাড়খণ্ড এলাকার থেকে অসমে  ত্রিপুরাতে উত্তর বাংলাতে চা বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন---তারা এখন এক উলটো প্রব্রজন শুরু করেছেন। ‘চরগোলা এক্সোডাসে’র শতবর্ষে এই প্রব্রজনের অধ্যয়ন করবেন না? কেন কেউ এখন  এই উল্টোযাত্রাকে আটকাচ্ছে না?

বাকি যে কোনও জনগোষ্ঠীরই মতো আদিবাসী ছেলে-মেয়েরা আবার রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছেন কাজের সন্ধানে। অসংগঠিত ক্ষেত্রে গিয়ে ভিড়ছেন। কী পরিচয় নিয়ে আছেন তারা সেখানে? তাঁদের তো কেউ সেখানে ‘চা-শ্রমিক’ বা ‘বাগানীয়া' বলবেন না। এরই জন্যেই কি  নানান ভাষার নামে চিহ্নিত হবার এত তাগিদ? জানি না। কিন্তু বৌদ্ধিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনে এই পরিঘটনা যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে এটি নিশ্চিত।

‘নবশাখ’ সম্প্রদায়ের মতো কিছু কিছু মানুষের বাঙালিতে মিশে যাবার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, অসমিয়া সমাজে মিশে যাবার প্রবণতা তো ব্রহ্মপুত্রে অনেক ব্যাপক, বরাকে এবং উত্তর বাংলাতে হিন্দিতে মিশে যাবারও প্রবণতা রয়েছে। সম্প্রতি দেখলাম উত্তর বাংলার কিছু সংগঠন হিন্দি মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়াবার দাবি জানাচ্ছেন। এই সব থাকবে। কিন্তু যদি কোনও দৃঢ় বিকল্প দাঁড় করাবার ব্যর্থতা থাকে তবে সবারই তাই হবে। এই সব অসমে বাঙালি সহ আরও বহু জনগোষ্ঠীর রয়েছে। কেবল আদিবাসীদেরই নেই। তাই সাদ্রি না ছিলোমিলো এই দ্বিধার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এক জায়গাতে লেখা আছে ‘১৮৬৩ সন থেকে পশ্চিম বঙ্গ, উড়িশা, শিলচর, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এবং অন্ধ্র প্রদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি শুরু হয়’ (পৃঃ ১৬) এই বাক্যে ‘শিলচর’ কেন? ছাপাখানার ভূত? এরকম বেশ কিছু জায়গাতে আছে/ শুরুতে উদ্ধার কথা অংশেও দেখুন বাক্য গঠনে সমস্যা আছে। আমি বুঝি, বাইরে ভেতরে কোন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে তিনি লিখছেন। কিন্তু যুদ্ধ জয়ের স্বার্থেই এই সব ভ্রান্তির বাইরে বেরোতে হবে। নইলে বাঙালি পাঠকও ব্যক্তিগতভাবে যারা তাঁকে চেনেন না, বইটি সিরিয়াসলি নেবেন না। এর থেকে সপ্তম ও অষ্টম প্রবন্ধের শিরোনাম—যথাক্রমে ‘ ‘দুদিন সাংস্কৃতিক পরবে হামদের সপোন সময় যাপন’ এবং ‘আন্ধা বিশোয়াস’ পড়তে কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে? কোনও বাঙালির? আর আদিবাসী কারও তো সমস্যা হবারই কথা নয়। তবে এই ভাষাটাই হোক না আত্মপ্রত্যয় প্রতিষ্ঠার ভাষা? সেখানে এখনই কেউ ভাষার ভুলভাল নিয়ে বেশি প্রশ্ন তুলবেন না। আর তুললে ভালোই। ভাষা চিন্তা এগোবে। ভাষা কেবল ‘শুদ্ধ’ করে লেখাই সবটা নয়, তাঁকে সুন্দর করে তোলাও একটা কাজ। বেশি বেশি ব্যবহারেই এটি সম্ভব। তাও লেখাতে। মৌখিক ভাষার বিশেষ মর্যাদা নেই। লিখিত ভাষার কদর যত।

 প্রতিটি প্রবন্ধের নিচে কোন পত্রিকাতে কবে প্রকাশিত হয়েছে সেই সব উল্লেখ আছে। তাতে লেখিকা হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠাটি বুঝতে সুবিধে হয়। তাই বলে নিজের বইতে ‘লেখিকা আসামের বাসিন্দা ও আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী’ –লেখা কেন? এই অংশ বাদ দিলেই ভালো হত।

নিজের সম্পাদিত ‘হামদের বাত’ বাদ দিলে এর সব কটিই বাংলা পত্রিকা। বাংলা পত্রিকার থেকে পাওয়া এই সম্মান অভিনন্দন যোগ্য। বাংলা কাগজগুলো যদি আদিবাসীদের মধ্যেও গিয়ে পৌঁছচ্ছে তবে কোনও প্রশ্ন নেই। কিছু কিছু তো গেছেই। যেমন মর্লি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্মরণিকা ‘শালবনী’ পৌঁছুবেই –এই নিয়ে প্রশ্ন নেই। বা মার্চ ২০১৮-তে কলকাতার থেকে প্রকাশিত তাঁর লেখা প্রকাশ করেছে ‘অন্য নারী’ নামে যে পত্রিকা—সেটিও পৌঁছেই থাকবে। এর আগের বছরে নবনীতা দেবসেন ‘ভূমিকন্যা’ নামে সইমেলাতে যখন তাঁকে ডাকেন সেই প্রক্রিয়াতে পরোক্ষে আমারও কিছু সংযোগ ছিল। জানতাম তাঁকে কেন ডাকা হচ্ছে। এর পরেই এই লেখা। নিশ্চয় সেটিও গেছে। দেওয়ান বাগানের ‘শিল্পী সংসদ’ দীর্ঘদিন আদিবাসী ও বাঙালি উভয় সমাজে সাংস্কৃতিক বোধের বিকাশে ভালো কাজ করেছেন আমরা জানি। তাদের কাগজ ‘স্রোতস্বিনী’ও নিশ্চয় পৌঁছত আদিবাসী পাঠকের কাছে। ‘আমাদের সমকাল’ পৌঁছেই থাকে। ‘প্রবাহ’ সম্প্রতি একটি আদিবাসী সংখ্যা করেছে। কাজল দেমতার লেখা ছাড়া সেই সংখ্যা সম্পূর্ণ হতেই পারত না। সেই সব ঠিকই আছে। কিন্তু ‘সাদ্রি’ পত্রিকার সংখ্যা বাড়ুক নিশ্চয় লেখিকা স্বপ্ন দেখেন, আমরাও দেখি।  কীভাবে কী করতে হবে আমরা বলব না। বলা যত সহজ করা তত কঠিন না। সে কাজল দেমতাই ভালো জানেন।

        কিন্তু ভেবে দেখুন তো আজকের দিনে আমি এই আলোচনা যখন লিখছি তিনসুকিয়ার থেকে কাজল দেমতা দিনের মধ্যেই তা পড়ে ফেলবেন উধারবন্ধ থেকে। ছাপা কাগজের হ্যাপার থেকে এই কাজ এখন অনেক সহজ। হোক না সেই কাজ আন্তর্জালেই/ ব্লগে হোক। লিখে হোক। বলে হোক। ভিডিও পোর্টাল তো হতেই পারে। কম করে হলেও এই সব কাজ পশ্চিম বাংলা ঝাড়খণ্ডে হচ্ছেই। ভোজপুরির মতো যদিও নাচে গানের ভিড় অনেক। ভোজপুরি গানের মতোই তারও অধিকাংশের প্রবণতা খুব স্বাস্থ্যকরও না। বলিউডের মতো হয়ে উঠবার ঝোঁক ব্যাপক। তবু এই পথ তো ধরা যেতেই পারে। খানিক প্রায়োগিক কাজ নিজেরা শিখে নিতে হবে শুধু।

যত বই পত্রিকা আমার হাতে আসে সব বই পত্রিকা নিয়ে আমি লিখি না। এই বই নিয়ে লিখতে ইচ্ছে হল ভালো মন্দ এই সব ভাবনা পৌঁছে দেবার জন্যেই। মনে হল এই বই নিয়ে উদাসীন থাকা অপরাধ হত।

                                                   📞📞📞📞📞☎☎☎📞📞📞📞📞

 লেখিকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে এখানে টিপুন।

অথবা ফোন করুন 📲📲  9954160344

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২

ধনেশ পাখির পালক

       

     (মনিপুরি লোককথা) 

।।  সুব্রতা   মজুমদার ।।

নেক আগের কথা একটি গ্রামে হাইয়াইনু নামে একটি মেয়ে ছিল। মেয়েটি তার বাবার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিল, বাবাও তাকে খুব আদর যত্ন করত কিন্তু সৎ মায়ের তা মোটেই পছন্দ হত না। একসময় হাইয়াইনুর বাবাকে গ্রামের বাইরে অনেক দূরে কাজে যেতে হয় বেশি টাকা উপার্জনের জন্য। যাবার সময় স্ত্রীকে বলে যায় মেয়ের খেয়াল রাখতে। বাবা চলে যেতেই সৎমা হাইয়াইনুকে আদেশ দেয় পুকুরপার থেকে কলমি শাক নিয়ে আসতে। মেয়েটি সৎ মায়ের কোনো কথা অমান্য করে না, সে রওয়ানা হয়। সৎমা আবার বলে ছোট ছোট কিছু মাছও ধরে নিয়ে আসতে যাতে তা বাজারে বিক্রি করা যায়। মাছ আর শাক নিয়ে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই আবার কলস দিয়ে বলে জল আনতে পাঠায়একটার উপর একটা  কাজ সমঝে দেয় মেয়েকে। মেয়েটি সবসময়ই তার সৎমাকে খুব মান্য করে, কিন্তু সৎমা তার প্রতি নিষ্ঠুরই হয় দিন দিনসারাদিন পরিশ্রম করে মেয়েটি বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলেই সৎমা তাকে গালাগাল করে এবং লাঠিপেটা করতেও দ্বিধা  দ্বিধা করে না।

বাবার অনুপস্থিতিতে দিন এরকমই চলতে লাগল আর সৎমাও হাইয়াইনুর প্রতি নিষ্ঠুর থেকে আরও নিষ্ঠুর হতে থাকে। হাইয়াইনুও দৈহিক আর মানসিক যন্ত্রণা পেতে পেতে দুঃখী আর নিঃস্ব হতে থাকে দিন দিন। একদিন হাইয়াইনু যখন তার বন্ধুদের সাথে নদীতে চুলে চাল আর ডালের জলে তৈরি পরম্পরাগত ‘চেঙহী’ দিয়ে স্নান করতে ব্যস্ত তখন সৎমা দুপুরের খাবার খেয়ে ভাত ঘুমে, হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখে কিছু গরু এসে তাদের বাগানে ঢুকে গেছে। সৎমা ভাবল এটা হাইয়াইনুর অবহেলার জন্যই হয়েছে। হাইয়াইনু বাড়ি ফেরার পর সৎমা তাকে বকাবকির পর মারতে শুরু করে। হাইয়াইনুর সৎ ভাইয়ের তা দেখে দিদির জন্য কষ্ট হয় সে তার দিদিকে খুব ভালবাসত, কিন্তু সেও তখন অসহায় কিছুই করতে পারে না দিদির জন্য। হাইয়াইনু তার বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করুক, খেলা করুক কোনো সামজিক অনুষ্ঠানে যাক তা তার সৎমার একদম পছন্দ ছিল না, তাই তার বন্ধুরা যখন এসে তাকে প্রলোভিত করে ‘লাইহরাওবা’ অনুষ্ঠানে যেতে সে রাজি হয় ঠিকই কিন্তু বন্ধুদের বলে তাকে এসে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে। সৎমা তাদের কথাগুলো লুকিয়ে শুনে নেয় এবং হাইয়াইনু সব জামা কাপড় গয়না লুকিয়ে রেখে দেয় আর হাইয়াইনুর চুল ধরে মারধর করে ।

সৎমা কোনো সময়েই মেয়েটিকে অবসর বসে থাকতে দেখতে পারত না বরাবরই কোনো না কোনো কাজ সমঝে দেয়কাজ করতে করতে কোনো কারণে যদি ভুল হয়ে যায় তাহলে মেয়েটিকে তো মারধর করতই এমনকি মেয়েটির মৃত মাকেও গালাগালি দিত। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটির বাবা মেয়েটির সঙ্গে থাকত মেয়েটি নিরাপদে থাকত, বাবা কাজে বেরোলেই শুরু হত সৎমায়ের অত্যাচার। মেয়েটির তখন তার বাবার কথা খুব মনে পড়তে থাকে, সে ভাবে বাবা কবে বাড়ি ফিরবে! তার মা যদি বেঁচে থাকত! তাহলে তো সে কত যত্নে থাকত! পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো এসে মেয়েটির মুখে পড়তে চোখের জল চিকচিক করে ওঠে। বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে দেখতে মেয়েটি অনেককিছু ভাবতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে মেয়েটি খুব দুঃখী হয়ে পড়ে। ঘরে তখন তার সৎমা ছোটভাইকে নিয়ে পালঙ্কে ঘুমিয়ে আছে। সে ঘরে ঢোকে মাটিতে করে রাখা তার বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে সে তার মৃত মা কে স্বপ্নে দেখেমা বলে,

--- ও হাইয়াইনু, আমার কন্যা! আমি তোকে এভাবে দুঃখী দেখতে পারছি না মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তোর যন্ত্রণা দেখে। এইসব মানুষদের মাঝখানে থাকতে না পারলে এখানে চলে আয় মা, ধনেশ পাখির দলে ধনেশ পাখি হয়েতুই যে নদীতে যাস সেখানে দেখবি প্রতিদিন ধনেশ পাখির একটি দল আসে। তুই দেখিস তাদের অনুরোধ করে রোজ তোর জন্য কিছু পালক ফেলে যাওয়ার জন্য। তুই সেই পালকগুলো এক জায়গায় জমাতে থাকিস, সেলাই করে নিস তোর জামার সঙ্গে এবং চেষ্টা করিস উড়ে আসার, ধনেশ পাখিদের এই সুন্দর পৃথিবীতে চলে আয়, আমাকেও পাবি তুই এখানে

ঘুম ভাঙতেই হাইয়াইনু দৌড়তে দৌড়তে নদীতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে সত্যি সেখানে কিছু ধনেশ পাখির দল ওড়াউড়ি করছে। পাখিদের দেখে মেয়েটিরও ইচ্ছে করে সব দুঃখ কষ্ট থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাদের মতো তাদের দলের হয়ে এরকম উন্মুক্ত আকাশে উড়ে যাওয়ার। সে তাদের ডাকতে থাকে,

--- “ও ধনেশ পাখি আমার উপর কৃপা করো! আমি আর আমার সৎমায়ের অত্যাচার সইতে পারছি না।”

ধনেশ পাখিরা সবাই একসাথে উত্তর দেয়,

--- বলো বলো মেয়ে কী হয়েছে?

--- আমি তোমাদের সঙ্গে উড়ে যেতে যাই। আমাকে নিয়ে যাও তোমাদের সঙ্গে।

--- তুমি পারবে না, পারবে না আমাদের মতো উড়তে, তোমার ডানা নেই, ডানা নেই।

চোখের জল মুছতে মুছতে হাইয়াইনু বলে,---

--- পারব, পারব। তোমরা আমাকে সাহায্য কর উড়তে। আমি এই দুখ দুর্দশা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, উড়ে যেতে চাই খোলা আকাশে, ঠিক তোমাদের মতো। দয়া করে আমাকে তোমরা তোমাদের দলে যুক্ত করো।

ধনেশ পাখির দল উত্তর দেয়, 

--- আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। বলো কী করে তোমায় আমরা সাহায্য করব?

--- তোমরা কী প্রতিদিন তোমাদের একটি করে পালক দেবে আমাকে? ঝুড়ি ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি জমাব। ঝুড়ি ভরে গেলেই ডানা মেলে আমি উড়ে চলে আসব তোমাদের কাছে!

হাইয়াইনুর কথা শুনে ধনেশ পাখিদের খুব দুঃখ বোধ হয় এবং তারা সম্মতি জানায়,

--- আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে!

        ধনেশ পাখিরা তাদের কথা মতোই রোজ একটা করে পালক ফেলে যায় মাটিতে। হাইয়াইনু তা জড়ো করতে থাকে একটা ঝুড়িতে। ঝুড়ি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে যাতে তার সৎমা তা দেখতে না পায়। এরকম পালক কুড়িয়ে জমাতে জমাতে একদিন হাইয়াইনু দেখল তার ঝুড়ি ভর্তি হয়ে গেছে, তখন সে সেই পালকগুলোকে সেলাই করে ডানা বানাতে লাগল। ছোটভাই দরজার আড়াল থেকে দেখে নেয় দিদিকে পালক সেলাই করতে, সামনে এসে জিজ্ঞেস করে,

--- এগুলো দিয়ে কী করবে দিদি?

--- আমি উড়ে যাব ধনেশ হয়ে। এখানে আর থাকতে ভালো লাগছে না রে ভাই

--- আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না দিদি!

বলে দিদিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে ছোটভাই। হাইয়াইনুও পালক সেলাই ছেড়ে ছোটভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে, ও ভাই!

পালক সেলাই শেষ হলে হাইয়াইনু ধনেশ পাখিদের দেখে এবং তাদের ডেকে বলে তাকে উড়ে যেতে সাহায্য করার জন্য। ধনেশ পাখিরাও সাহায্য করে। অতপর মেয়েটিও ডানা মেলে পাখি হয়ে উড়ে যায় আকাশে, মিশে যায় ধনেশ পাখির দলের সাথে। পাশে অসহায় ভাই শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই দেখতে থাকে তার দিদির আকাশে উড়ে যাওয়া। ছোটভাই দৌড়ে গিয়ে মাকে জানায় কথাটি, মা শুনে শুধু একটি কথাই বলে,

--- ভালো হেয়ালি!

কিছুদিন পর হাইয়াইনুর বাবা তার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসে মেয়ের জন্য অনেকগুলো জামাকাপড়, অলঙ্কার এবং কিছু ফলমূল নিয়ে; কিন্তু মেয়েকে বাড়িতে কোথাও দেখতে পায় না। খুঁজতে থাকে এদিক ওদিক। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে স্ত্রী কিছু উত্তর করে না। তখন ছেলেটি আসে তার বাবার কাছে এবং বলে যে কী করে তার দিদি হাইয়াইনু ধনেশ পাখিদের সাথে উড়ে গেছে আর সে কোনোদিন তাদের মধ্যে ফিরে আসবে না। ছেলের কথা শুনে হাইয়াইনুর বাবা হাইয়াইনুর সৎমাকে গালাগাল দেয় যে তার অত্যাচারের জন্যই আজ তাদের মেয়ে এরকম দূরে চলে গেছে। সৎমাও তার কর্মের জন্য ভেতর ভেতর অনুতপ্ত হতে থাকে।

 মেয়েকে এভাবে হারিয়ে হাইয়াইনুর বাবা অত্যন্ত দুঃখী হয়ে পড়ে। খাওয়া ঘুম ছেড়ে দেয় প্রায়। রোজই উঠোনে দাঁড়িয়ে মেয়েকে ডাকতে থাকে,

---‘ও হাইয়াইনু! হাইয়াইনু! প্রিয় মামনি! দ্যাখ আমি তোর জন্য কী কী এনেছি! বাবার কাছে ফিরে আয় মা! দেখ তোর জন্য যে কত কাপড় চোপড় গয়না এনেছি কে পরবে ওগুলো! আমার কষ্ট হচ্ছে মা তোকে ছেড়ে থাকতে!

প্রতিদিন এরকম কাঁদতে কাঁদতে একদিন হাইয়াইনুর বাবা দেখতে পেল যে তাদের বাড়ির উঠোনের উপর দিয়ে একঝাঁক ধনেশ পাখি উড়ে যাচ্ছে এবং সেই দলে তার মেয়ে হাইয়াইনুও আছে। সে মেয়েকে ডেকে ঘরের ভেতর থেকে এক থালা ভাত এনে দিল এবং বলল তার মেয়েকে খেয়ে যেতে। হাইয়াইনু এসে বাবার পাশে দাঁড়ায়, কেঁদে বলে,

--- “বাবাগো, আমাকে ক্ষমা করে দিও, তোমার অসহায় কন্যা তোমার বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষাও করতে পারে নি। আমি আর মানুষের মাঝখানে বসবাস করতে পারছিলাম না। এখন তোমার দেয়া এই খাবারও আমি খেতে পারব না বাবা, আমি এখন ধনেশ পাখিদের দলের একজন, আমার খাওয়া অন্য। আমি অনেক সুখে আছি এখন ওদের সঙ্গে। আমার মাও আছে আমার সঙ্গে। দয়া করে ক্ষমা করে দিও তোমার অবোধ শিশুকে। বিদায় বাবা!

যেতে যেতে আবার দাঁড়িয়ে বলে,

--- আর হ্যাঁ বাবা, এই জন্মে আর হবে না, পরের জন্মে আমাদের দেখা হবে আবার। তোমার মেয়ে হয়েই ফিরে আসব। ভাইয়ের খেয়াল রাখবে, যত্নে রাখবে ওকে। আর মামনিকেও ক্ষমা করে দিও। কেঁদো না বাবা! তুমি যখনই ‘লাইহরাওবা’ অনুষ্ঠানে যাবে তুমি যেখানে বসবে ঠিক তার পাশের বসার জায়গাটা আমার জন্য খালি রেখে দিও, আমি ঠিক এসে বসব কিন্তু!

হাইয়াইনুর সব পাখি বন্ধুরা তাকে ডাকতে শুরু করে যে দেরি হয়ে যাচ্ছে ফিরে যাওয়ার জন্য। হাইয়াইনু তাই এইটুকু বলেই বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার পাখি বন্ধুদের সাথে সোনালী আকাশে উড়ে যায়! হাইয়াইনুর বাবাও সেই আশা নিয়েই বাঁচতে থাকে তার মেয়ে হাইয়াইনু কোনো একদিন কোনো একজন্মে আবার ফিরে আসবে তার বাবার কাছে!

 

 

*****

 

  

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

অশনিসংকেত !

 
              ।। আ, ফ, ম, ইকবাল॥ 
(C)Image:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আকাঙ্ক্ষার আকাশ অসীম,  
হরিণ অভিলাষে মত্ত জীবন  
নতুন নতুন আশা  
নতুন দৃষ্টান্ত তৈরির অনন্ত কসরত  
বাসনা বিলাস-   
আকাশ পর্যন্ত ফুলে উঠুক আমাদের পরিচয় ! 
এ কোন অদ্ভুত তন্ময়তা !

পরিপক্কতার শৃঙ্খলে জড়ানো  
সময় যত এগোচ্ছে  
দায়িত্ব আঁকড়ে ধরছে.. আস্টেপিস্টে 
শঙ্কা- কখন আদর্শ হয় ভূপাতিত   
আটকে যায় জড়তার জালে  
স্বার্থপরতা আর দাম্ভিকতার  
খোদাই করা মিছা আদলে !

ধমনী ও শিরা অবশ হয়ে আসে ক্রমশ  
তবু চলতে থাকি একই পথে 
ভাবলেশহীন নিরুদ্দেশ !

মাঝে মাঝে স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকি   
সমাজের ক্লেদাক্ত ভাষায়  
কথা বলতে শুরু করি..  
শঙ্কা হয়- 
হ্যাঁ, সেই আশঙ্কা- 
জানিনা কখন আদর্শ বিভক্ত হয়ে পড়ি !  
                           ০৮-০১-২০২২। 
                  হাফলং, ডিমা হাসাও।

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

অদ্ভুত


 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

(C)IMAGE:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
]
 
 
 
 
 
 
 
বিচিত্র জীবনের 
বিচিত্র স্বাদ! 
খাঁজে খাঁজে লুকোনো
অদ্ভুত ফাঁদ!

সৌভাগ্য, সাথী অদৃশ্য 
কেবল বিমুখী জবাব! 
বুদ্ধি নয়কো লোহা তবু 
ঝংকারে মর্চা রবাব!

বিদেহী মর্যাদাবোধের
আঘাতই অনুভাব! 
মানুষ আবহাওয়া নয়
তবু বদলই  স্বভাব!

ধন্য জীবন! শান্তি খোঁজে, 
অশান্তি মূলত অজ্ঞাত নিজে! 
মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়ী সচেষ্টা
আনন্দমার্গী উদ্বুদ্ধ! অদ্ভুত তেষ্টা।
  
         **********